• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
শিল্পের স্বার্থে সুরক্ষিত হোক চামড়া

গার্মেন্টের মতো চামড়া খাতকে সমৃদ্ধ করতে দরকার সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

শিল্পের স্বার্থে সুরক্ষিত হোক চামড়া

  • ইশতিয়াক আবীর
  • প্রকাশিত ১৯ আগস্ট ২০১৮

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি সম্ভাবনাময় খাত চামড়া শিল্প। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চামড়া শিল্পের অবদান অনেক। বর্তমানে রফতানি খাতে চামড়ার অবদান ৯ শতাংশেরও বেশি। চামড়া-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারা বছরে সংগৃহীত চামড়ার ৬০ শতাংশই আসে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে। কিন্তু চামড়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করায় বিপুল পরিমাণ চামড়া ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শুধু সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতি বছর মোট চামড়ার ১৮ থেকে ২০ শতাংশই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বছরে দেশ হারাচ্ছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। গার্মেন্টের মতো চামড়া খাতকে সমৃদ্ধ করতে দরকার সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ।

চামড়া সংরক্ষণের সঠিক উপায়

পশু কেনার সময়ও চামড়ায় কোনো ক্ষতচিহ্ন আছে কি-না দেখে নিন। পশু কেনার পর যেখানে রাখবেন, সেখানে খড় বা চট বিছিয়ে দিন যাতে কোনোভাবে পশুর শরীরে আঘাত না লাগে। জবাইয়ের পর থেকে চামড়া ছাড়ানো পর্যন্ত সচেতন না থাকলে চামড়ায় ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। তাই চামড়া সহজে ছাড়ানোর জন্য জবাইয়ের আগে পশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ান। জবাইয়ের পর পশুকে শক্ত কোনো খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে দিলে চামড়া ছাড়ানো সহজ হয়। খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ধারালো ছুরি দিয়ে ধীরে ধীরে হালকা করে নিচের দিকে টেনে চামড়া আলাদা করুন। চামড়া ছাড়ানোর পর লেগে থাকা রক্ত, চর্বি যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার করুন। না হলে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে চামড়ায় পচন ধরতে পারে। পরিষ্কার পানি দিয়ে চামড়া ভালো করে ধুয়ে হালকা রোদে পানি ঝরিয়ে নিন। চামড়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার সময় বেশি টানা-হেঁচড়া করবেন না। চামড়া ছাড়ানোর তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে তা বিক্রি করা না গেলে দ্রুত লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করুন। সংরক্ষণ করার জন্য চামড়ার ধরন বুঝে লবণ লাগাতে হবে। সাধারণত চামড়ার ওজনের বিশ শতাংশ হারে লবণ ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ চামড়ার ওজন ১৫ থেকে ২০ কেজি হলে লবণ ব্যবহার করতে হবে ৩ থেকে ৪ কেজি। চামড়া বিছিয়ে তার ওপর লবণ ছিটিয়ে দিলে চামড়ায় থাকা পানি ও ব্যাক্টেরিয়া বের হয়ে আসে। তারপর চামড়া ভালো করে ভাঁজ করে রাখতে হয়। লবণের পর্যাপ্ততা না থাকলে লবণ ও পানির মিশ্রণের সাহায্যেও কিছুদিন চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। খোলা স্থানে বিছিয়ে বা তারের সঙ্গে চামড়া ঝুলিয়ে চামড়া রোদে শুকিয়েও সংরক্ষণ করতে পারেন। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘক্ষণ রোদে শুকালে অনেক সময় চামড়ার গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই লবণ পদ্ধতিই সবচেয়ে নিরাপদ। সামান্য অসাবধানতার কারণে মূল্যবান চামড়া যেন নষ্ট হয়ে না যায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads