• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
দুই রোহিঙ্গা শিশুর পেটে ৫ হাজার ইয়াবা, আটক ৬

দুই রোহিঙ্গা শিশুর পেটে ৫ হাজার ইয়াবা, আটক ৬

প্রতীকী ছবি

অপরাধ

দুই রোহিঙ্গা শিশুর পেটে ৫ হাজার ইয়াবা, আটক ৬

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ মে ২০১৮

রাজধানীতে ইয়াবা পাচারের সময় দুই রোহিঙ্গা শিশুসহ ছয়জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুই শিশুর পেটের ভেতরে স্কচটেপ দিয়ে বিশেষভাবে আনা ৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গত রোববার রাতে দক্ষিণখানের একটি বাসায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে এমনই একটি চালান ধরা পড়ে। ১০-১২ বছর বয়সী শিশু দুটি টাকার বিনিময়ে আগেও একাধিক চালান ঢাকায় নিয়ে এসেছে। ইয়াবা বড়ি গেলা থেকে শুরু করে বের করার পুরো প্রক্রিয়াটিই যন্ত্রণাদায়ক বলে জানিয়েছে আটক দুই শিশু।

গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অভিনব এ পদ্ধতির কথা জানান ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রোববার রাতে দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে ছয়জনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা শিশু। তারা পাকস্থলীতে ইয়াবা বহন করে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নিয়ে আসত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মামুন শেখ জানায়, সে এবং তার সহযোগী রেজওয়ান দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কৌশলে ইয়াবা পাচার করে আসছিল। রেজওয়ান কক্সবাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাত এবং সে (মামুন শেখ) ঢাকায় সে বড়ি সরবরাহ করত।

দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, রেজওয়ান মাদক মামলার পলাতক আসামি। তার সঙ্গেই আটক দুই রোহিঙ্গা শিশুর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে রেজওয়ান উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের দুই শিশুকে টাকার বিনিময়ে এভাবে পাকস্থলীতে করে ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে আসার প্রস্তাব দেয়। এতে দুই শিশু রাজি হলে রেজওয়ান ৫০টি করে ইয়াবা বড়ি স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ক্যাপসুলের মতো তৈরি করে। এ রকম ৭০টি ক্যাপসুল একটি শিশুকে এবং ৩০টি ক্যাপসুল অন্য একটি শিশুকে পানি দিয়ে গেলায়। এরপর বাস বা ট্রেনে দুই শিশুকে নিয়ে আসা হয় রাজধানীতে। এভাবে বাসে তিন থেকে চারটি চালান আনা হয়।

মামুন শেখ পুলিশকে জানায়, ইয়াবার চালান আনার সময় যাত্রাপথে শিশুদের কোনো খাবার বা পানি পান করতে দেওয়া হতো না। ঢাকায় আসার পর বিশেষ ওষুধ সেবন করিয়ে পাকস্থলী থেকে পায়ুপথ দিয়ে বের করে আনা হতো ইয়াবা। প্রতি চালানের জন্য এক শিশুকে ১৫ হাজার এবং অন্যজনকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হতো। আর এ ইয়াবা রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করত ধরা পড়া চারজন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads