• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান

সংরক্ষিত ছবি

ফিচার

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান

  • প্রকাশিত ০৩ জুলাই ২০১৮

রায়হান আহমেদ

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের দিগন্তজুড়ে গভীর বনাঞ্চল যেন মায়াবী হাতছানি দিয়ে পর্যটকদের ডাকছে। এ মায়াবী হাতছানি এড়িয়ে পর্যটকদের অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরানো প্রায় অসম্ভব। পর্যটকদের জন্য উদ্যানটি আরো আকর্ষণীয় করতে সংযোজন করা হয়েছে গাছের ওপর অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটির। যা দিয়ে চলে গাছে গাছে রোমাঞ্চ।  উদ্যানটিতে একবার গেলে বার বার যেতে ইচ্ছে করে। গভীর বনাঞ্চলে কয়েক বছরপূর্বে বিপুল পরিমাণ গোলা-বারুদ উদ্ধার করা হলে ভয়ে পর্যটক সংখ্যা কমতে থাকে। তবে সেই ভয় কাটিয়ে আবারো পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে।  সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক উদ্যান। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ/সংশোধন আইনের বলে ২৪৩ হেক্টর এলাকা নিয়ে ২০০৫ সালে ‘সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে সাতটি ছড়া বা ঝরনা আছে। সেখান থেকে এর নামকরণ হয়েছে সাতছড়ি। সাতছড়ির পূর্বের নাম ছিল ‘রঘুনন্দন হলি রিজার্ভ ফরেস্ট’। জাতীয় উদ্যানটি কয়েকটি চা বাগান, গ্রাম ও পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় এটি পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। উদ্যানটির আশপাশে ৯টি চা বাগান অবস্থিত হওয়ার কারণে পর্যটকরা আকৃষ্ট হচ্ছেন বেশি। উদ্যানের পশ্চিম দিকে সাতছড়ি চা বাগান এবং পূর্ব দিকে চাকলাপুঞ্জি চা বাগান অবস্থিত। এ ছাড়া এখানে রয়েছে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। যারা আদিবাসীদের ওপর নৃতাত্ত্বিক গবেষণা করতে চান, তারাও এখানে আসতে পারেন। কারণ সাতছড়িতে বাস করে প্রায় ত্রিশটি আদিবাসী ত্রিপুরা পরিবার। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে এলে আপনি হারিয়ে যাবেন প্রকৃতির স্বর্গরাজ্যে।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন, বৈচিত্র্যময়, বর্ণিল ও নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আধার পর্যটনকেন্দ্র। এটি দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র হতে বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্যে আলাদা। এখানে রয়েছে ১৯৭ প্রজাতির জীব। যার মধ্যে ১৪৯ প্রজাতির পাখি, ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৬ প্রজাতির উভয়চর প্রাণী। জাতীয় উদ্যানটি বহু সংখ্যক পাখির অভয়ারণ্য হওয়ায় এটি পাখি প্রেমিকদের কাছে স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। গহিন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়ার জন্য তিনটি ট্রেইল বা হাইকিং করা হয়েছে। তিনটির মধ্যে একটি তিন ঘণ্টার, একটি এক ঘণ্টার ও একটি আধা ঘণ্টার হাঁটা পথ রয়েছে। বর্তমানে দুটি টিকেট কাউন্টার রয়েছে। প্রবেশের টিকেটের মূল্য ১১৫ টাকা। পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে পর্যটন পুলিশ ও ইকো গাইড নিয়োগ করা হয়েছে। তা ছাড়াও আপনি পাহাড়ি ছড়া দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা দেখতে পাবেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাস করে বেশকিছু আদিবাসী সম্প্রদায়। সম্প্রতি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য চালু করা হয়েছে একটি পুলিশ বক্স। তা ছাড়াও রাত কাটানোর একটি ডরমিটরিও রয়েছে, যেখানে ২০ জন থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ব্যাপারে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বনকর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব স্থান এই উদ্যানটি। মাঝে পর্যটকের সংখ্যা কম থাকলেও আবারো বাড়তে শুরু করছে। বিশেষ করে অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটি পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads