• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
নয় গ্রামের নাম নিয়ে নওগাঁ

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

নয় গ্রামের নাম নিয়ে নওগাঁ

  • রায়হান আলম, নওগাঁ  
  • প্রকাশিত ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রায়হান আলম, নওগাঁ  

রাজশাহী বিভাগের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর নওগাঁ। নওগাঁ জেলার নামকরণ নওগাঁ নামের গ্রাম থেকেই। নওগাঁ শহরের নামানুসারে সাবেক নওগাঁ থানা ও মহকুমা এবং বর্তমান নওগাঁ উপজেলা ও জেলার নামকরণ। কিন্তু এই জনপদের নাম নওগাঁ কেন হয়েছিল? সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ নয়। প্রচলিত মতে জানা যায়, সন্নিহিত নয়টি চক বা জনবসতির সমন্বয়ে গঠিত ‘নয় গাঁ’ কালক্রমে পরিবর্তিত হয়ে নওগাঁ নাম ধারণ করেছে। গ্রামগুলো হলো- ১. খাস-নওগাঁ, ২. হাট-নওগাঁ, ৩. পার-নওগাঁ, ৪. আরজী-নওগাঁ, ৫. চকইলাম, ৬. চকদেব, ৭. চকএনায়েত, ৮. চকমুক্তার ও ৯. গঞ্জ। নওগাঁকেই সাধারণভাবে নওগাঁ শহর হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। নওগাঁ নামের বানান এবং উচ্চারণে বেশ বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। ১৩২৫ বঙ্গাব্দে মুন্সী শুকুরুল্লাহ তরফদার প্রণীত একটি বাংলা পুস্তকে নওগাঁকে নওগাঁও বলা হয়েছে। শহর সন্নিহিত গ্রামবাসীর অনেকে একে লগাঁও বলেন। আবার নওগাঁ শব্দের উৎপত্তি ‘নও’ (ফরাসি শব্দ)-এর অর্থ নতুন ও ‘গাঁ’ (গ্রাম) শব্দ দুটি থেকে। অসংখ্য ছোট নদীর লীলাক্ষেত্র এ অঞ্চল। ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী নদীবন্দর এলাকা ঘিরে নতুন যে গ্রাম গড়ে ওঠে, কালক্রমে তা-ই নওগাঁ শহর। সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে তা জেলায় উন্নীত হয়। প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে সুপরিচিত নওগাঁ। নওগাঁও জেলার আয়তন ৩ হাজার ৪৩৬ বর্গকিলোমিটার। নওগাঁ জেলার সীমানা উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও জয়পুরহাট, দক্ষিণে রাজশাহী ও নাটোর, পূর্বে বগুড়া ও জয়পুরহাট, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও রাজশাহীর কিছু অংশ। নওগাঁ জেলার প্রধান নদ-নদী হচ্ছে আত্রাই, তুলসীগঙ্গা, ছোট যমুনা, নাগর, পুনর্ভবা ও ফকিরানী। নওগাঁ জেলার উপজেলা হচ্ছে ১১টি। নওগাঁ সদর, পত্নীতলা, আত্রাই, রানীনগর, মহাদেবপুর, পোরশা, নিয়ামতপুর, সাপাহার, বদলগাছি, মান্দা ও ধামইরহাট। এর মধ্যে ৪টি উপজেলা সীমান্তবর্তী। সাপাহার, পোরশা, ধামইরহাট ও পত্নীতলা। নওগাঁ জেলা রাজশাহী বিভাগের বিশেষ বরেন্দ্র অঞ্চল। সুপ্রাচীন সভ্যতা ও স্থাপত্যের প্রতি যাদের ঝোঁক এবং একসঙ্গে অনেক কিছু দেখতে চান, তাদের জন্য নওগাঁ জেলাকে ভ্রমণের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হবে সবচেয়ে ভালো। নওগাঁ জেলা প্রাচীন পৌণ্ড্রবর্ধনভুক্ত অঞ্চল। অন্যদিকে এটি বরেন্দ্রেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। নওগাঁ জেলা সুপ্রাচীন ইতিহাসসমৃদ্ধ ও তৎকালীন সম্পদশালী একটি জনপদ। এখানে পাওয়া সবচেয়ে পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনা থেকে প্রমাণিত, এই প্রাচীন জনপদ যিশুখ্রিস্টের জন্মের আগেই গড়ে উঠেছিল। পাহাড়পুর ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রাপ্ত নিদর্শন গুপ্ত, পাল ও সেনরাজ্যের অন্তর্গত বলে প্রমাণ করে। এ ছাড়া মুসলিম শাসনামলের বহু নিদর্শন এখানে পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads