• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৪ মহররম ১৪৪০
BK

দারিদ্র্য কমলেও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমেনি

সিপিডির লেকচারে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিবিদ জুমো
দারিদ্র্য কমলেও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমেনি
সংরক্ষিত ছবি

খাদ্য নিরাপত্তা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মালয়েশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিবিদ প্রফেসর জুমো খোয়ামি সুন্দরম বলেছেন, দারিদ্র্য কমলেও ক্ষুদার্থ মানুষের সংখ্যা কমেনি। বিশ্বে আগের তুলনায় খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়লেও এখনো অনেক মানুষ অভুক্ত থেকেই তাদের দিন কাটাচ্ছে। অন্যদিকে অনেক বেশি মানুষ অপুষ্টির শিকার হচ্ছেন। পুষ্টিমানসম্মত খাবারের অভাবে স্থূলকায় মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ জন্য খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি সুষম বণ্টন এবং মান নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর হোটেল লেকশোরে একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ‘এসডিজি বাস্তবায়নে মূল্যায়ন চ্যালেঞ্জ; খাদ্য, জ্বালানি ও বৈষম্য’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান।

প্রসঙ্গত, প্রফেসর জুমো খোয়ামি ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফেলো ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। তিনি ইয়েলি ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।

বাংলাদেশেও আনুপাতিক হারে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে- এমনটিই মনে করছেন প্রফেসর জুমো। তবে এ বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য দেননি তিনি। তার মতে, বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দর বাড়ার কারণে বাংলাদেশের মানুষ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশকে মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন, সুষম বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন এ অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, এখন খাদ্য উৎপাদনে এবং প্রক্রিয়াকরণে অনেক বেশি রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে মানুষ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও ডিজেল ব্যবহারে একদিকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে অন্যদিকে প্রচুর পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে। এতে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সোলার প্যানেলে বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ রফতানির বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পৃথিবীব্যাপী অসমতা দূরীকরণে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জুমো। সমস্যা দূরীকরণে সম্পদের যে ধরনের ব্যবহার প্রয়োজন, তা না করে অনেক ক্ষেত্রে উল্টোটাই করা হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনের পরিবর্তে অভিবাসন সমস্যার দিকে অনেক বেশি নজর দিতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে প্রফেসর জুমো বলেন, যত বেশি উন্নতি ঘটছে তত বেশি অসমতা ও বৈষম্য বাড়ছে। দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে সম্পদ উন্নত দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে। তার শিকার হচ্ছে এশিয়া ও আফ্রিকার অধিকাংশ দেশ। তিনি আরো বলেন, সাধারণত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ যে ধরনের পণ্য উৎপাদন করে থাকে সেগুলোর দামের বড় ধরনের পতন ঘটছে। কিন্তু উন্নত বিশ্ব যে ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে সেগুলোর প্যাটেন্ট রাইটসহ নানা ধরনের আইনকানুনের কারণে সেগুলোর দাম সেভাবে কমছে না। ফলে এতেও এক ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। বৈষম্যের ক্ষেত্রে শিল্পায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনেরও ভূমিকা রয়েছে। তবে পৃথিবীব্যাপী সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে বৈষম্য অনেক ক্ষেত্রে কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, চীন বর্তমানে আমেরিকায় অনেক বড় বিনিয়োগ করছে। চীন চাইলে বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও আরো বেশি বিনিয়োগ করতে পারে। তবে চীনের বিনিয়োগ বাড়াতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর নেতৃত্বকে আরো জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সিনিয়র রিচার্স ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. মুস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।