• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads
‘তাহলে বাসের হকারও আরজে হতে পারত’

আরজে শান্তনু

সংগৃহীত ছবি

আনন্দ বিনোদন

‘তাহলে বাসের হকারও আরজে হতে পারত’

  • আল কাছির
  • প্রকাশিত ২৫ জুলাই ২০১৮

শান্তনু মজুমদার। আরজে শান্তনু হিসেবেই দুই বাংলায় পরিচিত তিনি। উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় থেকে রেডিওর প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখা দেয় তার। কলকাতার একটি ইন্টারনেট রেডিওতে কাজ করার মাধ্যমে আরজে ক্যারিয়ার শুরু তার। বর্তমানে কাজ করছেন বাংলাদেশের একটি রেডিওতে সহকারী অনুষ্ঠান প্রধান হিসেবে।

শুরুর গল্পটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপস্থাপনার প্রতি আমার ঝোক ছিল। মঞ্চ উপস্থাপনা সেই ২০১১ সাল থেকে করে আসছি। সেটা থেকেই ইচ্ছা জাগল রেডিওতে কাজ করার। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর কলকাতার একজন আরজের অধীনে আমি আবৃত্তি শিখতাম। ২০১৫ সালের শুরু থেকে টানা কাজ করতে লাগলাম কলকাতার একটি রেডিওতে।’

প্রায় তিন বছর ধরে রেডিও অনুষ্ঠান উপস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত শান্তনু। কাজের সূত্রে বাংলাদেশে আসার গল্প সম্পর্কে শান্তনু বলেন, ‘বাংলাদেশে ঘুরতে আসার একটা ইচ্ছা ছিল। অনেক দিন ধরেই প্ল্যান করছিলাম বাংলাদেশে আসার। হঠাৎ করেই এক দিদির মাধ্যমে এখানকার একটি রেডিওর সঙ্গে আলাপ। কথা-কাজে মিলে গেল। ব্যাস, চলে এলাম।’

সৃজনশীলতার কোনো শেষ নেই উল্লেখ করে দুই বাংলার রেডিও সেক্টর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কলকাতায় রেডিওতে কেউ কাজ করতে গেলে শুরুতেই তাকে বলে দেওয়া হয়, এটা হলো ২৪/৭ জব। কিন্তু বাংলাদেশে এটা বলা হয় না। বাংলাদেশে এটাকে ৯টা-৫টা ডিউটির মতো মনে করা হয়। কিন্তু রেডিও আসলে তা নয়। রেডিও হলো কন্টিনিউয়াস একটি প্রসেস।’

‘কথা বলতে পারা মানেই আরজে হয়ে যাওয়া নয়। তাহলে বাসের বা ট্রেনের হকারও ভালো আরজে হতে পারত। কোথায় কী হচ্ছে? কেন হচ্ছে? কখন হচ্ছে? সেগুলো জেনে সেগুলো সম্পর্কে কতটুকু বলবে, কেন বলবে, কতটা সময় বলবে, সেটা বলাই তো আরজের প্রধান কাজ। আমি যদি আমার সমাজ সম্পর্কে না জানি, তাহলে শ্রোতাদের জানাব কী করে? আমি অনেক আরজেকে জানি, যারা সমাজ সম্পর্কে একদমই খোঁজখবর রাখেন না। বাসে-ট্রেনে ভ্রমণ করেন না। একটা লোকাল মানুষের চাওয়াটা সবার আগে বুঝতে হয় আরজে হতে গেলে।’ উঠতি কিছু আরজে সম্পর্কে জানতে চাইলে সাফ এমনটাই জানিয়ে দেন তিনি।

শান্তনু মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন বাংলা ভাষার চর্চা বাংলাদেশেই হচ্ছে। কলকাতা থেকে বাংলা ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। বাংলিশ ব্যবহার বাংলাদেশের থেকে কলকাতায় বেশি স্বীকার করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘বাংলার ব্যবহার এপারে অনেক ভালো। আমরা ওপারে অনেক বেশি বাংলিশ। মাঝেমধ্যে অনেকেই এখানে সঠিক বাংলায় কথা বলেন না, এটা খুব খারাপ লাগে আমার। বাংলার সঙ্গে হিন্দি বা উর্দু ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরোপুরি বাংলা যদি সবাই বলতেন তাহলে আরো ভালো লাগত।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads