• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১০ মহররম ১৪৪০
BK

রসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারত

রসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারত
সংরক্ষিত ছবি

মো. আবু তালহা তারীফ

রসুল (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের জন্য বিশ্বের লাখ লাখ মুসলিম ছুটছেন পবিত্র নগরী মক্কা ও সোনার মদিনায়। রসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করা সব মুমিন ব্যক্তির কামনা। মুমিন ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর দুই হাত তুলে স্বীয় প্রভুর কাছে একটি কামনা করেন, সেটি হলো রসুল (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারতের নসিব। যারা প্রিয় নবী (সা.)-কে ভালোবাসেন তারাই এই দোয়া করেন। রসুল (সা.)-কে ভালোবাসা ঈমানি দায়িত্ব। নিজের স্বজনের চেয়ে প্রিয় নবী (সা.)-কে ভালোবাসতে হবে। রসুল (সা.) বলেন, ‘কেউ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং দুনিয়ার সব মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।’ (বুখারি)

মানুষ যাকে ভালোবাসে, তার কাছে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করে। তার মনটি শুধু প্রিয় ব্যক্তির দিকে ধাবিত হয়ে থাকে। রসুল-প্রেমিকদের মন শুধু মদিনার রওজার দিকে থাকে। তাদের বিশ্বাস, মদিনায় গিয়ে প্রিয় রসুলকে সালাম ও দরূদ পড়ে মনের তৃষ্ণা মেটাবে। রওজায় দাঁড়িয়ে উম্মতের পড়া দরূদ ও সালাম রসুল (সা.) নিজ কানে শুনতে পান। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কবরের পাশে এসে সালাত পাঠ করে তা আমি নিজ কানে শুনি, আর যে তা দূরে থেকে পাঠ করে তা আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।’ (বায়হাকি)

রসুল (সা.)-এর রওজার কাছে গিয়ে সালাম দেওয়া আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার। যে ব্যক্তি রসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করবেন, তাকে রসুল (সা.) শাফায়াত করবেন। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হবে।’ (শরহুল মাওয়াহিব)

রসুল (সা.) যদি আজ জগতে থাকতেন, তাহলে মানুষ আনাচে-কানাচে থেকে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে হলেও আদব, সম্মান ও ভক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। যেহেতু তিনি ইহজগতে নেই, শুয়ে আছেন সোনার মদিনার রওজায়, আতহারে তার শাফায়াত পাওয়ার জন্য তার রওজা শরিফ আদব, সম্মান ও ভক্তির সঙ্গে জিয়ারত করতে হবে। মনের ভেতর ঈমান ও রসুল-প্রেম অন্তরে বিদ্যমান রেখে মদিনার দিকে যত অগ্রসর হবে, দরূদ শরিফ তত বেশি পড়বে। মদিনা শরিফে প্রবেশের সময় দরূদ শরিফ পাঠ করার পর ‘আল্লাহুম্মা হাজা হারামু নাবিয়্যিকা ফাজায়ালাহুনি ওকায়াতিম’ এই দোয়াটি পড়বে, প্রবেশের পর নিজের আসবাবপত্র অবস্থানস্থলে রেখে সুন্দর করে গোসল করে  ভালো পোশাক পরিধান করে সুগন্ধি লাগিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে মনটা রওজা শরিফের দিকে রেখে আদবের সঙ্গে রওনা হবে। রওজা শরিফের পাশ দিয়ে অতিক্রম করা সম্ভব না হলে প্রথমে মসজিদে নববীতে বাবে জিবরাইল বা অন্য কোনো দরজা দিয়ে আদবের সঙ্গে প্রবেশ করবে, মসজিদে নববীতে প্রবেশের পর মিম্বার ও রওজা শরিফের মাঝামাঝি স্থানে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়বে। সময় পেলে দুই রাকাত শুকরিয়া নামাজ পড়ে প্রাণ খুলে দোয়া করবে। এরপর রওজা শরিফের দিকে বিনয়ের সঙ্গে আগাবে, রওজা শরিফে প্রবেশ করে আদব ও ভক্তির সঙ্গে পায়ের দিক থেকে রসুল (সা.)-এর শিয়রের কাছে আসবে, রসুল (সা.)-এর চেহারা মুবারক বরাবর দাঁড়িয়ে রওজাকে সামনে রেখে বিনয়ের সঙ্গে ভক্তি ও ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়াবে, রসুল (সা.)-এর সমীপে দরূদ সালাম ‘আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রসুলুল্লাহ’ বলে পেশ করবে, সর্বসময় প্রেম ভালোবাসা রসুল (সা.)-এর রওজার দিকে রাখবে, এক হাত ডানে সরে শুয়ে আছে রসুল (সা.)-এর প্রিয় সাথী হজরত আবু বক্কর (রা.)। আবার এক হাত সরে শুয়ে আছেন হজরত উমর (রা.)। তাদের প্রাণভরে সালাম প্রদান করবে, পুনরায় রসুল (সা.)-এর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সালাত ও সালাম পাঠ করে প্রভুর দরবারে আকুতি ও মিনতি দিয়ে চোখের অশ্রু ফেলে রসুল (সা.)-এর ওসিলা করে মন ভরে দোয়া করবে, বিদায় নেওয়ার সময় আদবের সঙ্গে আস্তে আস্তে বের হতে হবে, বের হয়ে জান্নাতুল বাকি জিয়ারত করে সব উম্মতের জন্য দোয়া করবে, রসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারতের সুযোগ পাওয়ার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং বার বার জিয়ারতের সুযোগ দানে প্রভুর দরবারে আকুতি জানাতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী)

সর্বোপরি রসুল (সা.)-এর রওজা মোবারক সম্মানের সঙ্গে আমাদের সবাইকে জিয়ারত করতে হবে। যাদের রসুল (সা.)-এর রওজা মোবারকে যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে, তাদের দেরি না করে অচিরেই রওজা মোবারক জিয়ারতে যাওয়া প্রয়োজন। যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের উচিত তার রওজা জিয়ারতের আশা করে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করা এবং বেশি বেশি করে রসুল (সা.)-এর ওপর দরূদ ও সালাম পাঠানো। কেননা সব উম্মতের পাঠানো সালাম রসুল (সা.)-এর কাছে পৌঁছানো হয়ে থাকে। হজরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন- ‘আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নিযুক্ত একদল ফেরেশতা পৃথিবীতে ভ্রমণরত আছে। তারা আমার কাছে আমার উম্মতের পাঠানো সালাম পৌঁছে দিয়ে থাকে।’ (নাসাঈ শরিফ)

লেখক : গবেষক