• সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
ক্রীড়া সংস্কৃতি সবুজে সমৃদ্ধ চিত্রা নদীর কূলে নড়াইল

নড়াইলে ছিলেন অসংখ্য আধ্যাত্মিক সাধক, ফকির, দরবেশ ও ধর্মপ্রচারকরা

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

ক্রীড়া সংস্কৃতি সবুজে সমৃদ্ধ চিত্রা নদীর কূলে নড়াইল

  • প্রকাশিত ১৪ আগস্ট ২০১৮

এস এম হালিম মন্টু, নড়াইল

ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা থেকে শুরু করে মোগল শাসনামল হয়ে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসনামল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বাদ নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে নড়াইল জেলা। এ জেলায় রয়েছে ব্রিটিশ শাসনামলে তেভাগা আন্দোলনের ইতিহাস। রয়েছে চার জমিদার ও নীলকর সাহেবদের নীল চাষের জন্য সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের ইতিহাস। রয়েছে পাকিস্তান সরকারের চাপিয়ে দেওয়া উর্দু ভাষার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ইতিহাস। ভাষা আন্দোলনেও জেলার মানুষ মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষায় আন্দোলন করে যেমন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও এ জেলার মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্রহাতে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। নড়াইলে ছিলেন অসংখ্য আধ্যাত্মিক সাধক, ফকির, দরবেশ ও ধর্মপ্রচারকরা। আছে মুসলিম শাসনামলের স্থাপত্য মসজিদ, মন্দির নির্মাণ। শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ক্রীড়াবিদ সব স্তরেই রয়েছে এ জেলার সুনাম।

নড়াইল জেলায় স্বাধীনতা-পরবর্তী আজ পর্যন্ত শিল্পকলকারখানা প্রতিষ্ঠা না হলেও এ জেলা ক্রীড়া, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধে সমৃদ্ধিশালী। প্রাচীনকাল থেকে সঙ্গীত, সাহিত্য, চিত্রকলা চর্চায় এ জেলা অন্য যেকোনো জেলার চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও আজ সংস্কৃতির চর্চা চলছে। জেলায় কমপক্ষে ৫০টিরও বেশি সংস্কৃতিচর্চা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যারা শিশু-কিশোর বয়স থেকেই নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক ও আর্ট শিখিয়ে আসছে। শুধু সাংস্কৃতিক অঙ্গন কেন, এ জেলার রয়েছে ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্য। বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ স্থান দখল করে আছে নড়াইলের ক্রীড়াবিদরা। বাংলাদেশে প্রচলিত সব খেলার জাতীয় দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্রীড়াবিদ নড়াইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। এ জেলায় সব খেলা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া খেলাধুলার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ কারণে প্রতিনিয়ত প্রচুর যোগ্যতাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদ সৃষ্টি হচ্ছে। এ দেশের টেবিল টেনিসের ৬০ ভাগ খেলোয়াড়ই নড়াইল জেলার। জাতীয় টেবিল টেনিস দলের পুরুষ ও মহিলা খেলোয়াড়দের মধ্যে ৭৫ ভাগ খেলোয়াড় নড়াইলের কৃতী সন্তান। এ ছাড়া দীর্ঘকাল ধরে জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় নড়াইল জেলা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ হয়ে আসছে। বর্তমানে জাতীয় টেবিল টেনিস তারকা মোস্তফা বিল্লাহ, মাহাবুব বিল্লাহ, গৌতম, পাপ্পু, রুমি, সোমা, সালেহা, রকি ও স্নিগ্ধা নড়াইলের সন্তান। এ দেশের টেবিল টেনিসে বিশেষ অবদান রাখার জন্য নড়াইলকে টেবিল টেনিসের সূতিকাগার বলা হয়ে থাকে। জেলার ক্রীড়াঙ্গন আরো সমৃদ্ধ করে রেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

১৯৮৪ সালের ১ মার্চ তৎকালীন নড়াইল মহকুমা জেলা হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। নড়াইল জেলার উত্তরে মাগুরা, দক্ষিণে খুলনা, পূর্বে গোপালগঞ্জ এবং পশ্চিমে যশোর জেলার অবস্থান। জেলার আয়তন ৯৬৭.৯৯ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার ৪২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৬ জন এবং মহিলা ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৫ জন। মধুমতি, নবগঙ্গা, চিত্রা, কাজলা, নলিয়া ও আঠারোবাঁকি নদীসহ জেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় শতাধিক খাল এবং কয়েকটি বড় বড় বিল সমৃদ্ধ করেছে নড়াইলকে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, গুপ্তযুগে নড়াইল অঞ্চলের পূর্ব সীমান্ত মধুমতি নদী পর্যন্ত গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তা ৩৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। রাজা শশাংক ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন এবং তার রাজধানী ছিল কর্ণ সুবর্ণনগর মতান্তরে লক্ষ্মণাবতী। পরে সম্রাট হর্ষবর্ধন শশাংককে পরাজিত করে এ অঞ্চলকে করায়ত্ত করেন। নড়াইল শশাংক ও হর্ষবর্ধন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আনুমানিক দেড়শ’ বছর নড়াইল জেলা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চল বাহুবলে শাসন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। শুধু এই অঞ্চলই নয়, সমগ্র বাংলাদেশে এ ধরনের দুজন রাজা ছিলেন- যারা নড়াইলের নয়াবাড়ীর পাতালভেদী রাজা ও উজিরপুর কাশিয়ারার রাজা।

১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর লোহাগড়া, কালিয়া, আলফাডাঙ্গা ও নড়াইল- এই চারটি থানা নিয়ে নড়াইল মহকুমা গঠিত হয়। ১৯৬০ সালে আলফাডাঙ্গাকে নড়াইল থেকে পৃথক করে ফরিদপুরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বিভিন্ন সময়ে নড়াইলের ভৌগোলিক সীমারেখা সংকুচিত করা হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে নড়াইলকে প্রথমে জেলা ঘোষণা করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে ১৯৮৪ সালের ১ জুলাই নড়াইলকে জেলা ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নড়াইল জেলা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। জেলায় শিক্ষার হার ৬২ শতাংশ। এ জেলায় মোট ২৬টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সরকারি এবং বেসরকারি ২৩টি। ১১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সরকারি এবং ১৩টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়। মোট মাদরাসা ৪৪টি। এর মধ্যে ১টি কামিল, ২টি ফাজিল, ৮টি আলিম এবং দাখিল ৩৩টি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪৯৫টি। নড়াইল পুলিশ লাইনসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১০টি। এ ছাড়া নড়াইল শহর থেকে বিভিন্ন গ্রামে কমপক্ষে ৫০টি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় রয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন কালেক্টরেট স্কুল ও বিয়াম নামে দুটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে।

জেলার গ্রামীণ জনপদে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। গ্রামীণ জনপদের সড়কগুলো কয়েক যুগেও পাকা করা হয়নি। যা হয়েছে, তাও সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। নড়াইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের আওতাধীন ২ হাজার ৯৩৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ১৫৭ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা।

নড়াইলে ছিলেন অসংখ্য আধ্যাত্মিক সাধক, ফকির, দরবেশ ও ধর্মপ্রচারক। তারা জেলায় ধর্ম প্রচারের পাশাপাশি মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টিতে অবদান রেখেছেন। সে সময় বিভিন্ন স্থানে ছিল নড়াইলের জমিদার, হাটবাড়িয়া জমিদার, কলাবাড়িয়া জমিদার ও নলদী জমিদার। এই চার জমিদার নড়াইল শাসন করতেন। তাদের অধীনে ছিলেন ৭ জন তালুকদার। এ সময় নড়াইলে ২০টিরও বেশি স্থানে নীলকর সাহেবদের কুঠিবাড়ী ছিল। তখন দেড়শ’ গ্রাম ও জনপদ নিয়ে নড়াইল গঠিত ছিল। জেলার আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অতীত ও বর্তমান পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় অতীত ছিল মধুর যুগ। ওই যুগে নড়াইলের মানুষ বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল। আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবরা একে অন্যের বাড়িতে বেড়াতে যেত। সে সময় আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে যেত। ছিল গোলাভরা ধান, গোয়ালভরা গরু, পুকুরভরা মাছ। ছোট ছোট পরিবারের লোকেরা সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করেছেন। যেকোনো পণ্য কেনাকাটা ছিল সামান্য কড়িতে। অতীতে নড়াইল জেলায় কড়ির প্রচলন ছিল।

বিশেষ সাক্ষাৎকার

1.Narail.DC

ভিক্ষুকমুক্ত জেলাকে গ্রিন ও ক্লিন হিসেবে গড়তে চাই

মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক, নড়াইল

নড়াইল ছোট জেলা কিন্তু এটি সবুজ জেলা। শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ক্রীড়াবিদ, সাধক, ফকির-দরবেশ ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধিশালী জেলা নড়াইল। জাতীয় পর্যায়ের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এ সকল উন্নয়ন আমাদের হয়েছে। উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নেতৃত্বে  দেশের উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমাদের সামনে আসছে। কারণ পদ্মা সেতু এবং কালনাঘাটে ব্রিজ নির্মাণের কারণে যে জেলাগুলো উপকৃত হবে তার মধ্যে নড়াইল অন্যতম। নড়াইলের ওপর দিয়ে রেললাইন যাচ্ছে। লোহাগড়া ও নড়াইলে ২টি স্টেশন হচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণ হচ্ছে সড়ক। নড়াইল-ফুলতলা সড়কের টেন্ডার হয়েছে। নড়াইল-কালিয়া সড়ক ও কালিয়ার নবগঙ্গা নদীর ওপর ব্রিজের টেন্ডারের কাজ প্রক্রিয়াধীন। ফলে নড়াইলের সঙ্গে সকল জেলার সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টিতে আগামী ২ বছরের মধ্যে আমরা এগিয়ে যাব। ইতোমধ্যে অনেকেই নড়াইলে শিল্প-কলকারখানা গড়তে কাজ শুরু করেছেন। ‘ক্রীড়া, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ চিত্রা নদীর কূলে নড়াইল সবুজে সমৃদ্ধ’ স্লোগানকে সামনে রেখে নড়াইলের হাটবাড়িয়া জমিদারবাড়িতে ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে  কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ইতোমধ্যে এ জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশে প্রথম। এবার গ্রিন নড়াইল, ক্লিন নড়াইল গড়তে চাই।

2.Narail . S.P

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত অঞ্চল গড়তে চাই

মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম, পুলিশ সুপার, নড়াইল

ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিল্পী, সাহিত্যিক, ক্রীড়াবিদ অসংখ্য গুণিজন সমৃদ্ধ জেলা নড়াইল। আমি নড়াইলে যোগদান করার পর থেকে নড়াইল জেলাকে জঙ্গিবাদ, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নির্মূলের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেছি। ইতোমধ্যে নড়াইল জেলার সবচেয়ে দাঙ্গাকবলিত এলাকা আমাদা ও মল্লিকপুরে দু’পক্ষের মধ্যে যুগ যুগ ধরে চলে আসা অসংখ্য হত্যা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা আইনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অবসান ঘটিয়েছি। এ দুটি এলাকার সাধারণ মানুষ আজ শান্তিতে বসবাস করছে। ইতোমধ্যে আমরা মাদক নির্মূল অভিযানে প্রচুর পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করতে পেরেছি। আটক করা হয়েছে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের। আটক করা হয়েছে বিভিন্ন অপরাধীকে। এ সকল অপরাধীকে আটক করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন অপরাধী নিহত হয়েছে। এ সময় আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। আমাকে জঙ্গিবাদ, মাদক ব্যবসাসহ অপরাধী নির্মূলে সহায়তা দিচ্ছেন আমার চৌকস অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম পিপিএম, সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিনসহ ৪টি থানার ওসি এবং গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা। আমরা নড়াইলের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহায়তায় আগামীতে নড়াইল থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলের মাধ্যমে নড়াইলকে অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

3.Narail Meor

উন্নত একটি নগরী গড়ে তুলতে কাজ করছি

মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস, মেয়র, নড়াইল পৌরসভা

ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর জেলা নড়াইল হলেও দেশের অন্য জেলাগুলোর যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে, সেভাবে মূলত নড়াইলের উন্নয়ন ঘটেনি। এ জেলায় গড়ে ওঠেনি শিল্প কলখানা। ’৭৫ পরবর্তী দেশের ক্ষমতা যাদের হাতে ছিল তারা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নড়াইলের অবকাঠামো, রাস্তা, ব্রিজসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন ঘটতে শুরু করেছে। আগামীতে পদ্মা সেতু ও কালনা মধুমতী নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এ জেলায় উন্নয়নের বিপ্লব ঘটবে বলে আমি মনে করি। নড়াইল পৌরসভার উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, নড়াইল পৌরসভা একটি ছোট পৌরসভা। এখানকার ট্যাক্স, পৌরকর আদায় দিয়ে কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ করে যে অর্থ থাকে তা দিয়ে মূলত পৌরসভার চাহিদামতো উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না। তারপরও আমরা সাধ্যমত পৌরসভার উন্নয়ন করে আসছি। তাছাড়া সরকারি বরাদ্দও এ জেলায় কম। আর এ কারণেই পৌরসভার জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তার সমস্যা সব সময়ই রয়ে যায়। আমরা ইউজিপ প্রকল্পের কিছু অর্থ পেয়েছি, যা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঢালাই পাকা রাস্তা নির্মাণ করছি। আমার পৌরসভায় প্রায় ৩১ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। এ টাকায় কতটুকুইবা উন্নয়ন করা যায়। পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণকাজ করতে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার  প্রয়োজন।

 

4.Narail Chunnu

সম্মিলিত পরিকল্পনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ হবে এ জেলা

আকরাম শাহীদ চুন্নু, সহসভাপতি, চেম্বার অব কমার্স, নড়াইল

নড়াইল বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম ছোট জেলা। এ জেলা ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর। ক্রীড়া, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, তে-ভাগা আন্দোলন ও ভাষা আন্দোলনে সমৃদ্ধিশালী একটি জনপদ হলেও এ জেলার যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ। আর এ কারণেই এখানে কোনো শিল্প কলকারখানা গড়ে ওঠেনি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমরা পিছিয়ে আছি। ঢাকা, খুলনাসহ দেশের সকল জেলার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় আমরা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। দেশের সকল জেলার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আমাদের এ অঞ্চলে উন্নয়ন ঘটবে। নড়াইল-ফুলতলা সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ একনেক সভায় পাস হয়েছে। এটা নির্মাণ শেষ হলে বিভাগীয় শহর খুলনার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। নড়াইলে প্রচুর পাট, সাদা মাছ, গলদা চিংড়ি উৎপন্ন হয়। এখানে জুটমিল নির্মাণ, মাছ সংরক্ষণ ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে ওঠার জন্য শুধু স্থান নির্ধারণী কার্যক্রম চলে আসছে। সর্বশেষ নড়াইল-যশোর সড়কের বাঁশভিটায় স্থান নির্ধারণ করে ৪০ একর জায়গার বরাদ্দ চেয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, যা ঢাকায় ফাইলবন্দি হয়ে আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে নড়াইলের ওপর দিয়ে এশিয়ান হাইওয়ে, রেললাইন  নির্মাণ হবে। এটি সরাসরি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। এ সময় নড়াইলে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে বলে আমি মনে করি। নড়াইলের অনেক কৃতী সন্তান দেশে-বিদেশে রয়েছেন। তারা যদি মাতৃভূমির  টানে এখানে এসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, তাহলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে নড়াইল উন্নত এলাকায় রূপ নেবে। এখন প্রয়োজন নড়াইল জেলা উন্নয়ন সেল গঠন করা, যারা ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব যোগাযোগমাধ্যমে দেশি-বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তাদের নড়াইলে এসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads