• মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ৫ চৈত্র ১৪২৪
ads
২৩ সেতু ও ফেনীতে রেল ওভারপাস চালু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সংরক্ষিত ছবি

যোগাযোগ

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারে কমবে পথের বিড়ম্বনা

২৩ সেতু ও ফেনীতে রেল ওভারপাস চালু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৫ আগস্ট ২০১৮

উত্তরবঙ্গে যেতে গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার নাম শুনলেই যারা এতদিন ভয়ে শিউরে উঠতেন, তারা আসন্ন ঈদে মহা আনন্দে স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। একই সঙ্গে যারা চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় ফেনীতে দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকতেন তাদেরও যাত্রাপথ এবার ঝামেলাহীন হবে।

জাতীয় শোক দিবস শুরু হওয়ার প্রায় ১৩ ঘণ্টা আগে সব দুঃখ-কষ্ট চেপে রেখে দেশবাসীর জন্য আনন্দের এ ক্ষেত্র তৈরি করে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার গণভবন থেকে বিকাল ৪টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গায় চার লেনের মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ২৩টি সেতু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনী জেলার ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধন করেন তিনি। এই ২৩টি সেতু ও ওভারপাস সেপ্টেম্বর মাসে উদ্বোধনের কথা বলেছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে প্রধানমন্ত্রী বিলম্ব চাননি। বলেন, আমার সব সময় মনে হয় এদেশের মানুষের ভালোর জন্য যদি একটি ছোট কাজও করতে পারি, তাহলে আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে। তিনি জানতে পারবেন, এটা আমার উপলব্ধি।

উদ্বোধনের পর জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের আওতায় ২৩টি ব্রিজের ওপর দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ। এরই মধ্যে ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ব্রিজগুলোর কাজ আগে শেষ হওয়ায় এগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীনে এ কাজগুলো সম্পন্ন হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ভিডিওচিত্র তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

সড়ক যোগাযোগ আধুনিক করতে ভবিষ্যতে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-দিনাজপুর পর্যন্ত আমরা দ্রুতগামী বুলেট ট্রেন করে দেব। এখন আধুনিক অনেক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলছি। যেসব মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে, সেগুলোর পাশে আলাদা সার্ভিস লেন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাইওয়েতে দ্রুতযান চলবে। স্থানীয় জনগণ যাতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে পারে আমরা সেই পরিকল্পনা নিয়ে চার লেনের পাশে আলাদা লেন করছি, যাতে স্থানীয় যানবাহন চলাচল করতে পারে। রেললাইনের ওপরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস করে দিচ্ছি। এই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি দ্বার উন্মোচিত হলো বলেও মনে করেন শেখ হাসিনা। আর এই ধারা তিনি আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। বলেন, জাতির পিতা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বলেছিলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উপআঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তুলবেন। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।

বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন তাঁকে হত্যার বিষয়টি। বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয়ী জাতি। কিন্তু পরাজিত শত্রুরা কখনই বসে থাকেনি। তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে। যখন তারা দেখতে পেল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের মানুষের অর্থনীতির পরিবর্তন হচ্ছে, তখনই তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আঘাত হানল। দেশের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করল, একটি পরিবারকে শেষ করে দিল। তারা আমার ১০ বছর বয়সী ছোট ভাইকেও হত্যা করল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এ রক্তের কেউ যাতে নেতৃত্বে আর না আসতে পারে। একটা দিনে আমি আর আমার ছোট বোন (শেখ রেহানা) সব হারালাম। মা, বাবা, ভাই নাই, আমরা এতিম হয়ে গেলাম। আমাদের ঘর নাই, বাড়ি নাই। ছয়টি বছর দেশে আসতে পারি নাই। আওয়ামী লীগ আমার অনুপস্থিতিতে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। অনেক বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে দেশে আসি, কিন্তু আমাকে ৩২ নম্বরের বাড়ি ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ওই ভবনে গিয়ে দোয়া করার অধিকার আমার ছিল না। হত্যাকারীদের বিচার না করে ইনডেমনিটি দিয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। আমি রিক্ত, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেছিলাম। দেশে এসে সারা দেশ ঘুরেছি, পেয়েছি মানুষের ভালোবাসা। আর আমাদের অগণিত কর্মীর সহযোগিতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়। আমার চলার পথ কখনো সহজ নয়, আমি জানি। বার বার আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল, কিন্তু আমি পিছিয়ে যাইনি। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা করা দরকার তাই করে যাচ্ছি।

 

 

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads