• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ঘুরে আসুন কিশোরগঞ্জ হাওর

কিশোরগঞ্জ হাওর

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

ঘুরে আসুন কিশোরগঞ্জ হাওর

  • জিয়াউল জিয়া
  • প্রকাশিত ০৪ আগস্ট ২০১৮

কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলার প্রায় সবটুকু এলাকাজুড়ে এই হাওর বিস্তৃত। এ হাওরের সৌন্দর্যে খুঁজে পাওয়া যায় গ্রামীণ পরিবেশের স্বকীয়তা। আর শহুরে জীবনে বেড়ে ওঠা তরুণ বন্ধুদের কাছে জানা-অজানার মধ্যে লুকিয়ে থাকা এমনসব জায়গাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

বিশাল জলরাশির বুকে বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট গ্রাম। যেন একেকটা ছোট ছোট দ্বীপ। হাওরজুড়ে গলা ডুবিয়ে থাকা হিজল গাছের সারি বা পানির নিচ থেকে জেগে ওঠা করচের বন কিংবা শুশুকের লাফ-ঝাঁপ মুহূর্তেই আপনার মন ভালো করে দেবে। কিশোরগঞ্জ হাওর এমনই।

নৌকা চলতে শুরু করামাত্রই হারিয়ে যেতে হয় জলরাশির রাজ্যে। দূর থেকে আরো যত দূরে চোখ যাবে, স্নিগ্ধ গ্রামের মতোই শান্ত অথৈ পানি প্রাণ জুড়িয়ে দেবে। জলের সীমানা শেষ হতেই যেন বিস্তৃত আকাশ। তারই মাঝখানে কিছু ঘরবাড়ি। নৌকার চালকদেরই বসবাস এখানে। মাছ ধরার সঙ্গেও জড়িত এ অঞ্চল।

এ হাওরের মাছ বিক্রি হয় প্রতিদিন শহরের বাজারে। কিন্তু তাদের মূল পেশা কৃষি। নৌকার মাঝির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুকনো মৌসুমে হাওর পরিণত হয় উর্বর মাঠে। নানা ধরনের সবজি চাষ হয় তখন পুরো সময়জুড়ে। বেশিরভাগ গ্রামের মতোই শিক্ষার হার এখানেও কম। নৌকায় ঘুরতে ঘুরতে শোনা যাবে গ্রামের শিশুদের মিষ্টি কণ্ঠে ভাটিয়ালি গান।

জেলেদের নৌকা, শিশুদের সাঁতার কাটা আর হাওরের মাঝখানে ছোট-বড় গাছ প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়া বাংলার গ্রামের সৌন্দর্য চোখের সামনে ফুটিয়ে তুলবে। দিনশেষে হয়তো ফিরতে হবে আবারো শহুরে জীবনে। কিন্তু প্রতি বর্ষায় কিশোরগঞ্জ হাওর ভ্রমন বিলাসীদের মনে তৈরি করতে থাকবে আকাঙ্ক্ষা।

 

যেভাবে যাবেন

হাওরে ঢোকার অনেক পথ আছে। কেউ চাইলে মরিচখালী, বাজিতপুর, নিকলী কিংবা ভৈরব দিয়ে হাওরে ঢুকতে পারেন। মরিচখালী দিয়ে ঢুকতে হলে কিশোরগঞ্জ শহরের একরামপুর এলাকা থেকে সিএনজি অটো বা মোটরসাইকেলে করে যেতে হয় ঘাটে। ভাড়া মাত্র ৩০-৪০ টাকা। যাত্রাপথের সময়ও কম। এক বা দেড় ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় মরিচখালী ব্রিজে। মরিচখালী ব্রিজ পার হয়ে ওপারে গেলেই পাওয়া যায় ছোট-বড় অসংখ্য নৌকা। ঘণ্টায় দুইশ’ টাকা করে পছন্দসই নৌকা ভাড়া করা যায় হাওর বিলাসের জন্য। কিংবা ২৪ ঘণ্টার জন্যও ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া নেয় দুই থেকে তিন হাজার টাকা।

 

যেখানে থাকবেন

কিশোরগঞ্জের বাইরে থেকে আসা অতিথিদের ভ্রমণ শেষে শহরে সার্কিট হাউজ বা কোনো হোটেলে উঠতে হবে। আর হাওরে রাতযাপনের জন্য নৌকাতেই অবস্থান করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়রা নৌকাতেই রাত কাটাতে পারেন। কিংবা প্রতিটি উপজেলায় সরকারি ডাকবাংলোতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads