• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
পিটিএসডি- দুঃস্বপ্নের দিন-রাত্রি

ব্যক্তি ওই ঘটনা নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

পিটিএসডি- দুঃস্বপ্নের দিন-রাত্রি

  • প্রকাশিত ৩০ আগস্ট ২০১৮

ডা. মো. জিল্লুর কামাল

নিজের বা নিকটজনের জীবনের প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী কোনো ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পর ব্যক্তি নিম্নলিখিত উপসর্গগুলোতে এক মাস বা তার অধিক সময় ধরে ভুগলে ধরে নিতে হবে তিনি পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগছেন।

বারবার ঘটনাটিকে উপলব্ধি করা : ব্যক্তি ওই ঘটনা নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে, সারাক্ষণ তার মনে ওই ঘটনার স্মৃতি ঘুরপাক খেতে থাকে, ওই ঘটনার সঙ্গে মিল আছে এমন কিছু দেখলে সে খুব খারাপ বোধ করে।

ওই ঘটনার কথা এড়িয়ে চলা : ব্যক্তি ওই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয় এমন স্থান কাল পাত্রকে এড়িয়ে চলে, সে ধরনের গল্প কথা এড়িয়ে চলে।

সবকিছুতেই উদাসীন : ব্যক্তি তার দৈনন্দিন কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হতাশ ও উদাসীন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া ব্যক্তির খাওয়া ও ঘুমে সমস্যা দেখা দেয়। তার মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। কোনো কিছুতে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। সহজেই চমকে ওঠে।

কারণ : পিটিএসডি’র কারণগুলোর মধ্যে প্রথমেই আছে একটা আঘাত পাওয়া। এ আঘাত তীব্র মানসিক বা শারীরিক যেকোনো ধরনের হতে পারে।

আগে মনে করা হতো আঘাত যত তীব্র হবে রোগের উপসর্গ তত প্রকট হবে। কিন্তু গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়নি। বরং গবেষণায় দেখা গেছে মাঝারি ধরনের আঘাতের ফলে অধিকাংশ ব্যক্তি পিটিএসডিতে আক্রান্ত হয়। যাদের ছোটবেলায় মানসিক আঘাত পাওয়ার ইতিহাস আছে, ব্যক্তিত্বের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা, বংশগত কারণে মানসিক রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন ব্যক্তি এবং যথেষ্ট সামাজিক সহযোগিতা নেই এমন ব্যক্তিদের মধ্যে আঘাতের মধ্যে আঘাতের পর পিটিএসডি হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

চিকিৎসা : সাইকোথেরাপি ও ওষুধের প্রয়োগের মাধ্যমে এ  রোগের চিকিৎসা করা হয়। সাইকোথেরাপির মধ্যে কগনিটিভ বিহ্যাভিয়ারথেরাপি ও ইএমডিআর ভালো কাজ করে। ওষুধের মধ্যে আছে ইমিপ্রামিন, অ্যামিট্রিপটাইলন, ফ্লুক্সিটিন, সারট্রালিন ইত্যাদি।

সেলফ হেল্প : আপনি যদি মনে করেন একই পীড়াদায়ক ঘটনা আপনাকে বারবার ভোগাচ্ছে, কোনোভাবেই আপনি সেই দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছেন না তাহলে অবশ্যই অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চাইলে আপনি নিজেও নিজেকে সাহায্য করতে পারেন। যত বেশি সম্ভব আপনার অসুস্থতার ধরন-ধারণ, কারণ, চিকিৎসা ইত্যাদি সম্পর্কে জানুন। পালাতে চাইবেন না। এ থেকে পালানো যায় না। বরং যত পালাতে চাইবেন রোগটা আপনাকে ততই কাবু করে ফেলবে। সমস্যা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করুন। প্রয়োজনে থেরাপিস্টের সহযোগিতা নিন। এসব ক্ষেত্রে পারিবারিক সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি দরকার। পরিবারের কাছে থাকুন এবং পরিবারের নির্ভরশীল কাউকে সমস্যাটা ভালো করে বুঝিয়ে বলুন। আপনি হয়তো তখন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারবেন না, আপনার হয়ে তিনি আপনাকে সাহায্য করবেন।

লেখক : প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads