• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
মনের পশুকে  করো কোরবানি

ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ অর্থ ত্যাগের মহিমায় আনন্দ

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

মনের পশুকে করো কোরবানি

  • প্রকাশিত ১৯ আগস্ট ২০১৮

সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন

‘কোরবানি’ শব্দটির অর্থ ত্যাগ আর ঈদ শব্দের অর্থ খুশি বা আনন্দ। ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ অর্থ ত্যাগের মহিমায় আনন্দ। কোরবানির দিনে আল্লাহর নির্দেশে, তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা হয়। এর দ্বারা মালের ত্যাগ স্বীকার করা হয়। এই মালের কোরবানি দিতে পারার মধ্যে মুমিনের একটা আনন্দবোধ থাকে বলেই একে কোরবানির ঈদ বলা হয়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট কিছু হালাল পশু জবাই বা কোরবানি করা হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে আমি তাদের জীবনোপকরণস্বরূপ যেসব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি, সেগুলোর ওপর তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সুরা আল হজ, আয়াত-৩৪)

কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। অধিকাংশ মুসলমান এই ইবাদত পালন করতে চান। কিন্তু ইসলাম বা কোরবানি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকায় মনের অজান্তেই এমন কিছু ভুল হয়ে যায়, যে কারণে এই ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করা হয় না।

আমরা জানি, হজরত আদম (আ.) থেকে হজরত মোহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সব নবী-রাসুল ও তাদের অনুসারীরা কোরবানি করেছেন। ইতিহাসে হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল-কাবিলের মাধ্যমে প্রথম কোরবানির সূত্রপাত হয়। হজরত ইসমাইল (আ.) নিজের জানকে আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করতে নির্দ্বিধায় সম্মত হয়ে আত্মত্যাগের বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রতি এটা ছিল আল্লাহর পরীক্ষা। তাই পিতার ধারালো ছুরি শিশুপুত্রের একটি পশমও কাটতে পারেনি; পরিবর্তে আল্লাহর হুকুমে দুম্বা জবাই হয়। তাদের স্মরণে এ বিধান রোজ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এটাই পবিত্র ইসলামের বিধান। ইসলামের বিধান অনুযায়ী পশু কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তার অনুগ্রহ লাভ। কিন্তু আজকাল অনেকেই এই পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিত্ত প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। পবিত্র ঈদুল আজহার দিনের এই বিধান তবে কি নিছকই পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা?

পশু জবাই করার মাধ্যমে মালের কোরবানি হয় সত্য, তবে সেই সঙ্গে মনের পশুরও কোরবানি করতে হবে। কোরবানি করতে গেলে মনের মধ্যে যদি গোশত খাওয়ার চিন্তা-চেতনা আসে, তাহলে ওই ব্যক্তির কোরবানি সহিহ হবে না। সুদ, ঘুষ এবং অসৎ টাকায় কোরবানি দিলে কোরবানি সহিহ হবে না। কোরবানির পশু ভাগে ক্রয় করলে অংশীদারদের মনের ভেতর কোনো ধরনের গলদ থাকলেও কোরবানি সহিহ হবে না। কোরবানির প্রতীক হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্তর থেকে পাশবিক শক্তি ও চিন্তা-চেতনাকে কোরবানি করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads