• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads

সংরক্ষিত ছবি

ফিচার

স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়

  • ফিচার ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১০ মে ২০১৮

১৯৮০ সালে বাংলাদেশে এক লাখ মায়ের মধ্যে ৭৬৯ জন মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যেতেন। ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, তা কমে দাঁড়িয়েছিল ১৩৮ জনে, যদিও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্র ছিল ১৪৩। কিন্তু ২০১৭ সালে তা অবশ্য একটু বেড়ে গিয়েছিল। সে বছর মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ১৭৬। তবে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ৭০-এ নামিয়ে আনার জন্য বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। হেলথ বুলেটিন-২০১৬’র তথ্যানুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৫ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৮৮ জন থেকে কমে ৩৮ জন হয়েছে আর নবজাতকের মৃত্যুর হার ৪২ থেকে কমে ২৩ হয়েছে। ২০০৭ সালে যেখানে শতকরা ২৩ জন নবজাতকের জন্মের সময় প্রশিক্ষিত ধাত্রীর সহায়তা নিতেন, এখন নিচ্ছেন ৪২ ভাগ। এর মধ্যে বাংলাদেশের গড় আয়ু বেড়েছে বহুগুণ। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৪ বছর। ২০১৫ সালে এসে তা বেড়ে এখন ৭১ বছর হয়েছে। বর্তমানে ভারতের মানুষের গড় আয়ু ৬৬ দশমিক ৪০ বছর, পাকিস্তানে ৬৫ দশমিক ৫৮ বছর এবং নেপালে ৬৮ বছর।

বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্যসেবায়। বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি (৬টি রোগের টিকা : যক্ষ্মা, পোলিও, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, হাম) জাতিসংঘ কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছে। এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় এখনো অনেক দেশ টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের মতো সফলতা পায়নি। বাংলাদেশ এখন পোলিওমুক্ত দেশ। বাংলাদেশের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সেবাদানকারী ‘কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল, সবুজ ছাতা প্রকল্প’ এখন এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে উপজেলা হাসপাতালগুলো উন্নত করা হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বড় বড় সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মানও অনেক বাড়ানো হয়েছে। অনেক রোগের পরীক্ষার ব্যবস্থা এখন সরকারি হাসপাতালেই করার ব্যবস্থা আছে।

এসব সাফল্যের কোনোটাই সহজ কোনো কাজ ছিল না। বাংলাদেশ কোনো স্বল্পসংখ্যক জনসংখ্যার ধনী দেশ নয়। সম্পদের সীমাবদ্ধতাসহ ঘন বসতিপূর্ণ বিপুল জনসংখ্যার একটি দেশ। জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে অষ্টম। সুতরাং এমন একটি দেশে এত বড় বড় সাফল্য অর্জন কোনো বিচারেই সহজসাধ্য ছিল না। অথচ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অনেকগুলো সূচকে তার প্রতিবেশীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের সমান কিংবা কাছাকাছি পরিমাণ মাথাপিছু আয়ের দেশগুলোর তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বিস্ময়ের সঙ্গে প্রশ্ন তুলছেন : রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জনসংখ্যার ভারে নুয়ে পড়া একটি স্বল্পোন্নত কিংবা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ কীভাবে এতসব মিরাকেল সম্পাদন করল? এখন বড় বড় জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী, একাডেমিক, অর্থনীতিবিদ, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের কাছে তাই বাংলাদেশ একটি সফলতম উদাহরণ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads