• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

আনন্দ বিনোদন

জয়ার প্রেমে সৃজিত!

  • আল কাছির
  • প্রকাশিত ২১ এপ্রিল ২০১৮

অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ২০১৩ সালে টালিগঞ্জে পা রাখেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান। এ ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় করে টালিগঞ্জকে চিনিয়ে দিয়েছেন নিজের জাত। ঠিক দুই বছর পর পরিচালক সৃজিত মুখার্জির ‘রাজকাহিনী’তে রুবিনা চরিত্রে অভিনয় করে জয়া নিজেকে নিয়ে যান অন্য উচ্চতায়। টালিগঞ্জের একাংশের নজর পড়ে জয়ার দিকে।

গুঞ্জন ওঠে, জয়ার প্রেমে মজেছেন পরিচালক সৃজিত। সৃজিতের সব ছবিতে জয়ার উপস্থিতি গুঞ্জনকে জোরালো করেছিল। যদিও অন্য পরিচালকের ছবিতেও অভিনয় করেছেন জয়া আহসান।

টালিগঞ্জের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনন্দা শঙ্কর, সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা, উঠতি গায়িকা মধুমন্তী বাগচীর সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করেছেন সৃজিত। সৃজিত বরাবরই এ বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছেন। যদিও সে সময় সৃজিতের সঙ্গে সায়ন্তনীর কিছু অন্তরঙ্গ সেলফি বিতর্কে ঘি ঢেলেছিল।

বছর খানেক ধরে সৃজিত-সায়ন্তনীর সেরকম ছবি আর দেখা যায় না। তাদের মধ্যে নাকি মনোমালিন্য শুরু হয়েছে। কারণ একটাই, সৃজিত অন্য কারো প্রতি ঝুঁকেছেন। কে সেই অন্য কেউ? এক সাংবাদিক জয়া আহসানের সঙ্গে প্রেম নিয়ে সৃজিতকে প্রশ্ন করেন। সৃজিত নাকি শুধুই হেসেছেন।

শুধু সাংবাদিকই কেন? ঢালিউড কিং শাকিব খানও কিছুটা জানতেন সৃজিত-জয়ার প্রেমের গুজব। কিন্তু শাকিব এসব গসিপ পছন্দ করেন না বলে বেশি ঘাঁটেননি। শাকিব-জয়া জুটির ছবি ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী টু’ মুক্তির আগে সৃজিত-জয়ার প্রেমকাহিনীর গুঞ্জন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। অনেক বন্ধু সাংবাদিক সে সময় শাকিব খানের কাছে তার নায়িকার বর্তমান প্রেম নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। শাকিব খান দেশীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘যেদিন সৃজিতের একটি টক শোতে আরেক নির্মাতা এই দুজনকে নিয়ে টিপ্পনী কেটেছিলেন, সেদিনই বুঝেছিলাম জয়া-সৃজিতের মধ্যে কিছু একটা চলছে। এরপর অবশ্য আমি মজা করে জিজ্ঞেসও করি। ও (জয়া) শুধু মুচকি হাসি দিয়েছিল। তাতেই অনেক কিছু বোঝা যায়।’

সে সময় একটি বিউটি সেলুনের নতুন শাখা উদ্বোধনে ঢাকায় এসেছিলেন জয়া আহসান। আড্ডার ছলেই জয়াকে কেউ একজন প্রশ্ন করেছিলেন, ‘সৃজিত কেমন আছে গো জয়া?’ জয়া লাজুক হাসিতে এড়িয়ে গেছেন বিষয়টি। তখনই বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে ওঠে, সৃজিতের পাশে স্বস্তিকা আর নেই। রয়েছেন জয়া।

স্বস্তিকা-সৃজিত প্রেমপর্ব নিয়ে কলকাতার জল বেশ ঘোলা হয়েছিল। কোলের ওপর নায়িকাকে দাঁড় করিয়ে পোজ দিয়ে ছবিও তুলেছেন এককালে। সেই ছবি আবার কলকাতার প্রথম সারির পত্রিকায় ছাপাও হয়েছে ফলাও করে। সৃজিতের স্বস্তিকা চ্যাপ্টার ক্লোজ করে দিল জয়া আহসান, নাকি অন্য কেউ?

বছরের অনেকটা সময় কলকাতায় থাকছেন জয়া। কাজও করছেন সেখানকার ছবিতে। জয়া কলকাতা গেলেই দেখা করেন সৃজিত। একই ছাদের তলায় নাকি থাকছেন তারা। খুব গোপনে শপিং মলেও দেখা যাচ্ছে তাদের। সৃজিতের বিভিন্ন পার্টিতেও নাকি অংশ নিচ্ছেন জয়া। জয়ার কাছে বাংলাদেশ যতটা কাছের, ঠিক ততটাই নাকি কাছের কলকাতার বাড়িঘর। কলকাতার সূত্র এমনটাই জানিয়েছে।

জয়ার সঙ্গে প্রেম চলতে চলতেই শোনা যাচ্ছিল বিয়ে করতে যাচ্ছেন সৃজিত। পাত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। ব্যাচেলর সৃজিত বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। সুখবর বটে। কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত দুঃখের সঙ্গেই কলকাতার সূত্র জানিয়েছে, বিয়েটা আর হচ্ছে না। সৃজিতের গল্ফগ্রিনের সাজানো বাড়ি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে প্রেমের অভাবে।

চলতি বছরের শুরু দিকে আনন্দবাজার পত্রিকার মুখোমুখি হয়েছিলেন জয়া আহসান। ‘সৃজিতের সঙ্গে আপনার প্রেমের গুঞ্জন তো থামেই না। তার ছবিতে আবারো কাজ করছেন’— এমন প্রশ্নের জবাবে জয়া বলেছিলেন, ‘শিল্পী হিসেবে তো তার সঙ্গে কাজ করতেই চাই। আমরা একসঙ্গে পথ চললে সেটা একটা বলার বিষয় ছিল। কিন্তু এটা পুরোটাই গুজব।’ প্রতিবেদক বিয়ের পরিকল্পনা জানতে চাইলে জয়া সাফ জানিয়ে দেন, ‘আপাতত তিনি বিয়ে করছেন না।’

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আনন্দবাজার পত্রিকাকে সৃজিত বলেন, ‘জয়ার মতো অভিনেত্রী, জয়ার মতো মানুষ, জয়ার মতো নারী আমি খুব কম দেখেছি। এই সম্পর্ক বন্ধুত্ব, প্রেম বা তার চেয়েও বেশি কিছু।’ সাক্ষাৎকারে সরাসরি বিয়ের প্রশ্নে সৃজিত বলেন, ‘কার সঙ্গে, কবে বিয়ে হবে জানি না। তবে আমি বিয়ে করব, ভেবেই প্রেম করতে চেয়েছি।’

তবে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত ব্যাচেলর সৃজিতকে নিয়ে যে আলোচনা চলতেই থাকবে। সে আলোচনায় জয়া আহসানের নাম কতদিন থাকে, সেটা এখন দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads