• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

ছবি :

ফিচার

পাল্টে যেতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি

  • ইশতিয়াক আবীর
  • প্রকাশিত ২৬ এপ্রিল ২০১৮

২০১৯ সালের মধ্যেই সমুদ্র অর্থনীতিতে বিপ্লব আনতে চায় বাংলাদেশ সরকার। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমুদ্রকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে দেশ। সাগরের সম্পদ আহরণে একদিকে নেওয়া হয়েছে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কর্মপন্থা। অন্যদিকে, উপকূলীয় দেশগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে কার্যকরী পরিকল্পনা। সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কার্যক্রম পরিচালনায় স্থায়ী একটি ব্লু-ইকোনমি সেল গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে অনুসন্ধান চালাতে শিগগিরই একটি জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগের নতুন দিগন্তে এখন বাংলাদেশ। বিশ্বের সম্পদশালী রাষ্ট্রগুলোও বাংলাদেশের ব্লু-ওসান ইকোনমি বা নীল সমুদ্র অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত হতে ইচ্ছুক। বঙ্গোপসাগরের অফুরান সম্পদ কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে আহরণ সম্ভব হলে ১০ বছরের মাথায় বাংলাদেশের অর্থনীতি অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছবে। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, এর মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন অনেক গুণ বেড়ে যাবে। পাশের দেশ মিয়ানমার বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস তুলছে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্লু ইকোনমির ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটোরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদ বদলে দেবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। নদীপথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহন বাড়াতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ পরিচালনা বাড়ানোর পাশাপাশি নদীবন্দরগুলোর আধুনিকায়নের ওপর সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ ভাঙা শিল্পে সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রুজশিপ পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে নতুন সমুদ্রসীমায়। তবে এ খাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্নপূরণে সমুদ্র সম্পদ নির্ভরশীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা ও সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। সামুদ্রিক এলাকায় প্রধানত খনিজসম্পদ রয়েছে। বালিতে এক রকম। আবার পানির গভীরে আরেক রকম। পানির গভীরে গ্যাস সম্পদ আছে। শুধু মাছই রয়েছে প্রায় ৫০০ প্রজাতির। এ ছাড়া রয়েছে শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, অক্টোপাস, হাঙ্গরসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী। এগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অর্থকরী ফসল হিসেবে চিহ্নিত। সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ক (ব্লু-ইকোনমি) আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির আকার প্রায় ৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সমুদ্র অর্থনীতির আকার ২৪ ট্রিলিয়ন ডলার। তাই সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা আমরা কাজে লাগাতে চাই।’ তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ আসবে সমুদ্র থেকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের তথ্যমতে, গভীর সমুদ্রের বিশাল অংশ বাংলাদেশের জলসীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর পরিমাণ দেশের মোট স্থল অঞ্চলের প্রায় ৮১ শতাংশ। প্রায় ৭৫টির মতো ছোট-বড় দ্বীপ রয়েছে। এগুলোতে পর্যটন সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বেসরকারি সংস্থা ‘সেভ আওয়ার সি’র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পণ্য আমদানি-রফতানিতে বাংলাদেশি জাহাজ যুক্ত হওয়ায় এ খাতে কর্মসংস্থান বাড়ছে। বর্তমানে ২৫০ জাতের মিঠাপানির মাছের বিপরীতে সাগরে রয়েছে অন্তত ৪৭৫ প্রজাতির মাছ। বঙ্গোপসাগরে প্রতিবছর ৮ মিলিয়ন টন মাছ ধরা পড়ে। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৭০ মিলিয়ন টন বাংলাদেশের মস্যজীবীরা আহরণ করে। নীল পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে পাল্টে যাবে দেশের চেহারা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads