• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
খবরের কাগজে সংসদ (ঢাকা-২)

সাভার-কেরানীগঞ্জ-কামরাঙ্গীরচর এলাকা নিয়ে গঠিত হয় ঢাকা-২ আসন

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

খবরের কাগজে সংসদ (ঢাকা-২)

  • প্রকাশিত ২৯ জুলাই ২০১৮

জটিল নির্বাচনী সীমানার সংসদীয়  আসন ১৭৫ (ঢাকা-২)

বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের সরকার। জনগণই যেখানে সব ক্ষমতার উৎস। সংবিধানমতে, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জনগণই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে তাদের প্রতিনিধি। যিনি মহান সংসদে দাঁড়িয়ে নির্বাচিত এলাকার জনসাধারণের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কথা বলবেন এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। দেশের সাধারণ জনগণের নিজস্ব অনেক মতামত থাকে, যার সঠিক প্রতিফলন অনেক সময়ই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজেকর্মে প্রতিফলিত হয় না। সে কারণে সাধারণ জনগণ এবং বাংলাদেশের সব মানুষের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে আমাদের এক পাতা জুড়ে আয়োজন ‘খবরের কাগজে সংসদ’। এখানে রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতাকর্মীর পাশাপাশি কথা বলবেন তৃণমূল থেকে শুরু করে সংবিধান প্রণেতাসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিরা, যাদের অনেকেই হয়তো কোনোদিনই মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দেশ ও জনগণের সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা বলার সুযোগ পাবেন না। তাদের কথা তুলে ধরার লক্ষ্যেই ঢাকা-২ আসন নিয়ে এবারের আয়োজন। সহযোগিতায় সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন, গ্রাফিক্স ডিজাইন রাজিব ফেরদৌস, পরিকল্পনা গ্রন্থনা ও সম্পাদনা আসিফ সোহান-

এক নজরে ঢাকা-২ আসন

কেরানীগঞ্জের ৭টি ইউনিয়ন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ৭টি ইউনিয়ন, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের কামরাঙ্গীরচর থানার ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ ওয়ার্ড এবং সাভার থানা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ১৭৫ (ঢাকা-২)

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত শুধু কেরানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ছিল একটি আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে কেরানীগঞ্জ উপজেলাকে দুই ভাগ করে দুটি আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে করা হয় ঢাকা-৩ আসন। আর বাকি সাতটি ইউনিয়ন, সাভার উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন এবং ডিএসসিসির ৫৫, ৫৬, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-২ সংসদীয় আসন ১৭৫ (সাভার-কেরানীগঞ্জ-কামরাঙ্গীরচর এলাকা) গঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আমান উল্লাহ আমানকে পরাজিত করে ঢাকা-২ আসনের এমপি হন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতনির্বাচনেও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারো সংসদ সদস্য হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে হেভিওয়েট ও বর্তমান সাংসদ ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এলাকায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ, জাতীয় পার্টির মো. শাহজাহান ও শাকিল আহম্মেদের নাম শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য আলোচিত প্রার্থীদের নিয়ে এবারের আয়োজন

regular_3140_news_1532790329

অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও আইন শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ঢাকা বারে যোগদানের মাধ্যমে আইন পেশা শুরু করেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ঢাকার পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন  করেন। ২০০৮ সালে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলা এবং ১/১১ পরবর্তী সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ভারতের দেরাদুনে বিএলএফের প্রথম ব্যাচে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে ফিরে যুদ্ধে অংশ নেন। ২০০৮ সালে ঢাকা-২ আসন (সাভার-কেরানীগঞ্জ-কামরাঙ্গীরচর এলাকা) থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির আমান উল্লাহ আমানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় সংসদ সদস্য হন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা-২ আসনের নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের খবরের বিশেষ প্রতিনিধি আসিফ সোহান-

 

বাংলাদেশের খবর : বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন কোন দিকে যাচ্ছে?

কামরুল ইসলাম : আমি মনে করি সবকিছু ঠিকভাবেই যাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতি দুটি শিবিরে বিভক্ত। একটি প্রো-লিবারেশন ফোর্স, একটা অ্যান্টি-লিবারেশন ফোর্স। প্রো-লিবারেশন ফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ, অ্যান্টি-লিবারেশন ফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি। এটা পরিষ্কারভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। আমি যেটা সব সময় পত্রিকায়ও বলি। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার করেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মূল্যবোধ,স্বপ্নগুলোও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন যেটা তা হচ্ছে- দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষের শক্তির বিভাজন রয়েছে। এই বিভাজন যতক্ষণ পর্যন্ত খতম করা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশ স্থিতিশীল হবে না। আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবে, বিরোধী দলেও থাকবে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি। দ্বিতীয় বিরোধী দল, তৃতীয় বিরোধী দলও থাকবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করতে না পারলে বা এই বিভাজনটা শেষ হবে না, দেশের রাজনীতিতে সৌন্দর্য, স্থিতিশীলতা,শান্তি ও  সৌহার্দ্য আসবে না।

বাংলাদেশের খবর : এলাকায় কী কী উন্নয়ন করছেন যে জনগণ আপনাকে ভোট দেবে?

কামরুল ইসলাম : আমার নির্বাচনী এলাকার মতো কমপ্লিকেটেড নির্বাচনী এলাকা বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। কেরানীগঞ্জের ৭টি ইউনিয়ন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ৭টি ইউনিয়ন, কামরঙ্গীরচর থানার ঢাকা সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ড, সাভার থানার ইউনিয়ন নিয়ে এই আসন। সাভার ভাকুর্তা থেকে মোহাম্মদপুর আমি একটি রাস্তা করে দিয়েছি যেখানে আগে লাগত দুই ঘণ্টা, এখন সেখানে লাগে পনের-বিশ মিনিট। ২০০৮ সালে যখন আমি নির্বাচন করি, তখন সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নসহ অনেক এলাকায় আমি গাড়ি নিয়ে যেতে পারিনি। হেঁটে যেতে হয়েছে। এখন রাস্তাঘাট করে দেওয়ার কারণে আল্লাহর রহমতে এখন গাড়ি নিয়ে যেতে পারি। সাভারের তেঁতুলঝড়া কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমি বিল্ডিং করে দিয়েছি যেগুলো টিনের ঘর ছিল এবং আমার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-২-এর স্কুল-কলেজ মিলে সাতটিকে এমপিও ভুক্ত করেছি এবং প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের নতুন বিল্ডিং করেছি বা ভারটিক্যাল এক্সটেনশন হয়েছে, কিছু চলমান আছে। আমিই যখন নির্বাচন করি কামরাঙ্গিরচর একটা ইউনিয়ন ছিল সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন, এখন কামরঙ্গীরচর সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ড ৫৫, ৫৬ ও ৫৭। রাস্তাঘাটের ড্রেনেজ সিস্টেম আমি মাটির নিচ দিয়ে করে দিয়েছি এখন বৃষ্টি হলে সচিবালয়ে পানি উঠে গেলেও কামরাঙ্গীরচরে পানি জমে না।

বাংলাদেশের খবর : এখন আপনার নির্বাচনী এলাকায় আর কী কী ডেভেলপমেন্ট হওয়া দরকার বা জনগণের মূল অসুবিধা কী বলে মনে করেন?

কামরুল ইসলাম : রাস্তাঘাট আরো কিছু হওয়া উচিত। কেরানীগঞ্জের দুই একটি রাস্তাঘাট এখনো বাকি আছে। যেটা দ্রুত হওয়া উচিত। কেরানীগঞ্জে, কামরাঙ্গীরচরে হাসপাতাল হয়েছে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট। সাভারের আমিন বাজারেও একটা নতুন হাসপাতাল হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, এত সুন্দর সুন্দর বিল্ডিং করেছি, ইকুইপমন্টে পাচ্ছি, এক্সরে মেশনি পাচ্ছি, অথচ ম্যান-পাওয়ারের জন্য হাসপাতালগুলো  পুরোদমে চালু হচ্ছে না। আমি নিজে এর ভুক্তভোগী। এই যে সংস্থাপন,জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সঠিক ম্যান-পাওয়ার দেয় না, এর জন্য আমাদের খুব ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আমি জানি এ কথাগুলো বলছি আমার বিরুদ্ধেই যাচ্ছে । কিন্তু তারপরও একজন মন্ত্রী হিসেবে আমি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করব, এদিকে একটু নজর রাখবেন। এত অর্থ ব্যয়ে এত সুন্দর সুন্দর বিল্ডিং হবে, যন্ত্রপাতি আসবে  কিন্তু এগুলো পরিচালনা করার মতো লোকবলের অভাবে যন্ত্রপাতিগুলো পড়ে পড়ে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে, আউটডোর চলছে, এক্সরে মেশিনটা চালানোর লোক নেই।  নার্স আছে, ডাক্তার আছে, ফোর্থ ক্লাস এমপ্লয়ি নেই সারা বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোরই একই চিত্র।  কোনো কোনো জায়গায় নার্সও দেওয়া হয় না।, এটা পরিবর্তন যদি না হয়, তাহলে এই ডেভেলপমেন্টের কোনো লাভ নেই। জনগণের কাছে এই উন্নয়নের কোনো দাম নেই।

বাংলাদেশের খবর : এলাকায় আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আমানউল্লাহ আমান কতটুকু শক্ত অবস্থানে আছে বলে আপনি মনে করেন? 

কামরুল ইসলাম : বিএনপির আমানউল্লাহ আমানের একসময় কেরানীগঞ্জে দুর্দান্ত আধিপত্য, প্রতাপ ছিল। মন্ত্রী ছিলেন দুইবার। দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ এমপি ছিলেন কেরানীগঞ্জে। কিন্তু সেই প্রতাপটা এখন নেই। সাভার তো তার কাছে নতুন। সাড়ে ৯ বছর যাবত আমি সাভারকে নার্সিং করছি, আমার এলাকা। আর সে নতুন। আর কামরাঙ্গীরচর তো আমার নিজের এলাকা। কামরাঙ্গীরচর একসময় লালবাগের সঙ্গে ছিল। আমি লালবাগের মানুষ, জন্ম আমার লালবাগে। দীর্ঘ ৪০-৪৫ বছর আমি ঢাকা সিটির রাজনীতি করছি। কামরাঙ্গীরচর যেহেতু সিটির সঙ্গে, ইউনিয়ন যখন ছিল তখনো সিটির সঙ্গে, এখন তো ওয়ার্ড হয়েছে। কাজেই কামরাঙ্গীরচর তো আমারই। সুতরাং আমানউল্লাহ আমান আমার প্রতিপক্ষ হলেও আমি মনে করি না এখন যে এলাকার বিভাজন, তাতে কি তিনি আমার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারবেন।

বাংলাদেশের খবর : মাদক নির্মূলে সরকারের অভিযান চলছে সারা দেশে,এক্ষেত্রে আপনার মতামত কী? 

কামরুল ইসলাম : মাদকের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে জিরো টলারেন্স নীতি, যে অভিযান এখন চলছে, আমি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে, আওয়ামী লীগের একজন নেতা হিসেবে বা সাধারণ মানুষ হিসেবে এটাকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করি। কারণ আমার নির্বাচনী এলাকা সাভারের আমিনবাজারে ২-৩ বছর আগে ৭টা মার্ডার হয়েছিল খেয়াল আছে আপনার। শবেবরাতের রাতে তারা সাভার এসেছিল মোহাম্মদপুর থেকে মদ খেতে। এ বিষয়টি কিন্তু পত্রপত্রিকায় আসেনি। আমি এই ঘটনার নিন্দা করি, ঘটনার বিচার চাই। কিন্তু যেই ছেলেগুলো মদ খাওয়ার জন্য শবেবরাতের রাত্রে এলো, তাদের পরিবারকে তো সতর্ক করতে হবে। ঐশীর কথা খেয়াল আছে! একজন পুলিশ অফিসারের মেয়ে। সে তার বাবা-মাকে হত্যা করেছে। আমার আত্মীয়ের মধ্যেই একজন বাবাকে হত্যা করেছে মাদকের টাকার জন্য। পত্রপত্রিকায় প্রায়ই দেখা যায় বাবাকে, মাকে হত্যা করেছে। মাদক এবং অস্ত্র এসব নির্মূল হওয়া উচিত। যেভাবে জঙ্গি নির্মূল হয়েছে, সেভাবেই মাদক নির্মূল হওয়া উচিত—এটা আমি বিশ্বাস করি। এখানে এনকাউন্টার যেটা এটা তো ঘটনাচক্রে আসছে। অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে, তখনই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটছে। কাজেই কিছু কিছু হবেই। কিন্তু তারপরও এর একেবারে নির্মূল করা উচিত।

regular_3140_news_1532790348

যে এলাকায় আঁধারে সম্বল ছিল কুপিবাতি সেখানে এখন বিদ্যুৎ, চলাচলে ধানক্ষেতের আইল থেকে সড়ক-মহাসড়ক এবং রাজধানীর পাশে আরেকটি শহরে উন্নীত হয়েছে। স্কুলজীবন থেকেই এই উন্নয়ন স্বপ্ন ছিল তার। যিনি স্বপ্ন বাস্তবায়নের সিঁড়ি হিসেবে নিয়েছিলেন রাজনীতিকে। স্কুল ক্যাপ্টেন হিসেবে নেতৃত্বের শুরু। আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ছাত্রদলের সদস্য থেকে এখন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। ’৯০-এ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসের পাতায় যিনি নাম লিখিয়েছেন, তিনি সর্বজন পরিচিত আমান উল্লাহ আমান। জন্মগ্রহণ করেন কেরানীগঞ্জে। ওই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন চারবার। সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য  ও শ্রম মন্ত্রণালয়সহ তিনটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন বিরোধী দলের হুইপও। সমসাময়িক রাজনীতি, রাজনৈতিক সফলতা, ব্যর্থতা এবং বিএনপির চলমান আন্দোলনসহ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক বাংলাদেশের খবরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার আফজাল বারী

বাংলাদেশের খবর : রাজনীতি বেছে নেওয়ার পেছনে কী কারণ?

আমান উল্লাহ আমান : নিজে থেকেই আগ্রহী হই। লেখাপড়ার শুরু ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে। কেরানীগঞ্জ থেকে যাতায়াত করতাম ধানক্ষেতের আইল ধরে। আমাদের উপজেলা রাজধানী থেকে বিচ্ছিন্ন, অবহেলিত ছিল। নদী ছিল ব্রিজ ছিল না, বিদ্যুৎ ছিল না, কুপিবাতির আলোয় লেখাপড়া করতাম। তখন থেকেই মনে মনে ভাবতাম আল্লাহ যেন এলাকার উন্নয়ন এবং দেশসেবার জন্য কাজ করার সুযোগ দেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নে তো সিঁড়ি দরকার। এ চিন্তা থেকেই বেছে নিয়েছি রাজনীতি।

বাংলাদেশের খবর : আপনার রাজনীতির সিঁড়ি সম্পর্কে বলুন-

আমান উল্লাহ আমান : স্কুল ক্যাপ্টেন এবং ঢাকা কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান ছিলাম। রাজনৈতিক জীবন শুরু ’৭৯-এর ১ জানুয়ারি। ওইদিন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলাম। ঢাবির জসীমউদদীন হল ছাত্রদলের ক্রীড়া, সমাজসেবা সম্পাদক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পরে ঢাকসুর ভিপি নির্বাচিত হলাম। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আহ্বায়কের সময়েই বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই। পরে ছাত্রবিষয়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব থেকে বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে আছি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর ১৯৯১-৯৬ সালে কেরানীগঞ্জের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০১ সালে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। 

বাংলাদেশের খবর : ’৯০-এ আন্দোলনে সফল ছিলেন এখন পারছেন না কেন? 

আমান উল্লাহ আমান : তখনকার প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিকভাবে ‘স্বৈরাচার’খ্যাত, এরশাদ ছিল দেশীয় স্বৈরাচার। এ সরকার মানুষের ওপর গুলি চালাতে কুণ্ঠাবোধ করে না। হামলা-মামলা দিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে। মাহমুদুর রহমান ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর কী ধরনের নির্যাতন হলো বিশ্ব দেখেছে। যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী নিরাপত্তা দেবে তারাই গুলি চালায়। পুলিশ-প্রশাসনকে দলীয় কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন বাকশালের চেয়েও ভয়ঙ্কর অবস্থা চলছে। এর মধ্যেও আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেই আছি। দীর্ঘ আড়াই বছর পর একটা সমাবেশ হয়েছে, তাতেও জনতার ঢল নেমেছিল। আন্দোলনের গতি বাড়বে, সফল  হবই ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশের খবর : আগাম নির্বাচনের আওয়াজ শোনা যায়। আপনি কী মনে করেন?  

আমান উল্লাহ আমান : এটা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে উড়ো বাতাস। দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, নির্দলীয় সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য মুক্ত পরিবেশ দরকার। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় সাজানো রায়ে কারাগারে। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও রায় দেওয়া হয়েছে। বিএনপির ১৮ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা ঝুলছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের পরিবেশ নেই।

বাংলাদেশের খবর : সরকার বলছে শর্ত দিয়ে নির্বাচন হবে না। কী সেই শর্ত?

আমান উল্লাহ আমান : জনগণের শর্ত দুটি। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন। নয়তো দেশে কোনো নির্বাচনই হতে দেওয়া হবে না। এর আগে নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজাতে হবে।

বাংলাদেশের খবর : শিক্ষা, শ্রম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। আপনার দৃষ্টিতে কেমন চলছে ওইসব মন্ত্রণালয়?

আমান উল্লাহ আমান : শিক্ষাকে দলীয় পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। জাতির মেরুদণ্ড ভেঙেছে। শিক্ষার্থীদের আদর্শ শিক্ষার বদলে আওয়ামী রাজনীতি শেখানো হচ্ছে। বিএনপি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। আমরা নিজেরা ঘুরে ঘুরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রের খবর নিতাম। চিকিৎসা ব্যয় কম ছিল। এখন আদালতের নিষেধাজ্ঞা দিতে হচ্ছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রমিকদের জন্য যুগোপযোগী শ্রম আইন প্রণয়ন করেছি। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শ্রমিকদের সন্তানের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছি। গত ১০ বছরে শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো উন্নতি হয়নি।  

বাংলাদেশের খবর : আগামী নির্বাচনে আপনার সঙ্গে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম লড়াই করবেন। নির্বাচনী এলাকার সীমানাও পুনর্নির্ধারণ হয়েছে। কোন সমীকরণে আপনি বিজয়ী হবেন।

আমান উল্লাহ আমান : হ্যাঁ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর ও সভারের একটি অংশ সংযোজিত হয়েছে। আগেই বলেছি কেরানীগঞ্জ নিয়ে আমার ভাবনা ছোট থেকেই। মন্ত্রী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৯৯২ সালে লন্ডন গিয়েছিলাম। দেখেছি টেমস নদীর পাশে লন্ডনের মতোই আরেকটি উন্নত শহর গড়ে উঠেছে। ১৭টি ব্রিজ চোখে পড়েছিল। আমার স্বপ্ন হলো রাজধানীর পাশে বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে কেরানীগঞ্জ হতে পারে আরেকটি উন্নত নগরী। এজন্য ব্রিজ দরকার। স্বপ্নের মতোই আরেকটি রাজধানী গড়ে তুলেছি। এলাকায় যে উন্নয়ন করেছি তাতে যেকোনো বঙ্গ অঞ্চল থেকে যাতায়াতে ঢাকার প্রয়োজন হয় না। ব্রিজ, কালভার্ট, বিদ্যুৎ, প্রথম ডিজিটাল ফোন, পানগাঁও নৌবন্দরসহ অনেক উন্নয়ন করেছি। ম্যাডাম (খালেদা) নিজে এসে ভিত্তিপ্রস্তর, ভবন উদ্বোধন করেছেন, অনেক কাজের ধারাবাহিকতা চলছে। সংসদ সদস্য হয়ে মরহুম নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু এবং ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিনও এলাকার উন্নয়ন করেছেন। উন্নয়নের জন্যই মানুষ ভোট দেবে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ৩২ হাজার, ’৯৬-এ ৭২ হাজার এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে ৮২ হাজার ভোটের ব্যবধান ছিল। মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, আরো উন্নত নগরী গড়ার জন্য মানুষ ধানের শীষকেই বেছে নেবে আশা করি।

বাংলাদেশের খবর : ১/১১-এর সময় সস্ত্রীক সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এখন মামলার কী অবস্থা। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তো সাজা হয়েছে। চূড়ান্ত রায়ে সাজা বহাল থাকলে তো নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। 

আমান উল্লাহ আমান : মামলাগুলোর কোনোটি উচ্চ আদালতে স্থগিত, কোনোটি চলমান আছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছি। এখনো আন্দোলনেই আছি। রাজপথে এবং আইনি লড়াই করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাব। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। সরকার খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে আরেকটি পাতানো নির্বাচন করতে চায়, এটা সম্ভব হবে না। 

বাংলাদেশের খবর : আওয়ামী লীগ জোটের পরিধি বাড়াচ্ছে। আপনাদের জোটের অবস্থা কী?

আমান উল্লাহ আমান : সিপিবি সভাপতি বলেছেন তারা আওয়ামী লীগ-বিএনপি কারো সঙ্গেই নেই। তার মানে ওটা আওয়ামী লীগের আইওয়াশ। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও ২০ দলীয় জোট আরো শক্তিশালী হবে। ২-৩ মাস অপেক্ষা করুন

 

regular_3140_news_1532790368

শাকিল আহম্মেদ শাকিল জাতীয় পার্টিতে যোগদেন তৎকালীন ঢাকা-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুর রহমানের হাত ধরে । রাজনীতির শুরু থেকেই তার স্বপ্ন ছিল জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে দুবার মনোনয়ন পেয়েও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটের কারণে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছে। কিন্তু দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি নির্বাচনে না এলে ২০১৪ সালের মতো এক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জাতীয় পর্যায়ের নেতা বনে যাওয়ার মহেন্দ্র সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন জাপার অনেকেই। ৩০০ আসনে জাতীয় পার্টির এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথাই নাকি বলেছেন জাতীয় পার্ির্টর চেয়ারম্যান লে.জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। হাইকমান্ডের এমন বক্তব্যে জাতীয় পার্ির্টর অনেকের মতো আশায় বুক বেঁধেছেন ঢাকা-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী শাকিল আহম্মেদ শাকিল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশের খবরের বিশেষ প্রতিনিধি আসিফ সোহান

বাংলাদেশের খবর : ঢাকা-২ আসনে আওয়ামী লীগ বিএনপি দুটো দলই শক্তিশালী। জাতীয় পার্টির অবস্থান কেমন?

শাকিল আহম্মেদ শাকিল : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান টানা ৯ বছর সফল রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তিনি দেশ পরিচালনার জন্য অত্যন্ত পারদর্শী একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন। দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি থাকলেও আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এখানে তারা খুব বেশি ভালো করতে পারবে না। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছে, আর বিএনপি আছে জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি নিয়ে। কাজেই জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে একটা ফ্যাক্টর হবে এখানে।

বাংলাদেশের খবর : দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী থাকার পরও জনগণ কেন আপনাকে ভোট দেবে?

শাকিল আহম্মেদ শাকিল : একসময় বিএনপির এখানে ভালো অবস্থান থাকলেও তারা বার বার নির্বাচনে না আসার কারণে জনগণ তাদের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। আর আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের আধিকার হরণ করেছে আমরা দেখতে পাচ্ছি উন্নয়নের নামে এখানকার খাল-বিল ভরাট করা হচ্ছে, এতে করে সুন্দর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। কিছু প্রভাবশালীর মদদে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস চলছে, নিরীহদের ভূমি দখল হচ্ছে। তাই এই এলাকাকে যেন মাদক, সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যু মুক্ত করতে হলে জাতীয় পার্টির বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের খবর : বিষয়টি একটু আজব। আপনারা একদিকে বিরোধী দল আবার সরকারেও আছেন। আবার এটিও বলেছেন আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের আধিকার হরণ করেছে। কথাগুলো স্ববিরোধী শোনাচ্ছে না?

শাকিল আহম্মেদ শাকিল : শোনাচ্ছে কিন্তু এটাই সত্যি, কারণ জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার  সুযোগ পাচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে ভোটের নামে নাটক হচ্ছে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলেও ফল পাল্টে যাচ্ছে!  সরকার জনগণকে ভোটের পরিবেশ দেখাচ্ছে একরকম আর ফল হচ্ছে আরেক রকম। তাই আমরা চাই, আগামী নির্বাচনে জনগণ যেন ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচন করতে পারে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমরা যেন সংসদে কথা বলতে পারি। যার মাধ্যমে ঢাকা-২ আসনের উন্নয়ন হবে। আমরা চাই, এই আসনের মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক। বিএনপি যে আজ বড় বড় কথা বলে, বিগত সময়েও তারা যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনড় থাকত, আন্দোলন করত তাহলে ক্ষমতাসীন দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হতো। কোনো কারণে সংবিধান থেকে যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি উঠে যায়, তাহলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। যে নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন। যে নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। 

বাংলাদেশের খবর : আপনাদের চেয়ারম্যান কি আপনাদের বরেছে আওয়ামী লগের সাথে আর জোচে থাকবেন না? ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থী আছে? নাকি এক রকম নামে মাত্র প্রার্থীর তালিকা তৈরি করেছেন সিটের দর কষাকাষি জন্য।

শাকিল আহম্মেদ শাকিল : ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া আমাদের দলের জন্য কোনো সমস্যাই নয়। আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের কাছে ৩০০ আসনের ৯০০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর সিভি জমা পড়ে আছে। এসব যাচাই করে তিনি সৎ, যোগ্য ও মানুষের পছন্দের প্রার্থীদের বাছাই করে রেখেছেন। কারণ বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে সুযোগটা তো কাজে লাগাতে হবে। মনে রাখতে হবে, জাতীয় পার্টি কিন্তু দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দল। আমাদের ছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারতো না। দলে অনেক বড় বড় নেতা রয়েছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে আমাদের সহযোগিতায়ই, আমাদের ওপর ভর করে। তাই আমরা মনে করি জাতীয় পার্টি অবশ্যই আবার ক্ষমতায় আসবে এবং দেশবাসীর সেবা করবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads