• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই

বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে

সংরক্ষিত ছবি

ফিচার

ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই

দিন দিন বাড়ছে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, নেই পর্যপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা

  • কামরুল আহসান
  • প্রকাশিত ২৮ জুন ২০১৮

ক্যানসার- এক ভয়াবহ ব্যাধি। যার নাম শুনলেই মানুষ ভয়ে-আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। দিন দিন বাড়ছে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা। প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে ৭০ থেকে ৮০ লাখ মানুষ মারা যায় ক্যানসারে। এটা হচ্ছে মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহৎ কারণ। প্রতি ছয়জনের একজনই মারা যাচ্ছে ক্যানসারে। বাংলাদেশেও তার সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যানসার দিবস উপলক্ষে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে, এর মধ্যে ২ লাখ মানুষই মারা যাচ্ছে। ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়লেও বাংলাদেশে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা। বাংলাদেশে মোট ১৮-২০টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ক্যানসার চিকিৎসা হয়। অথচ যত সংখ্যক রোগী তার জন্য কমপক্ষে ১৬০টি কম্প্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা। তার সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থাও অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদি। গরিব রোগীরা অনেকে হাসপাতালে আসতেও দেরি করে ফেলেন। এর সঙ্গে চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে তাদের আরো দেরি হয়ে যায়। টাকা-পয়সা থাকলে অনেকে বিদেশে পাড়ি জমায়, নিদেনপক্ষে পাশের দেশ ভারতে চলে যায়। কিন্তু, যাদের সে সামর্থ্য নেই, গরিব রোগীদের ধুঁকে ধুঁকে মরা ছাড়া উপায় থাকে না।

দেশে ক্যানসার ইনস্টিটিউট বা গবেষণাকেন্দ্র মাত্র একটি। সেটি ঢাকার মহাখালীতে। সেখানে ৩০০ রোগী রাখার মতো জায়গা আছে। কিন্তু, প্রতিদিনই সেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসে ভিড় জমায় হাজারখানেক রোগী। তাদের বেশিরভাগই ফিরিয়ে দিতে হয়। প্রতিদিন ৩০-৪০ জনের বেশি রোগী রাখার সামর্থ্য হয় না। কেমো দিয়ে অনেক রোগী ছেড়ে দেওয়া হয়। কেমো দিতেও পাঁচ-সাতদিন সময় লাগে। এই সময়টা গ্রাম থেকে এসে অনেক রোগী নিদারুণ ভোগান্তির শিকার হন। প্রায় সময়ই তাদের পড়ে থাকতে হয় হাসপাতালের কড়িডোরে, সামনের রাস্তায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল ঘুরেও দেখা গেছে একই চিত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরেও দেখা গেছে একই চিত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়েও তো বাড়তি রোগী শুতেও দেয় না কড়িডোরে, বাড়তি রোগী তারা ফিরিয়ে দেয়, তারা গিয়ে ভিড় জমায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কোনো রোগী ফিরিয়ে দেয় না। তারা ফিরিয়ে দিলে আর যাবে কোথায়? কিন্তু, এত রোগী তারাই-বা রাখবে কোথায়? তারা ফ্লোরে ফেলে রাখে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে বহু ক্যানসার রোগী হাসপাতালের কড়িডোরে পড়ে আছে। তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। এক ব্যাগ রক্ত কেনার টাকা নেই হাতে। পরিবারের কারো ক্যানসার হওয়া মানে পুরো পরিবারটা শেষ। বেশিরভাগ গরিব পরিবারই চিকিৎসা করে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা নিয়ে। যাদের সেই সামর্থ্য নেই তারা গ্রামের মসজিদ-মাদ্রাসা-স্কুল থেকে, হাট-বাজার থেকে সাহায্য তোলে। এভাবেই চলছে দেশের সামগ্রিক ক্যানসার চিকিৎসা ব্যবস্থা। তবে ক্যানসারসহ বড় ধরনের রোগের জন্য সমাজসেবা অধিদফতর থেকে কিছু সাহায্য পাওয়ার ব্যবস্থা আছে। ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ও প্রতিষ্ঠিত কারো সুপারিশ নিয়ে যেতে পারলে সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাহায্য পাওয়া যায়। তাও বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। হাজার হাজার আবেদনপত্র জমা হয়, তার মধ্যে ভাগ্যবান কেউ হয়তো পায়। কিন্তু, ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতি যদি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো পর্যন্ত উন্নত করা না যায় এবং সরকারি সহযোগিতা যদি না বাড়ে তাহলে গরিব রোগীদের বাঁচানো যাবে না। আর ক্যানসার প্রতিরোধে জনসচেতনতাও বাড়ানো দরকার। যদিও ক্যানসার একটি বংশগত রোগ, তাও খাদ্যে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ক্যানসার বাড়ানোর অন্যতম কারণ। সবচেয়ে বেশি দরকার জনসচেতনতা এবং প্রাথমিক অবস্থাতেই সুচিকিৎসার ব্যবস্থা। আমরা কিছু করতে পারব না, এ কথাটা বলা যাবে না। বরং যার যার জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব এই দূরারোগ্য ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়তে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads