• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

পরিযায়ী পাখি

ছবি: সংগৃহীত

ফিচার

বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস ও বিচিত্র ভাবনা

  • ফয়জুন্নেসা মণি
  • প্রকাশিত ১২ মে ২০১৮

প্রত্যেক পাখিই পরিযায়ী হিসেবে পরিচিত। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন পাখির দেখা মেলে। পরিযায়ী পাখির উড়ে যাওয়ার তথ্য সন্ধানে জানা যায়, সুমেরু অঞ্চল থেকে একটি পাখি উড়তে শুরু করে কুমেরু অঞ্চলে চলে আসে শুধু খাবার আর আবাসস্থলের সন্ধানে। ১০ মে’র কাছাকাছি সময়ে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা থেকে পাখিরা উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে যায় বলে ৯-১০ মে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস পালন করা হয়। এ দেশে পরিযায়ী পাখি আসে বলে দিবসটি আমাদের জন্য খুব প্রাসঙ্গিক। যদিও ১০ মে সময়টি বাংলাদেশের জন্য পরিযায়ী পাখি দিবস হওয়ার যথোপযুক্ত নয় বলে মতপ্রকাশ করেছেন প্রকৌশলী ও পরিবেশকর্মী ম. ইনামুল হক। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা অনুভব করেছি পরিযায়ী পাখি দিবস ৯-১০ মে নয় হেমন্তকালের শুরুতে করা দরকার। কারণ ৯-১০ মে সময়কালে আমাদের দেশে ইউরোপ, সাইবেরিয়া থেকে আসা পরিযায়ী পাখিরা থাকে না।’ মজার ব্যাপার হলো, পরিযানকালে পাখিরা খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে তাদের শরীরে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। এই চর্বি পরবর্তীতে ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয়। এই পথ পরিক্রমা ৩০ হাজার মাইলেরও বেশি। পরিযায়ী বা Migratory শব্দটি ল্যাটিন Migratus থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো পরিবর্তন এবং এটি নির্দেশ করে পাখিরা কীভাবে বিভিন্ন মৌসুমে তাদের ভৌগোলিক অবস্থান পরিবর্তন করে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, যেসব পাখি ভারতবর্ষে আসে সেগুলোর হিমালয় টপকাতে হয়। হিমালয়ের উচ্চতা আট হাজার মিটার। এত উঁচু দিয়ে উড়তে পাখির পথে পথে বিপদ থাকতে পারে। প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, উপমহাদেশে ২ হাজার ১০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির পাখি হিমালয় পেরিয়ে বাংলাদেশে আসে। পাখি পরিযান সর্বোচ্চ পর্যায় পৌঁছায় বসন্ত ও শরৎকালে। আমাদের দেশে শীতের শুরুতেই নতুন নতুন পাখি আসতে দেখা যায়। তবে বাস্তবতা হলো বছরে ৩৬৫ দিনই পরিযায়ন ঘটে। পাখি কখন পরিযান করে তা পাখির প্রজাতি, আবহাওয়া, খাদ্যপ্রাপ্তি, প্রজনন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে থাকে। Sterna paradisaea বা আর্কটিক টার্ন নামক পাখিরা সবচেয়ে লম্বা দূরত্ব ২২০০০ মাইল পর্যন্ত পরিযান করতে পারে। হামিংবার্ড প্রজাতির মধ্যে রুফস (Rufous) প্রজাতির হামিংবার্ড সবচেয়ে বেশি দূরত্ব প্রায় ৩০০০ মাইল পর্যন্ত পরিযান করতে পারে। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসেম্বর-জানুয়ারি এ দুই মাসে সবচেয়ে বেশি পাখি বাংলাদেশে আসে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখি রয়েছে। তাদের মধ্যে শতকরা ১২ শতাংশ আগামী শতাব্দীর মধ্যেই বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে পাখি বিশারদদের মতানুযায়ী পৃথিবীর প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে ১৮৫৫ প্রজাতি অর্থাৎ, প্রায় ১৯ ভাগ পাখিই পরিযায়ী। এ উপমহাদেশের রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০। ৩১৬ প্রজাতির পাখি দূরদেশ থেকে বছরের নানা সময়ে এই দেশে আসে। এদের মধ্যে শীতে আসে প্রায় ২৯০টি আর বাকি প্রজাতিগুলো গ্রীষ্মে। এ দেশে পরিযায়ী পাখির ৯৫ শতাংশ আসে শীতকালে। বাকি পাঁচ শতাংশ আসে বছরের বিভিন্ন সময়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads