• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
১৪৭ কোটি ডলারে বিক্রি হচ্ছে আকিজের তামাক ব্যবসা

নবগঠিত কোম্পানিটি আকিজের তামাক ব্যবসার সব ধরনের স্বত্ব ক্রয় করবে

সংরক্ষিত ছবি

অর্থ ও বাণিজ্য

১৪৭ কোটি ডলারে বিক্রি হচ্ছে আকিজের তামাক ব্যবসা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৭ আগস্ট ২০১৮

১৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা) বিক্রি হচ্ছে আকিজের তামাক ব্যবসা। এ লক্ষ্যে ইউনাইটেড ঢাকা টোবাকো নামে একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কোম্পানিটি আকিজের তামাক ব্যবসার সব ধরনের স্বত্ব ক্রয় করবে। এরপর ইউনাইটেড ঢাকা টোবাকোর শেয়ার অধিগ্রহণ করবে জাপান টোবাকো (জেটি) গ্রুপ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন হবে।

এশিয়া মহাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জাপান টোবাকো গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

জাপান টোবাকো কোম্পানির নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট মুৎসু ওয়াই এ বিষয়ে বলেন, ‘উদীয়মান বাজারে আমাদের ব্যবসা কার্যক্রম বৃদ্ধির যে কৌশল এই বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা তা করতে সক্ষম হব। আকিজ বাংলাদেশে সিগারেটের বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার কারণে আমরা বাজার দখলে সুবিধা পাব। বিশ্বমানের উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে দ্রুত বাংলাদেশের আরো বেশি বাজার দখল করতে সক্ষম হব। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক মুনাফা বৃদ্ধিতে এই বিনিয়োগ আমাদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সিগারেটের বাজারের ২০ শতাংশ আকিজের দখলে, যা তামাক শিল্পে বিশ্বের মধ্যে অষ্টম সর্ববৃহৎ। মূল্য এবং বেজ সেগমেন্টের সিগারেট উৎপাদনের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আকিজ। আর লো সেগমেন্টের সিগারেটের বাজারের ৯০ শতাংশ দখলে রয়েছে আকিজের শেখ ও নেভি ব্র্যান্ড।

জাপান টোবাকোর সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী ইদি পিয়ার্ড বলেন, ‘ব্যবসায়িক মনোভাবের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উদীয়মান অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এ কারণে আমরা দেশটিতে আমাদের ব্যবসায় কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে খুবই আগ্রহী। আকিজের তামাক ব্যবসা খুবই লাভজনক। উৎপাদনে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে দেশব্যাপী তার শক্তিশালী বিপণন ব্যবস্থা ও কর্মীবাহিনী। সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আমাদের যে ক্ষমতা রয়েছে সেটিকে কাজে লাগিয়ে এবং আরো নতুন কিছু ব্র্যান্ড যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা দ্রুতই আমাদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে আরো দক্ষতা আনয়নে সমর্থ হব।’

আকিজের তামাক ব্যবসার মালিকানায় রয়েছেন পাঁচজন। ইউনাইটেড ঢাকা টোবাকো কোম্পানি লিমিটেড উক্ত পাঁচজনের কাছ থেকে তামাক ব্যবসার শতভাগ শেয়ার কিনে নিচ্ছেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আকিজের তামাক ব্যবসার শেয়ারধারীদের নাম প্রকাশ করেনি জাপান টোবাকো। জেটি গ্রুপ ১২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকায় কিনছে আকিজের তামাক ব্যবসা। এর মধ্যে তামাক ব্যবসার শেয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। আর ট্রেডমার্ক ও ডিজাইন স্বত্ব বাবদ ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করছে জেটি গ্রুপ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আকিজের তামাক ব্যবসার মালিকানা বদলের পরিকল্পনা রয়েছে।

আকিজের তামাক ব্যবসা কিনতে কোম্পানির নগদ অর্থের পাশাপাশি ঋণ নেবে জেটি গ্রুপ। চলতি হিসাব বছরে এ ব্যবসার লাভ-লোকসানের কোনো প্রভাব জাপান টোবাকোতে পড়বে না।

উল্লেখ্য, জাপান টোবাকো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তামাক কোম্পানি। বিশ্বের ১৩০টির বেশি দেশে তাদের ব্যবসা রয়েছে। প্রায় ৬০ হাজার লোক এ কোম্পানিতে কাজ করে। উইন্সটন, ক্যামেল, এলডির মতো নামিদামি ব্র্যান্ডের সিগারেট উৎপাদন করে এ কোম্পানিটি। এ কোম্পানিটি ওষুধ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্য ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।

২০১৮ সালের অর্ধবার্ষিকীতে জাপান টোবাকোর (জেটি) মোট রেভিনিউ ছিল ১ হাজার ৭৫ বিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। চলতি বছর কোম্পানির সিগারেট বিক্রি থেকে আয় বাড়লেও পরিচালন মুনাফা কমেছে। ২০১৭ সালের প্রথমার্ধে জেটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৩১৩ বিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন, যা চলতি প্রথমার্ধে ৩০২ বিলিয়ন জাপানিজ ইয়েনে নেমে দাঁড়ায়। এ সময়ে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা কমে সাড়ে ৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads