• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ক্যানসার শনাক্তকরণে বাংলাদেশির উদ্ভাবন

বাংলাদেশী চিকিৎসা বিজ্ঞানী মুহম্মদ জহিরুল আলম সিদ্দিকী

সংরক্ষিত ছবি

ফিচার

ক্যানসার শনাক্তকরণে বাংলাদেশির উদ্ভাবন

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ২৮ জুন ২০১৮

ক্যানসারের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। সাধারণত কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে ঠিকমতো বুঝে ওঠার আগেই মানুষের শরীরে তা ছড়িয়ে পড়ে। আশার খবরটি হলো, বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে একদল গবেষক ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায় শনাক্ত করার সহজ উপায় বের করেছেন। মানুষের শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার আগেই তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে তা শনাক্ত করা যাবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভাবিত যন্ত্রটি বাংলাদেশে উৎপাদন খরচ মাত্র দেড়শ টাকা। ঘরে বসেই যে কেউ এ যন্ত্র ব্যবহার করে ক্যানসার শনাক্ত করতে পারবেন। গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মুহম্মদ জহিরুল আলম সিদ্দিকী। তিনি অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তার গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক স্বীকৃত দ্য রয়েল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি জার্নাল ন্যানোস্কেল, দ্য আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল অ্যানালাইটিক্যাল কেমিস্ট্রি এবং রয়েল সোসাইটি অব কেমিক্যাল কমিউনিকেশনসে ছাপা হয়েছে। ক্যানসার শনাক্তকরণে তার গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল, ক্যানসারের মতো রোগকে প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্প খরচে শনাক্ত করা। নিম্নআয়ের দেশের জনগণকে যেন লাখ লাখ টাকা খরচ করে ক্যানসারের চিকিৎসা করতে গিয়ে একদম পথে বসে যেতে না হয়, সে বিষয়টিও গবেষকদের বিবেচনায় ছিল। এ ছাড়া যন্ত্রটি ক্যানসার শনাক্ত করার পাশাপাশি চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরে ক্যানসারের বৃদ্ধি অথবা হ্রাস পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। ফলে রোগীর চিকিৎসা সঠিকপথে এগোচ্ছে কি-না, সে ব্যাপারে চিকিৎসকরা ধারণা পাবেন। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের আর্থিক অনুদানে গবেষণাটি হয়েছে।

ক্যানসার বিষয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মুহম্মদ জহিরুল আলম সিদ্দিকী বলেন, ঘরে বসেই যে কেউ এ যন্ত্রের মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্ত করতে পারবেন। প্রথমে প্লাস্টিকের অ্যাপেন ড্রপের মধ্যে দু-এক ফোঁটা রক্ত, লালা কিংবা প্রস্রাবের নমুনা নেওয়া হয়। এর সঙ্গে রোগ শনাক্তকরণের জন্য ক্যানসার জেব নির্দেশক (বায়োমার্কার) যুক্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধাতব কণা যোগ করা হয়। এরপর এসব নমুনার পরিবর্তন খালি চোখে দেখে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার আছে কি নেই, সেটি জানা যাবে। শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা অনুযায়ী রক্তসহ অন্যান্য নমুনার রঙের বদল হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। গবেষক দল প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য জরায়ু, অন্ননালি, অন্ত্রের ক্যানসার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েছে। এতে তারা রোগনির্ণয়ে শতভাগ সাফল্য পেয়েছে।

ক্যানসারের মতো ভয়াবহ দুরারোগ্য ব্যাধির সহজ শনাক্তকরণ পদ্ধতির এমন আবিষ্কার দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোর জন্য আশার আলো। ক্যানসারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যয়বহুল এবং জটিল পদ্ধতির হওয়ার কারণে ক্যানসার রোগীরা সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শেষ পর্যায়ে চিকিৎসার শরণাপন্ন হয়। যে কারণে বেশিরভাগ রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হয় না। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি এই রোগ সম্পর্কে জানা যায়, তবে অনেক মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হবে। মুহম্মদ জহিরুল আলম সিদ্দিকীর এই আবিষ্কার ক্যানসার নিরাময়ে মাইলফলক ভূমিকা রাখবে। ডায়াবেটিস পরিমাপের মতো ক্যানসারের সহজ ও নামমাত্র ব্যয়সাপেক্ষ এই পদ্ধতি স্বাস্থ্য খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সুনাম বাড়ল। সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা থানার জয়শ্রী গ্রামে মুহম্মদ জহিরুল আলম সিদ্দিকীর জন্ম। সার্থক বাঙালি বিজ্ঞানীর ক্যানসার শনাক্তকরণ পদ্ধতি উদ্ভাবন। বিজ্ঞানী মুহম্মদ জহিরুল আলম সিদ্দিকী আমাদের গর্ব। শুভ কামনা ও অভিনন্দন তার জন্য।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads