• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

ছবি : বাংলাদেশের খবর

অর্থ ও বাণিজ্য

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল

আয়ের বড় যাচ্ছে অংশ যন্ত্রপাতির অবচয়ে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ এপ্রিল ২০১৮

ব্যান্ডউইথের চাহিদা বাড়ায় গত পাঁচ বছরে কোম্পানির আয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। চলতি হিসাব বছরেও বিএসসিসিএলের আয় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে যন্ত্রপাতি বাবদ অবচয় বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটি নিট মুনাফায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে

দেশে সাবমেরিন ক্যাবলের একমাত্র অংশীদার হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। শুরুতে একচেটিয়া বাজার থাকলেও বর্তমানে বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। তবে ব্যান্ডউইথের চাহিদা বাড়ায় গত পাঁচ বছরে কোম্পানির আয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। চলতি হিসাব বছরেও বিএসসিসিএলের আয় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে যন্ত্রপাতি বাবদ অবচয় বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটি নিট মুনাফায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা কমে গেছে ৮৭ শতাংশ।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, অবচয় ব্যয়ের বাইরে ঋণের কিস্তি ও বিলম্বিত কর বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে বিএসসিসিএলকে। এজন্য কোম্পানির নিট মুনাফা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।

চলতি হিসাব বছরের নয় মাসের (২০১৭ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত) অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময় বিএসসিসিএলের রেভিনিউ হয়েছে ১০২ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৪ কোটি টাকা। চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত কোম্পানির সরাসরি পরিচালন ব্যয় ছিল ৪৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৩১ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে যন্ত্রপাতি অবচয় বাবদ। চলতি বছর হঠাৎ করেই যন্ত্রপাতি বাবদ অবচয় ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের নয় মাসে যন্ত্রপাতি বাবদ অবচয় ধরা হয়েছিল ৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে যন্ত্রপাতি অবচয়ে ব্যয় বেড়েছে ২১৬ শতাংশ। অবচয় বেশি হওয়ার কারণে আয়ের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হারে মোট মুনাফা বাড়েনি।

বর্তমানে বিএসসিসিএল হচ্ছে বড় ব্যান্ডউইথের প্রধান সরবরাহকারী। বিএসসিসিএলের কয়েক বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২-১৩ হিসাব বছরে কোম্পানির রেভিনিউ ছিল ১২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে বেসরকারি পর্যায়ে ছয়টি কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) লাইসেন্স দেওয়া হয়, যেগুলো ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ এনে দেশের বাজারে বিক্রি করছে। বর্তমানে এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই বিএসসিসিএলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এসব প্রতিষ্ঠান ব্যান্ডউইথের বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কারণেই ২০১৩-১৪ হিসাব বছর থেকে বিএসসিসিএলের রেভিনিউ কমতে দেখা যায়। এ সময় কোম্পানির রেভিনিউ নেমে আসে ৭৫ কোটি টাকায়। পরের বছর ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে রেভিনিউতে আরো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, নেমে আসে ৫৪ কোটি টাকায়।

তবে এরপর ব্যান্ডউইথের দাম কমানোয় রেভিনিউতে কিছুটা অগ্রগতি দেখা যায়। সবশেষ ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে রেভিনিউ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩ কোটি টাকায়। আর চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে রেভিনিউ দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি টাকায়, যা হিসাব বছর শেষে ১৩৬ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে। আগামী বছরগুলোতে ব্যান্ডউইথ লিজ ও আইপি ট্রানজিট সেবা থেকে বিএসসিসিএলের আয় আরো বাড়বে বলে আশা করছে কোম্পানিটি।

২০১৬-১৭ হিসাব বছরের নয় মাসে বিএসসিসিএলের বিক্রির বিপরীতে মোট আয় ছিল ৫৭ শতাংশ, যা চলতি বছরের একই সময়ে ৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এ ছাড়া চলতি হিসাব বছরে পরিচালন ব্যয়ও খানিকটা বেড়েছে। আগের বছরের নয় মাসে পরিচালন ব্যয় ছিল ২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা চলতি বছরের একই সময়ে ২৮ কোটি ৬১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এদিকে কোম্পানিকে চলতি হিসাব বছরে ঋণ ও সুদ বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এর আগে দ্বিতীয় সাবমেরিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ৬৬০ কোটি টাকা ঋণ নেয় বিএসসিসিএল। চলতি হিসাব বছরে এ ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে কোম্পানিটিকে। চলতি হিসাব বছরে ওই ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত করের বাইরে বিলম্বিত কর বাবদ ১৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।

চলতি হিসাব বছরে রেভিনিউতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও অবচয়, ঋণের কিস্তি ও বিলম্বিত কর পরিশোধে কোম্পানির নিট মুনাফা কমে গেছে। চলতি তৃতীয় প্রান্তিক শেষে বিএসসিসিএলের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বর্তমানে আইআইজি, আইজিডব্লিউ ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর সাবমেরিন ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাটা স্থানান্তরের সুবিধা ভোগ করছে। সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে দেশের সব ইউনিয়ন ও ১৭ লাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্রডব্যান্ড যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে। ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়নে প্রচুর ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হবে, যার প্রধান জোগানদাতা হবে বিএসসিসিএল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads