• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ‘বীরপ্রতীক’

ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ‘বীরপ্রতীক’

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ‘বীরপ্রতীক’

  • ফয়জুন্নেসা মণি
  • প্রকাশিত ২৭ মে ২০১৮

স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য সেনা কর্মকর্তা ও চিকিৎসক সিতারা বেগমকে ভূষিত করা হয় বীরপ্রতীক খেতাবে। সিতারা বেগমের জন্ম ১৯৪৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতার তালতলায়। মো. ইছরাইল মিয়া ও হাকিমুন্নেছা দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সিতারার স্থান তৃতীয়। বাবার আইন ব্যবসার সুবাদে তার শৈশব কেটেছে কিশোরগঞ্জের পৈতৃক বাড়িতে। মেধাবী সিতারা বেগম কিশোরগঞ্জ এস ভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক, ঢাকা হলিক্রস কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। স্কুলজীবনে তিনি গার্ল গাইডসের দলনেতা ছিলেন। তুখোড় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন শিক্ষাঙ্গনেও। তিনি ব্যাডমিন্টনে চ্যাম্পিয়নসহ বহু খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে প্রচুর সুনাম অর্জন করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে তিনি সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে লেফটেন্যান্ট হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। স্বাধিকার আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন তিনি। ডা. ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম একাত্তরের জুলাইয়ের শেষদিকে আগরতলার বিশ্রামগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ হাসপাতালে কমান্ডিং অফিসার (সিও) হিসেবে নিয়োজিত হন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলার এই বাংলাদেশ হাসপাতালটি আহত মুক্তিযোদ্ধা, সৈনিক এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা পরিচালিত ৪০০ শয্যার হাসপাতালটি ছিল সম্পূর্ণ বাঁশ দিয়ে তৈরি। এই হাসপাতালের সবকিছু দেখাশোনা ও পরিচালনার দায়িত্ব ছিল ডা. সিতারার ওপর। তিনিসহ হাসপাতালটিতে মেডিকেলের শেষ বর্ষের ৪-৫ জন ছাত্র কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া ১০-১২ জন ভলান্টিয়ারও যোগ দিয়েছিলেন আর্মি থেকে। ১৬ ডিসেম্বর রাতে বিশ্রামগঞ্জে বাংলাদেশ হাসপাতালে রেডিওর মাধ্যমে ডা. সিতারা বেগম ও তার সহকর্মীরা ঢাকা মুক্ত হওয়ার সংবাদ পান। তখনো হাসপাতালে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী ছিলেন। তবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেখানে ফেলে দেশে ছুটে আসেননি ডা. সিতারা। ডিসেম্বরের পরে তিনি দেশে ফেরেন। সে সময় হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদেরও সঙ্গে করে কুমিল্লা নিয়ে আসা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যোগদানের মাধ্যমে আবারো সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন। ব্যক্তিজীবনে তার জীবনসঙ্গী ক্যাপ্টেন ডা. আবিদুর রহমানও একজন সেনা কর্মকর্তা এবং মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জেনারেল সফিউল্লাহর অধীনে ৩ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন।

গ্রন্থনা : ফয়জুন্নেসা মণি

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads