• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
খবরের কাগজে সংসদ

এবারের আয়োজন গোপালগঞ্জ-১ আসন নিয়ে

ফিচার

গোপালগঞ্জ-১ আসন

খবরের কাগজে সংসদ

  • প্রকাশিত ২২ জুলাই ২০১৮

সংবিধান মতে, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জনগন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে তাদের প্রতিনিধি- যিনি মহান সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কথা বলবেন এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করবেন। দেশের সাধারন জনগনের নিজস্ব অনেক মতামত থাকে, যার সঠিক প্রতিফলন অনেক সময়ই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজেকর্মে প্রতিফলিত হয় না। সে কারণে সাধারণ জনগণ এবং বাংলাদেশের সব মানুষের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে আমাদের এক পাতা জুড়ে আয়োজন ‘খবরের কাগজে সংসদ’। রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি তৃণমূল থেকে সংবিধান প্রণেতাসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। এবারের আয়োজন গোপালগঞ্জ-১ আসন নিয়ে। পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও সম্পাদনায় আসিফ সোহান, সহযোগিতায় সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন, গ্রাফিক্স ডিজাইনে রাজিব ফেরদৌস

জাতীয় সংসদের ২১৫ নং আসন (গোপালগঞ্জ-১)

(আসনটি মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গঠিত)

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মভূমি হওয়ার কারণে গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী)  আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। ফলে এই আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে অন্য দলগুলোর চেষ্টা শুধু অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির তৎপরতা কমবেশি থাকলেও অন্য দলগুলোর তৎপরতা নেই বললেই চলে। নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এখানে বিজয়ী হন প্রবীণ রাজনীতিক প্রয়াত জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী আবদুল রশীদ। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে এই আসনে এমপি হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক বাণিজ্য এবং বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান। বিগত সময়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলার কারণে আসন্ন নির্বাচনেও ফারুক খান শক্তিশালী প্রার্থী। তবে স্থানীয় কমিটি গঠন নিয়ে কিছুটা সমালোচনা আসায় কেউ কেউ ভাবছেন নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রার্থী বাছাইয়ে এবার পরিবর্তন আসতে পারে। এক্ষেত্রে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা আগামী নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। বিএনপির টিকেট পেতে পারেন  জেলা বিএনপির সদস্য সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা সেলিমুজ্জামান সেলিম। জাতীয় পার্টি থেকে কাশিয়ানী উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল মান্নান শেখ মুন্নু এবং এ আসনে বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দীপা মজুমদারের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া মুকসুদপুর উপজেলা জাসদের (ইনু) সভাপতি আজম শরীফ, ইসলামী আন্দোলনের অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে।

Faruk Khan-bg20170526131912
নির্বাচন নিয়ে বিএনপি সব সময় অসত্য বলে

লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান

সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ

লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি- ১৯৫১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলাধীন বেজড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম সিরাজুল করিম খান (নান্না খান) এবং মা মরহুমা খালেদা করিম খান। শিক্ষা জীবনে মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগদান করে ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল কমিশন লাভ করেন। পাকিস্তান সামরিক একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েশন এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিফেন্স স্টাডিজে মাস্টার্স অর্জন করেন। দীর্ঘ ২৬ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করার পর ১৯৯৫ সালে লে. কর্নেল পদে কর্মরত থাকাকালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ থেকে এবং ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে কমান্ড এবং জেনারেল স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীতে একজন দক্ষ প্যারাট্রুপার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ডিসেম্বর মাসে কর্নেল ফারুক খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালে পালিয়ে এসে মুজিবনগর সরকারে যোগ দেন। ঢাকা কলেজে অধ্যয়ন করার সময় ছাত্রলীগের হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পদার্পণ। ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগদানের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে তার অভিষেক হয়। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফারুক খান চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, তিনি ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং ৭ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় প্রধানমন্ত্রী তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন। বর্তমান মন্ত্রিসভায় না থাকলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে ফারুক খানকে। গোপালগঞ্জ-১ (কাশিয়ানী-মুকসুদপুর) আসনের নির্বাচন বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন আসিফ সোহান

বাংলাদেশের খবর : সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আগামী নির্বাচন যথাসময়ে হবে কি হবে না— এ নিয়ে আপনার মনে কোনো সংশয় আছে?

মুহাম্মদ ফারুক খান : বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো সংশয় নেই এবং দেশের অধিকাংশ মানুষেরই কোনো সংশয় নেই। কারণ দেশ চলবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, আর সেই অনুযায়ীই সবকিছু চলবে। সুতরাং এখানে সংশয়ের কোনো কারণ নেই। তবে কিছুটা সংশয় আছে সব সময়ই। কারণ আমরা বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াত তথা ২০ দলীয় জোটের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড দেখেছি। আবারো যদি তারা সেই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড করে তাহলে সেটা ডিস্টার্ব হতে পারে, কিন্তু অতীতের মতো বাংলাদেশের জনগণ সেটা প্রতিহত করবে এবং সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশের খবর : আপনি বাণিজ্যমন্ত্রী ও পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী ছিলেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনে আপনার সময়ে কী কী ডেভেলপমেন্ট হয়েছে, যে কারণে আপনি আবার নির্বাচন করলে আবারো আপনাকে ভোট দেবে বলে মনে করেন?

মুহাম্মদ ফারুক খান : গত ২০ বছরে গোপালগঞ্জে আমার নির্বাচনী এলাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আমি যখন দায়িত্ব নিলাম, তখন এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ ছিল না। এলাকার ৫ শতাংশ বাড়িতেও বিদ্যুৎ ছিল না।  কিন্তু  আজ এলাকার শতকরা প্রায় ৯৯ ভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ সুবিধা রয়েছে। এক সময় আমার নির্বাচনী এলাকার মাত্র ৪টি ইউনিয়নে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা যেত, আর বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে গাড়িতে করে চলাচল করা যায়। স্থানীয় স্কুল এবং কলেজ দুটোই সরকারি করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এলাকার জনগণ উন্নয়নের ধারায় রয়েছে। আমার এলাকা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখানকার প্রতিটি খাল খনন করেছি যেন বন্যার সময় পানি সরে যেতে পারে এবং শীতকালের জন্য পানি সংরক্ষণ করা যায়। এ ছাড়া এলাকার প্রায় সব ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ করা হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখেছি। এসব কারণে আশা করি আগামীতেও তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।

বাংলাদেশের খবর : গত নির্বাচনে এলাকার বড় একটা ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে?

মুহাম্মদ ফারুক খান : না, সেই ব্রিজটার কাজ এখনো চলছে। এটা হচ্ছে জলির পাড়ের ব্রিজ। দুই দিকের সংযোগ সড়ক অংশের মাটির ব্যবস্থা না হওয়ায় দেরি হচ্ছে। কারণ এখন বালু পাওয়াটাও খুব কঠিন। এ ব্যাপারে ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আশা করি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের খবর : সম্প্রতি মিডিয়ায় একটা কথা এসেছে, গোপালগঞ্জ-১ আসনে প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি নির্বাচন করবেন ঢাকা-১৭ আসন থেকে। এরকম কোনো আলোচনা হয়েছে? 

মুহাম্মদ ফারুক খান : এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। তবে শেখ রেহানা যদি আমার নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচন করেন তাহলে আমি এবং আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি লোক তাকে স্বাগত জানাব।

বাংলাদেশের খবর : বর্তমানে আপনার নির্বাচনী এলাকা কাশিয়ানী এবং মুকসুদপুরে আর কী কী ডেভেলপমেন্ট পাইপলাইনে রয়েছে বা পরবর্তী সময়ে আপনি নির্বাচিত হলে করবেন বলে আশা করছেন?

মুহাম্মদ ফারুক খান : আমাদের এলাকায় এখন সবচেয়ে বড় যে কাজটি বাকি আছে সেটি হলো ভাঙ্গা থেকে ভাটিয়াপাড়া পর্যন্ত সড়কটিকে টু লেন থেকে ফোর লেনে উন্নীত করা। আশা করি এটি আগামী বছর ফোর লেন হয়ে যাবে। এ ছাড়া ভাটিয়াপাড়া থেকে টুঙ্গিপাড়া ও পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন জরুরি ছিল। আমার এলাকা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি অংশের কাজ চলছে। আশা করি আগামী বছরের মধ্যে এটিও সম্পন্ন হবে। 

বাংলাদেশের খবর : এবার একটু পেছনে ফিরে যাই, আপনি এক সময় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের বিমান খাতটাকে এত চেষ্টা করেও কেন প্রফিটে নেওয়া যাচ্ছে না?

মুহাম্মদ ফারুক খান : বিমান প্রফিটে নেই, কথাটা সত্য নয়। বিমান প্রফিটে আছে। তবে যে পরিমাণ প্রফিট আমরা আশা করি সেই পরিমাণ প্রফিটে নেই। বিমানের ভেতরে থাকা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ লাভ হচ্ছে না এবং কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবাও তারা দিতে পারছে না। তবে বিমান লোকসানে আছে, এ কথা সত্য নয়।

বাংলাদেশের খবর : আচ্ছা, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে বলে মনে করেন?

মুহাম্মদ ফারুক খান : আমি মনে করি এবং বিশ্বাস করি, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কারণ বিএনপি যদি গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ফল পর্যালোচনা করে তাহলে দেখতে পাবে তাতে করে তারা নিজেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের গণতন্ত্রের ও দেশের জনগণের। তাছাড়া যখনই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে তখনই তাদের লাভ হয়েছে। যেমন, তারা যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কুমিল্লার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে তাতে তাদের লাভ হয়েছে। এই বাস্তবিক অবস্থাগুলো বিবেচনা করে তারা যদি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে তারা অবশ্যই লাভবান হবে বলে মনে করি।

বাংলাদেশের খবর : বিএনপির কট্টরপন্থি যারা আছেন, তারা কি খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে মনে করেন?

মুহাম্মদ ফারুক খান : বিএনপির কোনো নেতা কিন্তু এ কথা বলেননি, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। তারাও বলছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কিছুদিন আগে মির্জা ফখরুল লন্ডন থেকে ফিরে এসেও বলেছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। অবশ্য তারা নির্বাচনে আসবে না— এমনটি না বললেও নির্বাচন নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছে। তবে এটা তাদের নির্বাচনী কৌশলও হতে পারে।

বাংলাদেশের খবর : কিন্তু গাজীপুরে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর তারা বলছে, গাজীপুর নির্বাচন ফেয়ার হয়নি। কাজেই বর্তমান নির্বাচন কমিশন এবং সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন নির্বাচন করলে এই নির্বাচন ফেয়ার হবে না, তাই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো লাভ নেই...

মুহাম্মদ ফারুক খান : এ ধরনের কথা বিএনপি কিন্তু আজকে নয়, সব সময়ই বলছে। কুমিল্লা নির্বাচনের সময় তারা বলেছিল নির্বাচন সঠিক হচ্ছে না। এমনকি নির্বাচনের দিন দুপুরেও বলেছিল নির্বাচনে কারচুপি হচ্ছে এবং আমরা এই নির্বাচন ও ফল মানি না। কিন্তু রাত ৮টায় যখন দেখা গেল বিএনপি জিতেছে তখন তারা বলেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একই কথা তারা খুলনা নির্বাচন নিয়ে বলেছিল, যদিও তাদের কাউন্সিলরদের কোনো অভিযোগ ছিল না। আসলে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি সব সময় অসত্য বলে এবং বাংলাদেশের মানুষ তা জানে।

 

IMG_6163

আমার প্রতিদ্বন্দ্বী এলাকার নয়, কিছু নেতার ভাগ্যোন্নয়ন করেছেন

সেলিমুজ্জামান সেলিম

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, নির্বাহী কমিটি, বিএনপি

মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম- গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুরের মাঝিগাতি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য। দায়িত্ব পালন করেছেন যুবদলের সহ-সভাপতি, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে। ঢাবিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির পর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন ১৯৮৭ সালে। ঢাবির শিক্ষা শেষে সিনেট সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছাত্ররাজনীতিতে থাকাবস্থায় লড়েছেন স্বৈরাচারী সেনাশাসকের বিরুদ্ধে। অতঃপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াই করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিপরীতে। বিজয়ী না হলেও স্থানীয় সংগঠনকে করে তুলেছেন আরো বেশি গতিশীল ও শক্তিশালী। হামলা-মামলার শিকার হয়ে কারাবাসে ছিলেন দীর্ঘ সময়। তার নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনের সমস্যা, সম্ভাবনা, নিজ দলের সফলতা-ব্যর্থতাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশের খবরের সিনিয়র রিপোর্টার আফজাল বারী

বাংলাদেশের খবর : সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরে নির্বাচন। দল আপনাকেই মনোনয়ন দিচ্ছে?

সেলিমুজ্জামান সেলিম : কিছুই ঠিক নেই, সবই এলোমেলো। নির্বাচন নিয়েই চরম শঙ্কা। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকলে জনগণ দেশে কোনো নির্বাচনই হতে দেবে না। আমার বক্তব্য হলো, যে নির্বাচনে খালেদা জিয়া নেই, সে নির্বাচনে আমিও নেই। আশা করছি নির্বাচনের পরিবেশ হলে এবারো ধানের শীষ হাতে পাব, নির্বাচিতও হব।  

বাংলাদেশের খবর : বলছেন ম্যাডাম বন্দি থাকলে নির্বাচনে যাবেন না। যদি তিনি বন্দিদশায় নির্বাচনে যান তাহলে?

সেলিম : আমার দৃঢ় বিশ্বাস ম্যাডাম মুক্ত হবেন। তার নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমেই দলনিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা হবে, ওই সরকারের অধীনে ভোট হবে, আমরা অংশ নেব। দৈবক্রমে তাকে যদি বন্দিদশায় থাকতে হয়, সেখান থেকেই দিকনির্দেশনা দেবেন তিনি। সেটাই বাস্তবায়িত হবে।  

বাংলাদেশের খবর : দলনিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের কথা বলছেন। তার আগে তো খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন। কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে চলমান আন্দোলন নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

সেলিম  : আন্দোলন আরো জোরালো এবং কৌশলের প্রয়োজন আছে। মিথ্যা, সাজানো মামলায় সরকার যে দণ্ড দেবে, খালেদা জিয়াকে বন্দি করবে- এটা নেতাকর্মীদের কল্পনায়ও ছিল না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী বলেই ম্যাডাম বার বার শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু আন্দোলনের কথাই বলেছেন। আমি মনে করি, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সফলতা আসবে না। সত্যি বলতে আমাদের ব্যর্থতা আছে। দলের কাণ্ডারি কয়েক মাস হলো জেলে, সরকার চিকিৎসা দিচ্ছে না, মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, অথচ আমরা নেতাকর্মীরা ব্যবসা-বাণিজ্য, সপরিবারে সব ধরনের ভোগবিলাসিতায় মত্ত আছি আগের মতোই। এটা প্রত্যাশিত নয়। হ্যাঁ, ম্যাডামের মুক্তি না মিললে নিরপেক্ষ সরকারও মিলবে না-এটাও পরিষ্কার। এজন্যই খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা, ঐক্যবদ্ধ ও কৌশলের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের খবর : আন্দোলন হচ্ছে না কেন?

সেলিম : আপাতত ম্যাডামের নির্দেশনার কারণেই নেতাকর্মীরা অহিংস অবস্থানে আছে। সাধারণ মানুষের প্রতি সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর কতিপয় সদস্যের সশস্ত্র-যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিরস্ত্র মানুষকে হতবাক করে তুলেছে। সরকারের ফ্যাসিস্ট আচরণে মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী টমাস উইলিয়াম এদেশে এসে আইনি লড়াই করেছেন, কিন্তু ম্যাডামের আইনজীবী লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইলকে এদেশে আসার অনুমতিই দেওয়া হচ্ছে না। এটা জাতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়।

আমরা নব্বইয়ের আন্দোলনে ১৪৪ ধারা ভেঙেছি, এখন তা পারছি না, কেন? তবে এটা তো বুঝতে হবে, তখন পুলিশ এভাবে পাখির মতো মানুষ মারত না, বুকে গুলি, গুম-খুন করত না। রাজনীতিবিদদের অন্তত একটা ন্যূনতম মূল্যায়ন ছিল। নূর হোসেন ও ডা. মিলনের প্রাণের বিনিময়ে এরশাদ সরকারের পতন ঘটেছে। বর্তমানে অগনিত নূর হোসেনের লাশেও সরকারের রক্তপিপাসা মিটছে না। অতীতে রাজপথে পুলিশের লাঠিচার্জে নেতাকর্মীরা খুব বেশি হলে আহত হতো; এখন নিশ্চিত গুলি, স্পটেই নিহত। এখন দাগী আসামির মতো রাজনীতিবিদদের ধরে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। গুম, খুনের তালিকা দীর্ঘ, হামলা-মামলার সংখ্যা অগণিত। এসব জেনে কেউ পরিবারের কাউকে হারাতে চায় না। তবে সময় বদলাবে, আন্দোলনও হবে। এই সরকারের পতন ঘটবেই, ইনশাআল্লাহ। 

বাংলাদেশের খবর : আপনার নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে বলুন।

সেলিম : গোপালগঞ্জ। প্রধানমন্ত্রীও এই জেলার বাসিন্দা। বোঝেনই তো, সারা দেশের তুলনায় এখানকার পরিস্থিতি ত্রিশঙ্কু। ২০১৪ সালের আগে এলাকায় অন্তত মিছিল, মিটিং করা যেত। এখন ঘরোয়া সভাও করতে দেওয়া হয় না। মৃত্যুবার্ষিকী আর জানাজা ছাড়া কিছুই করতে দেওয়া হয় না। জানাজাও হয় পুলিশ কর্ডনে। দলের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীরাও মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। নিজ ঘরবাড়ি যেন অপরিচিত হয়ে যাচ্ছে। রাত-বিরাতে পোস্টার লাগালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজ দায়িত্বে তা ছিঁড়ে ফেলে। মাঝেমধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত হই-আসলে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কে? পুলিশ না আওয়ামী লীগ? 

বাংলাদেশের খবর : ২০০৮ সালের নির্বাচনে তো আপনার জামানত বাজেয়াফত হয়েছিল। ভরাডুবির নেপথ্যের কী কারণ ছিল?

সেলিম : ওই নির্বাচনটা ছিল ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন সরকারের নীল-নকশার খণ্ডচিত্র। কেন্দ্রে এজেন্ট থাকতে দেয়নি, ভোটারদের ভীতিপ্রদর্শন আর পুলিশ-আওয়ামী লীগ মিলে নৌকায় সিল মেরেছে। আমার প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয়েছে মাত্র ১০ হাজার। একাধিক সিল দেওয়ার কারণে ভোট বাতিল দেখানো হয়েছিল ৬ হাজার। কিন্তু হিসাব করে দেখুন এই আসনে আমাদের নেতার সংখ্যা কত। সমর্থক বা সাধারণ ভোটার তো বাদই দিলাম। এমন নজিরও আছে, কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যার চেয়ে কাস্ট হয়েছে বেশি। এ সবই ছিল আয়োজনের অংশ। দ্বিতীয়ত, আমি প্রার্থী হিসেবে নতুন ছিলাম। যুব রাজনীতি থেকে সরাসরি সংসদ সদস্যপদে লড়াই করেছি, প্রচারের সময়ও তেমন একটা পাইনি। ভোট ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো সংগঠন ছিল না। তবে উপজেলা নির্বাচনে দুই উপজেলা চেয়ারম্যানই আমাদের দলের লোক বিজয়ী হয়েছেন। 

বাংলাদেশের খবর : আপনার দলের প্রধান তো বলেছেন গোপালগঞ্জের নামই মানুষ বদলে দেবে। তাহলে ভোটে গোপালগঞ্জবাসীর মনোভাব কী? এবারো তো একই ব্যক্তির সঙ্গে লড়াই করতে হবে। প্রস্তুতি কী?

সেলিম : ভাবছিলাম গোপালগঞ্জকে সোনায় মুড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে কোনো উন্নয়নই হয়নি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী শুধু তার দলের কিছু নেতার ভাগ্যের উন্নয়ন করেছেন। তার দলের অনেক নেতাই বঞ্চিত। তিনি তাদের চেনেনও না, সাধারণ মানুষের কথা তো বাদই দিলাম। এবার আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। প্রস্তুতিটাও তেমনই। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় শক্তিশালী সংগঠন আছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে সাহসী এজেন্ট নিয়োগ এবং জনগণ থেকে প্রাপ্ত ভোটের নিরাপত্তা দিতে পারব। আমি নিজেও প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যাতায়াত করছি। বাস্তবতা হলো, মানুষ জীবনের নিরাপত্তার জন্য মুখে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে, সুযোগ পেলে ঠিকই ধানের শীষে ভোট দেবে।

বাংলাদেশের খবর : যদি নির্বাচন জোটভুক্ত না হয়, তাহলে ফল কেমন হতে পারে বলে মনে করেন?  

সেলিম : জোটভুক্ত দলসমূহের শীর্ষ পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে দরকষাকষি থাকলেও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের আন্তরিকতা জোটের লাইফ লাইন। গত এক যুগে তৃণমূল কর্মীরা যারপরনাই নিপীড়িত। তাদের দাবির মুখে শেষপর্যন্ত জোটবদ্ধ নির্বাচন হবে বলে আশা করি। সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই।

বাংলাদেশের খবর : নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি আপনার প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি কী?

সেলিম : মাদকের অবাধ সরবরাহে এলাকার ছাত্র-যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। শিক্ষা, গ্রামীণ যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে আমি সর্বাধিক গুরুত্ব দেব। রাস্তাঘাট নির্মাণ ও উন্নয়নে সচেষ্ট থাকব। এলাকাবাসীর কাছে আহ্বান- মাদকমুক্ত, রাজনৈতিক সহাবস্থানের নিরাপদ মুকসুদপুর-কাশিয়ানী গড়তে আমাকে সহযোগিতা করুন, ধানের শীষে ভোট দিন, আমি এলাকার সন্তান হিসেবে আপ্রাণ চেষ্টা করব।

regular_3056_news_1532193314

গোপালগঞ্জে নির্বাচনকে যেন পণ্যে পরিণত  করা না হয়

দীপা মজুমদার

ভাইস প্রেসিডেন্ট, কেন্দ্রীয় কমিটি, জাতীয় কৃষক পার্টি, জাপা

 

বাংলাদেশের খবর : আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কি এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে নাকি জোটভুক্ত থেকে নির্বাচন করবে?

দীপা মজুমদার : এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। কারণ বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আমাদের কৌশল হবে এক রকম আর অংশগ্রহণ না করলে তখন কৌশল হবে ভিন্ন। তার মানে এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর সময়ের ওপর নির্ভর করছে।

বাংলাদেশের খবর : আপনার নির্বাচনী এলাকায় (গোপালগঞ্জ-১) এ মুহূর্তে কী কী সমস্যা রয়েছে বলে মনে করেন?

দীপা মজুমদার : রাস্তাঘাটের যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। তবে নারীশিক্ষা ও নারীর উন্নয়ন বলতে সত্যিকার অর্থে যা বোঝায়, তা খুব বেশি হয়নি। স্কুল-কলেজের উন্নয়ন একেবারেই হয়নি। স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও কম। শিবপুরে যে হাসপাতালটি আছে, সেখানে গেলে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। হাসপাতালের অবস্থা একেবারেই নোংরা। নার্স নেই, মেশিনপত্র নষ্ট হয়ে আছে।

বাংলাদেশের খবর : নির্বাচিত হলে কোন বিষয়গুলোয় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেবেন?

দীপা মজুমদার : আমি নির্বাচিত হলে বিশেষ করে নারীর উন্নয়নে যা যা করতে হয়, তা-ই করব। কারণ এসব বিষয়ে কেন জানি কোনো সরকারই তেমন একটা গুরুত্ব দেয় না। তাই আমি সাধ্যানুযায়ী যতটুকু পারি, সমাধানের চেষ্টা করব। আবার এ কথাও সত্য, হাসপাতালে যে সমস্যা, সেগুলো স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য অবশ্যই সরকারের পদক্ষেপ জরুরি। বলতে হয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান হওয়ার কারণে এই এলাকায় উন্নয়ন যা কিছু হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে হয়েছে। অন্য কোনো মন্ত্রী বা এমপির কারণে উন্নয়ন হয়নি।

বাংলাদেশের খবর : এলাকার জনগণের প্রতি আপনার প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি কী?

দীপা মজুমদার : তাদের কাছে আমার দাবি হচ্ছে, রাজনীতিকে যেন তারা কুক্ষিগত করে না রাখে। দল বিবেচনায় নয়, বরং তারা যেন ব্যক্তি বিচারে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। কারণ তা না হলে একজন ভালো মানুষের পক্ষে নির্বাচিত হওয়া সত্যিই কঠিন। আরো বলতে চাই, সারা দেশে রাজনীতি মানে মনোনয়ন পণ্য হলেও বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমিতে যেন তা না হয়। আমার এলাকার জনগণ যেন পণ্য কেনাবেচার পাশে না দাঁড়ায়। কোনোভাবেই ভোটকে যেন পণ্যে পরিণত করা না হয়।

বাংলাদেশের খবর : এই আসনে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী ও বর্তমান এমপি মুহাম্মদ ফারুক খান। যিনি একসময় মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তো আলাদাভাবে নির্বাচন করলে তার বিপরীতে...

দীপা মজুমদার : এক্ষেত্রে আমি শতভাগ ভোট পাব বলব না, তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি আশি ভাগ ভোট পাব বলে বিশ্বাস করি। কারণ সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ চায়, রাজনীতিতে পরিবর্তন চায়।

বাংলাদেশের খবর : অনেকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান ও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রার্থীকে বাধা দেওয়া হয় বা এগোতে দেওয়া হয় না, যেমনটি বিএনপির এক প্রার্থীও অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

দীপা মজুমদার : না। এগোতে দেওয়া হয় না, কথাটি ঠিক নয়। আসলে অন্য মতাদর্শের প্রার্থীরা নিজেরাই দলবল নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে না।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads