• মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫
ads
খেলা হোক উচ্ছ্বাস ও উৎসবের উপলক্ষ

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার

ছবি : ইন্টারনেট

ফিচার

খেলা হোক উচ্ছ্বাস ও উৎসবের উপলক্ষ

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ০১ জুলাই ২০১৮

পৃথিবীজুড়ে চলছে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা। ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই বিভিন্ন দেশের পক্ষ নিয়ে সমর্থকরা পতাকা ওড়াচ্ছেন। আলোচনায়, গল্পে, আড্ডায় ফুটবল আর ফুটবল। প্রিয় দলের সমর্থনে বাসার ছাদে উড়ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জামার্নিসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। অনেকে গায়ে জড়াচ্ছেন প্রিয় দলের জার্সি। দেয়ালে দেয়ালে চিকা মারছেন প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি আর স্লোগানে। ঘরের দেয়ালেও লাগিয়েছেন প্রিয় দলের বা খেলোয়াড়ের পোস্টার। ফেসবুকের ওয়ালজুড়ে তো ফুটবল বিশ্বকাপ আর সমর্থিত দলের গুণগানের শেষ নেই। এসবের মাধ্যমে যে বিষয়টির সবচেয়ে বেশি প্রমাণ পাওয়া যায়, সেটি হলো বাংলাদেশের মানুষের ফুটবল প্রেম। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় প্রিয় দলের প্রতি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অস্বাভাবিকতার অনেক কিছুই ঘটছে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা ও সমর্থক দলে বিভক্ত তরুণ সমাজের অযাচিত কর্মকাণ্ডে। এই খেলায় কেউ হারবে, কেউ জিতবে- এমনটিই স্বাভাবিক। এই হারজিত নিয়ে কেন নিজেদের মধ্যে প্রতিহিংসার বিদ্বেষ ছড়াবে! কেন অপর দল ও সমর্থকদের হেয় প্রতিপন্ন করতে হবে? এসবের কী মানে আছে। ফেসবুকে সমর্থকদের মধ্যে যেসব পোস্ট দিতে দেখা যায় তা খুবই ব্যক্তিত্বহানিকর, অপমানজনক, পারস্পরিক অশ্রদ্ধার তেজস্ক্রিয়তায় ভরপুর। খেলা দেখার সময় দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করাটাই বাস্তবতা। কিন্তু খেলা শেষেও সে উত্তেজনা নিজের বা অপরের প্রতি বিষোদ্গারে পরিণত হচ্ছে, যা খুবই লজ্জাজনক। তবে মাঝে মাঝে এই প্রতিযোগিতা অসুস্থ অবস্থায় গিয়ে পড়ে। এরূপ তর্ক-বিতর্ক জায়গা করে নেয় ব্যক্তিগত জীবনেও। কয়েক দিন আগেও দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে তর্ক থেকে কোপাকুপির মতো ঘটনা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে। এসব নিয়ে কথা হয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কয়েক তরুণের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আসফাক আলিফ জানালেন, বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা চরমে পৌঁছেছে, তবে এটা অনেকেই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যায়। এটা খুবই খারাপ।

ফুটবল নিয়ে অনেকসময় মারামারি পর্যন্ত হচ্ছে। সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। ফুটবল নিয়ে বা খেলাধুলা নিয়ে তরুণদের এই উন্মাদনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন কেউ কেউ। অনেকেই মনে করেন, তরুণরা খেলাধুলার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকলে মাদক গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ফাউজিয়া হক জানান, তিনি একটি ভিডিও দেখেছেন। যাতে দেখা যাচ্ছে, আর্জেন্টিনার ম্যাচ হারের পর দুজন তাদের গায়ের ওই দলের জার্সি ও পতাকা  পুড়িয়ে ফেসবুকে আপলোড করেছেন। এতে করে একটা দেশকে সন্মান করা, একটা দেশের পতাকাকে সন্মান করার ব্যাপারগুলো থেকে সিটকে পড়ছি আমরা। দলের হারের বা জয়ের পর ফেসবুক লাইভে এসে অন্য দলকে নিয়ে বাজে মন্তব্যও করছেন অনেকে। এ দলে আছে ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরাও। অনেকেই সস্তা লাইক কমেন্ট শেয়ারের আশায় প্রতিপক্ষ দলকে কটাক্ষ করে ভাইরাল সেনসেশন হওয়ার চেষ্টায় মত্ত।

ফুটবল একটি সামাজিক খেলা। একটি ভদ্র খেলা। এই খেলা নিয়ে যারা অভদ্র হয়ে ওঠে, তাদের মূল্যবোধের অভাব রয়েছে। তাই আপনার প্রিয় দল যাই-ই হোক সব দলের খেলোয়াড়দের সন্মান করুন। তর্কে জেতার খাতিরে কাউকে ছোট যেন না করা হয়, এমনটাই মনে করেন বেশিরভাগ তরুণ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান বলেন, এই বিশ্বকাপের জার্সি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। মেড ইন বাংলাদেশ জার্সি পরে খেলছেন বিশ্বখ্যাত তারকারা- বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলে না খেললেও এর চেয়ে গর্বের আর কী হতে পারে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads