• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
গানের বাজার মন্দা

এই প্রজন্মের শিল্পীদের বিগ বাজেটের ভিডিওতেও গরম হচ্ছে না গানের বাজার

সংরক্ষিত ছবি

আনন্দ বিনোদন

গানের বাজার মন্দা

  • সোহেল অটল
  • প্রকাশিত ১৭ মে ২০১৮

সামনে ঈদ। এমন সময়ে অডিও ইন্ডাস্ট্রির থাকার কথা জমজমাট। স্টুডিওগুলোয় গায়ক-গায়িকার ভিড় থাকার কথা। মিউজিশিয়ানদের ব্যস্ত থাকার কথা।

কিন্তু চিত্রটা ঠিক তেমন না। সবার মধ্যে কেমন গা-ছাড়া ভাব। শঙ্কা নিয়ে ঘুরছেন গায়ক-গায়িকা, মিউজিশিয়ান।

যারা টুকটাক কাজ করছেন, তাদের অধিকাংশই জানেন না কেন গান করছেন? জানেন না কীভাবে এই গান শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাবে। কারা তাদের গান শুনবে।

সব মিলিয়ে অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে আরো অনেক আগেই, তা বিরাজমান। ঈদের মতো বৃহত্তম উপলক্ষও অডিও বাজারকে চাঙ্গা করতে পারছে না।

কেন হচ্ছে এমন? এর উত্তর জানতে চাইলে সিনিয়র শিল্পীরা দোষ চাপাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের ওপর। তাদের ধারণা, গানটাকে ঠিক উপাসনা না ভাবলে শ্রোতা পাওয়া যাবে না। নেহায়েত তারকাখ্যাতির লোভে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ভিডিওর পেছনে দৌড়ালে গানের বাজার জমবে না। ইন্ডাস্ট্রিও টিকবে না।

কিন্তু গান তো এখন দেখার বস্তুতেও পরিণত হয়েছে। ভালো মানের মিউজিক ভিডিও ছাড়া ভালো মানের গানও মানুষ শুনছে না। আবার ভিডিও বানাতে পারলে ইউটিউব থেকে ইনকামের ব্যবস্থাও রয়েছে। তাহলে কেন ভিডিও বানাবেন না?

এ প্রজন্মের গায়ক-গায়িকা, কম্পোজাররা অবশ্য ভিডিওর পক্ষে। গান হোক যেমন তেমন, ভিডিও হোক জোরসে। এমনটাই তাদের স্লোগান। কারণ, তারকাখ্যাতি পাওয়ার লোভটা আসলেই এ প্রজন্মের মধ্যে একটু বেশি। নিজের চেহারাটা চকচকে ভিডিওর মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে পরিচিত করে তোলার ইচ্ছাটা তাদের বেশি। কণ্ঠটা যেন এ ক্ষেত্রে গৌন।

আরো আগেই মানুষের হাতে মোবাইল ও কানে হেডফোন যখন খুব পরিচিত দৃশ্য হয়ে উঠল, তখন থেকেই গানের বাজারটা হোঁচট খেল চরমভাবে। মানুষ সিডি কেনে না। মোবাইলে শত শত গান ভরে নেয়। গান নামে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সোর্সের অভাব নেই। সুতরাং পয়সা খরচ করে গান শোনার মানসিকতা বিলুপ্ত হয়ে গেল।

এমন পরিস্থিতিতে ইউটিউবসহ অন্য অনলাইন মাধ্যমগুলোই একমাত্র ভরসা। সুতরাং নতুন প্রজন্মকে খুব বেশি দোষ দিয়েও লাভ নেই। তবে ভিডিও নির্মাণের প্রতি তাদের যে ঝোঁক, তা যদি অডিওর প্রতি থাকত তাহলে বাজারটা মন্দা হতো না বলে অনেকের মন্তব্য।

গানের বাজারে সব সময় চলচ্চিত্রের একটা বড় ভূমিকা থাকে। আমাদের দেশের সোনালি দিনের গানের ভান্ডার বেশ সমৃদ্ধ। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে চলচ্চিত্রের অবস্থাও কাহিল। সেখানে গানের অবস্থা আরো কাহিল। এখনো চলচ্চিত্রাঙ্গন যুদ্ধ করছে প্রাণ ধরে রাখার জন্য। যারা গান করছেন এ অঙ্গনে, তারা মাঝে-মধ্যে দুয়েকটা ভালো গান বের করতে পারলেও ধারাবাহিকতা নেই। সে কারণে চলচ্চিত্রের গানও শ্রোতাদের তৃষ্ণা মেটাতে ব্যর্থ।

সব মিলিয়ে গানের বাজারে এই পতিত পরিস্থিতি কবে বদলাবে, কীভাবে বদলাবে তার ধারণা নেই সংশ্লিষ্টদের। মিউজিক ডিরেক্টর সুমন কল্যাণ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘হুট করে গানের বাজারটা পড়ে গেল, তা আর উঠছেই না। সবাই সিঙ্গেল ট্র্যাকের দিকে ঝুঁকছেন। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এ ব্যবস্থা। কিন্তু তাতে তো বাজার গরম হচ্ছে না। কীভাবে এর সমাধান হবে বলতে পারছি না।’

অনেকটা হতাশার সুরে একই রকম কথা বললেন শীর্ষস্থানীয় অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সঙ্গীতার কর্ণধার সেলিম খান। তিনি বলেন, ‘সুফল পাচ্ছি না বলে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছি। অনেক কোম্পানি তো বন্ধই হয়ে গেল। আমরা সংগ্রাম করে যাচ্ছি। দেখি সুদিন ফিরে আসে কি না।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads