• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads
মায়ের দুধ পান সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ

প্রথম কয়েক সপ্তাহ দুই-তিন ঘণ্টা পরপর বুকের দুধ পান করানো উচিত

সংরক্ষিত ছবি

ফিচার

মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০১৮

মায়ের দুধ পান সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ

  • প্রকাশিত ০৯ আগস্ট ২০১৮

ডা. ফারজানা আহমেদ

প্রতিবছর আগস্টের প্রথম সাত দিন বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (World Breast Feeding) হিসেবে উদযাপিত হয়। মাতৃদুগ্ধের সুবিধা- বাচ্চার স্বাস্থ্য সুন্দর রাখা। সবার ভালোর জন্য এই পদক্ষেপ। মায়ের সুস্বাস্থ্য, উন্নত পুষ্টি, দরিদ্রতা কমানো এবং খাদ্যের নিরাপত্তা দেওয়া এই সপ্তাহের লক্ষ্য।  

World Alliance for Breast feeding Action (WABA) বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবসটি আয়োজন করে থাকে। এটি মাতৃদুগ্ধ পদ্ধতিকে নিরাপত্তা দেয়, উৎসাহিত  করে , সবার কাছে পৌঁছে দেয়। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ এই সংস্থাটিকে সাহায্য করে। 

হেলথ প্রফেশনালদের মতে, ব্রেস্ট ফিডিং বাচ্চার জন্মের প্রথম ঘণ্টা থেকে শুরু হয়। প্রথম কয়েক সপ্তাহ দুই-তিন ঘণ্টা পরপর বুকের দুধ পান করানো উচিত। প্রত্যেকবার একাধারে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ মিনিট দুধ পান করানো উচিত। বাচ্চারা একটু বড় হতে থাকলে দুধ খাওয়ানোর পরিমাণও কমতে থাকে। ব্রেস্ট ফিডিং পাম্পের মাধ্যমে করানো সম্ভব। যখন মা অসুস্থ থাকে বা বাচ্চা অসুস্থ থাকে, অনেক সময় মায়ের নিপলে ঘা বা বাচ্চার কামড়ে বুকের দুধে সমস্যা হয়। তখন পাম্পিংয়ের মাধ্যমে দুধ দেওয়া যেতে পারে। তবে মায়ের অসুস্থতায় কোনো ওষুধ খেলে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো যাবে কি-না তা ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে হবে। ব্রেস্ট ফিডিংয়ের অনেক সুবিধা আছে, যা ইনফ্যান্ট ফরমুলায় নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ (পানি বা মধু নয়) দিতে হবে। তবে মুখে ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন খাওয়ানো যেতে পারে। এরপর মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবার খাওয়ানো যেতে পারে। জন্মের দুই বছর পর্যন্ত অবশ্যই বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।

শিশুর জন্মের পর সব পুষ্টি উপাদান সুনির্দিষ্ট পরিমাণে মায়ের দুধে পাওয়া যায়। নিচে বুকের দুধের গুণাগুণ তুলে ধরা হলো।

১. এটি অ্যালার্জি, অসুস্থতা, স্থূলতার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কাজ করে।

২. বয়সকালে ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে।

৩. কানের ইনফেকশন বা যে কোনো ধরনের ইনফেকশন থেকে শিশুকে রক্ষা করে।

৪. এটি সহজপাচ্য, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও পাকস্থলী খারাপ হওয়া প্রতিরোধ করে।

৫. আইকিউ লেভেল ভালো করে।

৬. বাচ্চার স্বাস্থ্য ভালো থাকে, ওজন ঠিক থাকে।

৭. নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা দূর করে।

৮. ব্রেস্ট মিল্কের মান বাচ্চার বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।

৯. ব্রেস্ট মিল্ক সবসময় তৈরি থাকে। এটি পরিবেশের জন্য ভালো। কারণ এর কোনো অবশিষ্টাংশ থাকে না, সহজলভ্য।

১০. বোতল পরিষ্কারের ঝামেলা নেই।

১১. বাচ্চার জন্য দুধের তাপমাত্রা সঠিক থাকে। মান ভালো থাকে এবং বিনামূল্যে পাওয়া যায়। 

মায়ের জন্য বুকের দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা নিচে দেওয়া হলো :

১. টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং কিছু ক্যানসার যেমন ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

২. বাচ্চার সঙ্গে মাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।

৩. মায়ের ওজন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। 

কিছু টিপস বা সাহায্যকারী বিষয়

১. বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পরপরই বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত এবং ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ বার খাওয়াতে হবে।

২. বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বাচ্চাকে গায়ের সঙ্গে মিশিয়ে রাখতে হবে।

৩. হসপিটালে বাচ্চাকে মায়ের সঙ্গে রাখতে হবে।

৪. শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

৫. কোনো বোতল বা অন্য কিছুর মাধ্যমে অন্য দুধ দেওয়া উচিত নয়।

৬. বুকের দুধ শিশুর প্রথম ও প্রাথমিক টিকা।

শাল দুধ

শিশুর জন্মের প্রথম কয়েকদিন মায়ের দুধে কোলোস্ট্রামস (colostrums) নামক একটি উপাদান থাকে। এই দুধকে শাল দুধ বলে। এটি হালকা হলুদ তরল, প্রোটিন এবং অ্যান্টিবডি সম্পন্ন। শাল দুধ বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শিশুর পরিপাকতন্ত্র তৈরি এবং এর কার্যকারিতায় সাহায্য করে।

মায়ের খাদ্য

ব্রেস্ট ফিডিং প্রসেসে অবশ্যই মাকে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। মায়ের খাদ্যচাহিদার চেয়ে ৫০০ কিলোক্যালরি বেশি গ্রহণ করা দরকার। প্রথম ৬ মাস মা প্রতিদিন ৭৫০ এমএল দুধ উৎপাদন করেন। এই দুধে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ভিটামিন থাকে। ১০০ এমএল মায়ের দুধে ৭০ কিলোক্যালরি পাওয়া যায়। মায়ের উচিত প্রতিদিনের খাওয়ায় দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, বিভিন্ন সবজি, লাউ, কালিজিরা, সাগু, ফলমূল রাখা। প্রচুর পানি পান করতে হবে, যেন শরীরে পানি না কমে। মাকে অবশ্যই ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। কেননা তা দুধ উৎপাদনে সাহায্য করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার মায়ের দুধের মান বাড়ায়।

লেখক : পুষ্টিবিদ, ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads