• মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫
ads
মরণব্যাধি এইডস ছড়ানোর কারণ ও প্রতিকারের উপায়

অবাধে যৌনমিলন বা দৈহিক সম্পর্কের কারণে এই মহামারী হয়

সংরক্ষিত ছবি

ফিচার

কোরআন-হাদিসের আলোকে

মরণব্যাধি এইডস ছড়ানোর কারণ ও প্রতিকারের উপায়

  • প্রকাশিত ২৯ জুন ২০১৮

শাহ্ মুহাম্মদ আরিফুল কাদের

মহাগ্রন্থ আল কোরআন ও হাদিসে নববি (সা.) থেকে জানা যায়, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পথভ্রষ্ট মানুষদের মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ির জন্য বিভিন্ন সময় নানান প্রকার আজাব, গজব ও মহামারী দ্বারা পৃথিবীর মানুষকে শাস্তি দিতেন। বর্তমান বিশ্বেও মানুষ আল্লাহর নাফরমানি ও ব্যভিচারে লিপ্ত রয়েছে। তাই বিভিন্ন সময় নানা গজবের কথা আমরা শুনে থাকি। তন্মধ্যে অবাধে যৌন মিলনের কারণে মানুষ মহামারীতে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। অথচ তা থেকে সাবধানতায় পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তীও হইও না, নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৩২)। অবৈধ যৌনাচার ও ব্যভিচারকে মহামারীর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা প্রকাশ্যভাবে চলতে থাকে, তখন তাদের মধ্যে প্লেগ ও এমন অভিনব দুরারোগ্য ব্যাধি দেওয়া হয়, যা তাদের পূর্বপুরুষরা কখনো শোনেনি।’ (দায়লামি)।

নবী করিম (সা.) আরো বলেছেন, ‘যখনই কোনো জাতি বা সম্প্রদায় অশ্লীল ও ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হয়, তখন তাদের মধ্যে এমন এক ভয়ঙ্কর মহামারী দেখা দেয়, যা তারা অতীতে কখনো দেখেনি।’ (ইবনে মাজাহ্)। কোরআন ও হাদিসের উপরোক্ত ভবিষ্যদ্বাণী থেকে সুস্পষ্ট বোঝা যায় যে, ওই মহামারীই হলো এইডস। যা ছড়িয়ে থাকে নিম্নোক্ত কারণে। অবাধে যৌনমিলন বা দৈহিক সম্পর্কের কারণে এই মহামারী হয়, যা নারী-পুরুষের গভীর চুমু থেকেও হতে পারে! এমনটিই জানিয়েছেন ভারতীয় চিকিৎসকরা। অবৈধভাবে নারী-পুরুষ একে অপরকে গভীর চুমুর কারণে হারপিস, সিফিলিস, গনোরিয়ার সঙ্গে সঙ্গে এইডসের মতো মরণ রোগও ডেকে আনছে। [দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১ ডিসেম্বর ২০১৬]।

অবাধ যৌনাচারের কারণে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু মানুষ এ মহাপাপে লিপ্ত হচ্ছে। অথচ সমকামিতার কুফলে একটি প্রতিবেদনও পাওয়া যায়। সমকামী, বহুগামী ব্যক্তি এবং বাণিজ্যিক ও ভাসমান যৌনকর্মীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। [দৈনিক জনকণ্ঠ ১ ডিসেম্বর ২০১৭]। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা সুচ, সিরিঞ্জ, টুথব্রাশ ও ক্ষতসৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি যেমন- রেজর, ছুরি, ব্লেড, ক্ষুর, ডাক্তারি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ব্যবহার করলেও সুস্থ মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। [ভোরের কাগজ, ৬ মে ২০১৬]। যুব সমাজের মধ্যে নেশার আধিক্য এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণে এইডস রোগের প্রবণতা বাড়ে। [দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১ ডিসেম্বর ২০১৪]। সে কারণে গবেষণা করে দেখা যায় মানব দেহের চারটি তরল পর্দাথের মাধ্যমে এইচআইভি জীবাণু বেশি ছড়ায়। ১) রক্ত, ২) বীর্য, ৩) ভেজাইনাল ফ্লুইড এবং ৪) মায়ের দুধ। [দৈনিক ইনকিলাব ১ ডিসেম্বর ২০১৭]। তাই মরণব্যাধি এইডস থেকে বাঁচার উপায় হলো ধর্মীয় অনুশাসন। যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুশাসন মেনে চলতে হবে। বিবাহপূর্ব যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে হবে। শুধু বিশ্বস্ত একজন স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রাখতে হবে। [দৈনিক ইত্তেফাক, ১ ডিসেম্বর ২০১৪]। ঐশী বাণী হিসেবেও রয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরআনে“ ‘তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব, তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : ২৮)।

জাতিসংঘের দুটি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এবং ইউএএ এইডসের গবেষণায়ও প্রমাণ মিলেছে, পুরুষদের জননেন্দ্রিয়ের অগ্রভাগের চামড়ার আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এইচআইভি ভাইরাস বেশ ভালোভাবেই বাসা বাঁধে। সে চামড়া কেটে ফেললে এইডস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। [দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ, ৯ ডিসেম্বর ২০১৫]। পতিতালয় বন্ধ করে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করা উচিত। কেননা, পতিতালয়ে গিয়ে মানুষ যৌনকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। অথচ আল্লাহতায়ালা উপরের আয়াতে তা নিষেধ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ এই ব্যবসা করে জীবনযাপন করছে। রসুলুল্লাহ (সা.) জিনার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থকে হারাম করেছেন। কোনো কোনো মহিলা বলে, তারা কোনো কাজ না পেয়ে এ পেশা গ্রহণ করেছে। অথচ এটা হারাম। তাদের উচিত এ পেশা ছেড়ে অন্য হালাল পেশা গ্রহণ করা। সমাজের বিত্তবান লোকদের কর্তব্য হচ্ছে এদের ওই পেশা থেকে ফিরে আসার জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে জাকাতের অর্থ থেকে তাদর সহযোগিতা করা উচিত। [মাসিক আত-তাহরিক; মার্চ ২০১৩]।

আক্রান্ত মায়েদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিশুকে এইচআইভি থেকে রক্ষা করা। এইডস ঝুঁকিতে থাকা প্রত্যেক নারীর উচিত গর্ভধারণের পূর্বে তার রক্তে এইচআইভি আছে কি না তা জেনে নিয়ে সন্তান ধারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। এইচআইভি থাকলে সন্তান গ্রহণ না করাই শ্রেয়। তবে আক্রান্ত মা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যদি এআরভি-ট্রিটমেন্ট গ্রহণ করেন, তবে তিনি তার সন্তানকে এইচআইভি সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারেন। আবার শিশু জন্মের সময়, নাড়ি কাটার সময় অথবা জন্মের পর বুকের দুধের মাধ্যমে যেন এইচআইভি না ছড়ায় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। [দৈনিক কালের কণ্ঠ, ৩০ মার্চ ২০১৫]।

লেখক : আলেম, প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads