• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
ads
শিক্ষকের লালসায় মা হলেন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী

শিক্ষকের লালসায় মা হলেন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী

প্রতীকী ছবি

অপরাধ

নাগেশ্বরীর ডোবায় নবজাতক রহস্য উন্মোচন

শিক্ষকের লালসায় মা হলেন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী

  • নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১১ অক্টোবর ২০১৮

আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি লাভলু মাষ্টারের বাড়িতে ঝি’র কাজ করি। লাভলু মাষ্টারের স্ত্রী বাড়িতে থাকে না। একদিন কাজে গেলে লাভলু মাষ্টার তার ঘরে ডেকে নিয়ে বিছানা ঠিক করতে বলে। আমি বিছানা ঠিক করতে গেলে সে আমাকে জোর করে ধর্ষণ করে। এ কথা কাউকে বললে আমাকে ফেলার ভয় দেখায়। পরে আমি গর্ভবতী হয়ে পড়ি। ৬মাস পেরিয়ে গেলে বিষয়টি আমার দাদীকে জানাই। পরে লাভলু মাষ্টার আমাকে এবং দাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার গর্ভপাত ঘটায়। কেঁদে কেঁদে এ কথাগুলোই বলছিলো অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া কুমারী মাতা।

ঘটনাটির শিকার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার বলদিয়া ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে শাহিবাজার বালিকা বিদ্যালয়ের উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আশা (১৩) (ছদ্ম নাম)। শিক্ষকের লালসার শিকার ওই শিক্ষার্থী গর্ভপাতের পর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এদিকে প্রভাবশালীদের ভয়ে বাড়ি ছেড়েছে পুরো পরিবার।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গেল মঙ্গলবার দুপুরে কচাকাটা ইউনিয়নের সরকারটারী গ্রামের জননী ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের মালিক পল্লী চিকিৎসক শহিদুল ইসলামের বাড়ির পাশের ডোবায় একটি ছেলে নবজাতক উদ্ধারের পর। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ওই দিন পুলিশ জননী ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের মালিক শহিদুল ইসলাম ও কুমারী মাতার ফুপা ফরিদুল ইসলামকে আটক করে। পরে বুধবার ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে কচাকাটা থানা পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমারী মাতা মেয়েটির বাবা- মা দুজনই ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। অভাব অনটনের সংসারে দাদীরসহ গ্রামে থাকে সে। লেখাপড়ার পাশপাশি একই গ্রামের ছাত্তার আলীর ছেলে বলদিয়া হায়দাড়িয়া মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষক এক সন্তানের জনক মাইদুল ইসলাম লাভলুর (৩২) বাড়িতে কাজ করতো সে। লাভলু মাষ্টারের স্ত্রী জেলার রাজাহাটে চাকুরী করার সুবাদে বাড়ি ফাকাই থাকতো। এই সুযোগে লম্পট শিক্ষক লাভলু মেয়েটিকে জোর করে ধর্ষন করে এবং ঘটনা প্রকাশ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গর্ভবতি হয়ে পড়ে মেয়েটি। এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গোপনে গর্ভপাত ঘটানোর তাড়া দেয় ওই লম্পট শিক্ষক। পরিকল্পনা মোতাবেক মেয়ে ফুপা ফরিদুল ইসলাম জননী ক্লিনিকে নিয়ে যায় তাকে। ক্লিনিকের মালিক পল্লী চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম নিজ বাড়িতে গর্ভপাত ঘটায় মেয়েটির। গর্ভপাতের পর ওই মেয়ের শাররীক অবস্থার অবনতী হলে বিপদ ঘটতে পারে ভেবে তড়িঘরি করে বিদায় করে তাদেরকে এবং মৃত নবজাতককে শহিদুলের বাড়ির পাশের ডোবায় ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়। পরদিন সকালে মেয়ের ফুপা ফরিদুল গর্ভপাতের কন্ট্রাকের ৪হাজার টাকা পরিশোধ করতে আসলে জনতার হাতে আটক হয়।

ঘটনার দিন থেকে পলাতক রয়েছে লম্পট শিক্ষক লাভলু। বলদিয়া হায়দাড়িয়া মাদ্রায় গিয়ে জানা যায়, কয়েক দিন থেকে মাদ্রাসায় উপস্থিতি নেই তার। মাদ্রাসার সুপার মতিয়ার রহমান জানান, ঘটনাটি প্রকাশের পর থেকে ওই শিক্ষক মাদ্রাসায় অসেনা। সে তিনদিনের ছুটি নিয়েছে।
বলদিয়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুস ছাত্তার বিএসসি জানান, যে শিক্ষক একজন অসহায় নাবালীকা মেয়ের সর্বশ্য লুটে নেয় তাকে দিয়ে শিক্ষকতা চলতে দেয় যায় না। তার সর্বচ্চ শাস্তি হওয়া দরকার। মেয়ে বাবা নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি আমি জানার পর ঢাকা থেকে এসেছি। এ বিষয়ে আমি থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

কচাকাটা থানার ওসি ফারুক খলিল জানান, নবজাতকের মরদেহ ডিএনএ পরিক্ষার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে। আটকদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads