• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
ads
অগ্রিম টিকেট বিক্রির শেষ দিনেও রেলস্টেশনে ভিড়

ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির শেষ দিনে ট্রেন স্টেশনে ভিড়

সংগৃহীত ছবি

যোগাযোগ

অগ্রিম টিকেট বিক্রির শেষ দিনেও রেলস্টেশনে ভিড়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৩ আগস্ট ২০১৮

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গতকাল রোববার ছিল ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির শেষ দিন। এ দিন ২১ আগস্টের টিকেট নিতে আসা যাত্রীদের ভিড়ে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একই অবস্থা ছিল চট্টগ্রামেও। তবে বাস কাউন্টারগুলোর চিত্র ছিল অন্য রকম। আগেই টিকেট বিক্রি হওয়ায় এ দিন ছিল না যাত্রীদের আনাগোনা।

এ দিন কমলাপুর স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে টিকেটপ্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। অনেকে ২২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকেট পাননি বলে বাংলাদেশের খবরের কাছে অভিযোগ করেন। সকাল ৮টায় টিকেট বিক্রি শুরু হলেও শনিবার বিকাল থেকেই অনেকে সারিতে দাঁড়ান। রোববার ভোর হতে না হতেই মানুষের সারি স্টেশনের বাইরে চলে যায়। সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোর কাউন্টারের সামনে। ১৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টিকেট না পাওয়ার কারণ বুঝতে পারেননি খুলনার যাত্রী আনোয়ার হোসেন। স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষে গিয়েও সদুত্তর পাননি। জানানো হয়, ‘টিকেট শেষ। কিছুই করার নেই।’ হাজারো মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে না পেলেও অনেকে ‘লাইন ভেঙে’ টিকেট নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন টিকেটপ্রত্যাশীরা। তাদের অভিযোগ, রেল পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইউনিফর্মধারী সদস্যরা এ কাজটি করছেন। অথচ পুরো স্টেশন এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কালোবাজারে টিকেট বিক্রি প্রতিরোধে ছিল র্যাব, পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও আনসার বাহিনী। অপরাধীদের তাৎক্ষণিক সাজা দিতে পরিচালনা করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গত শনিবার সার্ভারে ত্রুটির কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রামে রেল স্টেশনে আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হয়। কমলাপুরে টিকেট কাটার জন্য ২৬টি কাউন্টার খোলা হয়েছে, তার মধ্যে দুটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত। তবে বুথের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

রেলওয়ে জানায়, এবারো মোট টিকেটের ৬৫ শতাংশ দেওয়া হয় কাউন্টার থেকে। ৩০ শতাংশ অনলাইন ও মোবাইলে। বাকি ৫ শতাংশ ভিআইপি ছাড়াও রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ। গত ৮ আগস্ট প্রথম দিনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়। আগামী ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে ফিরতি আগাম টিকেট বিক্রি। ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার প্রতিদিন কমলাপুর থেকে ৬৬টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৩২টি আন্তঃনগর, বাকিগুলো মেইল ও স্পেশাল সার্ভিস।

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে গত ৫ আগস্ট। রোববার অগ্রিম টিকেট বিক্রির শেষ দিনে ফাঁকা দেখা গেছে কল্যাণপুর ও গাবতলীর অধিকাংশ বাস কাউন্টার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সব রুটের বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শেষ। এসি/নন এসি কোনো টিকেট নেই। অগ্রিম টিকেট বিক্রির শেষ দিনে তাই কাউন্টারে ভিড় নেই।

তবে এক রকম ভাগ্যগুণে দু-চারটি টিকেট কিনতে পেরেছেন কিছু যাত্রী। এ রকমই একজন গাইবান্ধা রুটের যাত্রী রোকেয়া সরকার। কল্যাণপুরের হানিফ পরিবহনের টিকেট বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান জানান, কিছু যাত্রী ২-৩টি করে টিকেট কিনেছেন, কেউ কেউ বুকিংও দিয়েছিলেন। তাদেরই মধ্যে এক যাত্রী টিকেট ফেরত দেওয়ায় এই নারী যাত্রীর ভাগ্য খুলে যায়।

রোববার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন দেখা গেছে, কল্যাণপুর ও গাবতলী এলাকার শ্যামলী, হানিফ, ডিপজল, এসআর, ন্যাশনাল, দেশ ট্রাভেলস্, নাবিল, সোনিয়া, আগমনী পরিবহনের কাউন্টার ফাঁকা। কল্যাণপুর শ্যামলী কাউন্টারের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন জানান, এবার শ্যামলী পরিবহনের টিকেট বিক্রি হচ্ছে কল্যাণপুরে, শ্যামলী ও আসাদগেট কাউন্টার থেকে। সব রুটের সব দিনের পর্যাপ্ত টিকেট ছিল। বিক্রি শেষ, এখন চলছে হিসাব-নিকাশ।

এসআর ট্রাভেলসের ম্যানেজার মো. আমিন নবী জানান, কাউন্টারের পাশাপাশি সহজের মাধ্যমে টিকেট অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে। বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় যাত্রীদের সবাইকে টিকেট দেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads