• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

অর্থনীতি

ধারাবাহিক উত্থানের পর দেশে চা উৎপাদনে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কয়েক বছর ধরে উৎপাদনে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশে চা শিল্পে নতুন আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ২০১৭ সালে উৎপাদন প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় গত বছর দেশে চা উৎপাদন কমেছে ৭০ লাখ কেজি। সিলেট অঞ্চলে চা বাগানে পোকামাকড় ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতই চা উৎপাদনের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় লাগাম টেনেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

চা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০১৪ সালে দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ৬ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার কেজি। এ উৎপাদন বেড়ে ২০১৫ সালে ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭৮ হাজার এবং ২০১৬ সালে ৮ কোটি ৫০ লাখ কেজিতে উন্নীত হয়। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে দেশে চা উৎপাদন ২ কোটি ১২ লাখ কেজি বেড়ে যায়। কিন্তু সর্বশেষ ২০১৭ সালে উৎপাদন হয়েছে ৭ কোটি ৮০ লাখ কেজি চা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭০ লাখ কেজি কম।

চা উৎপাদনে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে হঠাৎ এমন ছন্দপতন কেন— জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিটিআরআইয়ের একাধিক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, টানা কয়েক বছর উৎপাদন বাড়লেও সর্বশেষ বছরে চায়ের জন্য বৈরী আবহাওয়া ছিল। সিলেট অঞ্চলে পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে চা উৎপাদন হঠাৎ করেই কমে গেছে। চা উৎপাদনে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামনে রেখে চা বাগানের পরিধি বাড়ানো গেলে উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।

বিটিআরআইয়ের গবেষণা কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬ সালে দেশে চায়ের জন্য সর্বোত্কৃষ্ট আবহাওয়া ছিল। ফলে পণ্যটির উৎপাদন বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। কিন্তু গত বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত এবং মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলায় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে রেড স্পাইডার মাকড়সা ও হেলোপেল্টিস মশার আক্রমণে চা উৎপাদন কমে যায়।

জানতে চাইলে মৌলভীবাজারের ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন ইটা চা বাগানের ম্যানেজার মো. ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৬ সালের আবহাওয়া চা উৎপাদনের জন্য আদর্শ ছিল। ঠিক বিপরীত ছিল ২০১৭ সালের আবহাওয়া। জুন থেকেই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত দেশের প্রায় সব চা বাগানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে দেয়নি। এর পরও গত কয়েক বছরের চেয়ে ভালো চা উৎপাদন হয়েছে। আশা করি, প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরূপ হলেও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের চা উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।

দেশের বেশ কয়েকটি বাগান মালিক ও ম্যানেজারের দেয়া তথ্যানুসারে, ২০১৭ সালে ডানকান ব্রাদার্স আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ কম চা উৎপাদন করেছে। একই অবস্থা ফিনলের বাগানগুলোর উৎপাদনের ক্ষেত্রে। তবে এর মধ্যেও পঞ্চগড়ের ক্ষুদ্রায়তন বাগানগুলোয় প্রায় ৫০ শতাংশ চা উৎপাদন বেড়েছে। ২০১৬ সালে পঞ্চগড়ের বাগানগুলোয় ৩২ লাখ কেজি চা উৎপাদন হলেও সর্বশেষ বছরে উৎপাদন হয়েছে ৫৪ লাখ কেজি। ৮-১০ বছর ধরে চা বাগানগুলো পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন মৌসুমে থাকায় বিরূপ আবহাওয়া সত্ত্বেও এসব বাগানে ভালো ফলন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১৬২ বাগানের মোট চা চাষযোগ্য ভূমির পরিমাণ ৬৪ হাজার ৮৮৬ হেক্টর। ৫৯ হাজার ১৮ হেক্টর জমিতে চা চাষ হলেও বাকি ৫ হাজার ৮৬৮ হেক্টর অনাবাদি রয়েছে। তবে চা উৎপাদন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে গত এক দশকে চা বোর্ডের নেয়া সম্প্রসারণ কার্যক্রমে পঞ্চগড় ও বান্দরবান জেলাকে চা চাষের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। চা বোর্ডের সর্বশেষ তথ্যে পঞ্চগড়ের বাগান ও ক্ষুদ্রায়তনে (কৃষিজমিতে চা চাষ বা সর্বোচ্চ ২০ একর জমিতে চা চাষ) চা চাষের মোট জমির পরিমাণ ১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলায় শুধু ক্ষুদ্রায়তনে চা চাষ হয়েছে ৭৯৬ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে প্রায় পাঁচ বছর আগে কার্যক্রম শুরু হওয়া পার্বত্য জেলা বান্দরবানে চাষ হয়েছে ১২৩ হেক্টর জমি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads