• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
সচেতনতাই পারে ক্যানসার ঠেকাতে

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ মোঃ মুকিতুল হুদা

সংরক্ষিত ছবি

ফিচার

সচেতনতাই পারে ক্যানসার ঠেকাতে

  • প্রকাশিত ২৮ জুন ২০১৮

বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা। নেই সুচিকিৎসা, অভাব জনসচেতনতার।বংলাদেশে ক্যানসার রোগীদের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের খবরের সঙ্গে কথা বলেছেন খুলনা মেডিকেলের সহকারী অধ্যাপক ক্যানসার বিশেষজ্ঞ মোঃ মুকিতুল হুদা

 

বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার সামগ্রিক পরিস্থিতি কেমন বলে মনে করেন?

- সামগ্রিক অবস্থা আনুপাতিক হারে খুব ভালো নয়। যত রোগী তা সামাল দেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সরকারি যে কয়টি হাসপাতালে ক্যানসার রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে, সেগুলো খুব চাপ পড়ে। অনেক সিরিয়াস রোগীকেও মাসের পর মাস লাইনে থাকতে হয়। দিন দিন ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থা তত উন্নত হচ্ছে না।

এর কারণ কী কী বলে মনে করেন?

- প্রধান কারণ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হয় ক্যানসারে। ক্যানসার ইনস্টিটিউটসহ সাত-আটটি সরকারি হাসপাতালে ক্যানসার রোগের চিকিৎসা করা হয়। তাও অনেক হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসার সুব্যবস্থা নেই। রেডিও থেরাপি দিতে সময় লাগে। ফলে রোগীদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। অথচ ক্যানসার এমন একটি রোগ, যেখানে অপেক্ষা করার সময় নেই। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা দিতে হয়। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও আমাদের সামর্থ্যের অভাবে তা হচ্ছে না।

আর কী কী সমস্যা?

প্রধান সমস্যা আমাদের টেকনোলজি দুর্বল। দ্বিতীয়ত পর্যাপ্ত সংখক বিশেষজ্ঞও নেই। ক্যানসার বর্তমান পৃথিবীর অত্যন্ত ভয়াবহ একটি ব্যাধি। আমাদের সেরকম প্রস্তুতি নেই এখনো তা  মোকাবেলার। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো উন্নত করতে হবে, যেন ঢাকায় বেশি চাপ না পড়ে। গরিব রোগীরা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকায় যেতে পারে না। সেখানে গিয়ে চিকিৎসা পেতে পেতে অনেক দেরি হয়ে যায়। অন্তত কেমো দেওয়ার ব্যবস্থা তো জেলা হাসপাতালগুলোতে থাকতে হবে। কেমো দিতে ঢাকায় গেলে তার ভোগান্তি বিরাট। প্রথমত সেখানে গিয়ে সিরিয়াল পাওয়া। দ্বিতীয়ত অসুস্থ একজন মানুষকে নিয়ে তার আত্মীয়-স্বজনের টানাটানি। এর চেয়ে জেলা হাসপাতালগুলো উন্নত করলে এই ভোগান্তি অনেক কমে যায়। আরেকটি কথা, আমাদের টেকনোলজি খুবই দুর্বল। ক্যানসার চিকিৎসার জন্য সিটি স্ক্যান মেশিন থেকে কম্পিউটারাইজ পদ্ধতিতে রেডিওথেরাপি দিতে হলে আধুনিক যন্ত্রপাতি দরকার, যা আমাদের নেই। অবশ্য প্রাইভেট কিছু হাসপাতালে আছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই। যা-ও আছে, তার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। গরিব রোগীরা সেই চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেক সময় হোমিওপ্যাথি, ঝাড়-ফুঁক-কবিরাজি চিকিৎসায় চলে যায়, যা অবৈজ্ঞানিক। এতেও রোগীর মৃত্যুহার বাড়ছে। এগুলো  ঠেকানো উচিত।

ক্যানসার প্রতিরোধে আপনারা কী কী সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

- আমরা সম্মেলন করি প্রতিবছর। সরকারকে জানাই। তথ্য মন্ত্রণালয়কে জানাই। আমাদের বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বসেন। সে অনুযায়ী প্রতিবছরের একটা রোডম্যাপ ঠিক করেন। এখন সচেতনতা কিছুটা বাড়ছে। তাও আমি মনে করি আরো সচেতনতা বাড়ানো উচিত। সেটা তো একটা দিন, ক্যানসার দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং সারা বছর ধরেই প্রচার চালাতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। টিভিতে বিজ্ঞাপন প্রচার করে যক্ষ্মা রোগ সম্পর্কে অনেকটা সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেছে। আমি মনে করি, ক্যানসার রোগের বিরুদ্ধেও তা করতে হবে। এক্ষেত্রে ডাক্তারদের মতো মিডিয়াও বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলো এক্ষেত্রে রাখতে পারে সচেতনতামূলক ভূমিকা। সচেতনতাই পারে ক্যানসার ঠেকাতে। অনেক রোগী একদম অ্যাডভান্স স্টেজে চিকিৎসা নিতে আসেন। যদি প্রাথমিক অবস্থায়ও আসেন, তাও আমরা একটা চেষ্টা অন্তত নিতে পারি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads