• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৬

মতামত

বঙ্গবন্ধু : মাটি ও মানুষের নেতা

  • আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া
  • প্রকাশিত ১৭ মার্চ ২০১৮

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে নেতার জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হতো না। হাজার বছরের শাসন-শোষণে নিঃশেষিত বাঙালি জাতিকে তিনি শেষবারের মতো রুখে দাঁড়াতে বলেছিলেন। বিনিময়ে জীবন দিয়ে হলেও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার অঙ্গীকার করেন। এই মহান নেতা বাঁচতে পারেননি। তবে এর আগে আমাদের স্বাধীন দেশের নাগরিকের মর্যাদা উপহার দিয়ে যান। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার। আজ ১৭ মার্চ তার জন্মদিন। বাঙালির আনন্দের দিন, উৎসবের দিন। বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেন এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। যে পরিবারে কয়েক পুরুষ আগেই শিক্ষার আলো প্রবেশ করেছে। একসময় তারা উচ্চবিত্ত এবং প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এমন এক পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেন। স্রষ্টার ইচ্ছা আর স্বীয় যোগ্যতায় হতে পেরেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বঙ্গবন্ধু এ দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি দুর্বল ছিলেন। কী করে এ জাতির মুক্তি হবে, উন্নতি হবে- এটা ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। তাই কৈশোর থেকে তার আচরণ ছিল অন্যদের থেকে ভিন্ন, মানুষের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া ছিল তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এ দেশের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন স্বপ্নপুরুষ। তিনি যেমন খেটে খাওয়া মানুষের সান্নিধ্য পছন্দ করতেন, তেমনি তাকে এক নজর দেখার জন্য পথে-প্রান্তরে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতো।

ষাটের দশকের অন্তিমক্ষণ। জনতার পদভারে প্রকম্পিত এবং স্লোগানে মুখর রাজপথ। ফিল্ড মার্শাল আইউব খানের পতনের মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছে সংগ্রামী জনতার বিজয়ের মাইলফলক। স্বাধিকার আন্দোলন শেষে জনতা স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে ধাবমান। জনরোষের আগুন নেভাতে সামরিক স্বৈরশাসক ঘোষণা দেয় নির্বাচনের। ইয়াহিয়া বললেন, ‘কোই আগার-মাগার নেহি, ইলেকশন হোগা।’ শুরু হলো নির্বাচনের তৎপরতা। যুদ্ধে নামল সব দল। নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে ১২ নভেম্বর হঠাৎ প্রকৃতির রুদ্ররোষের শিকার হলো দেশের দক্ষিণাঞ্চল। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ২০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সরকার দুর্যোগকবলিত ভাটি অঞ্চলের নির্বাচন স্থগিত করে। সবার আগে যিনি ত্রাণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছুটে গিয়েছিলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর পাশাপাশি তাকে নির্বাচনী প্রচারেও ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়।

’৭০ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ভোলা মহকুমায় জাতীয় সংসদের দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ডা. আজহার উদ্দীন আহমেদ ও ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের অন্যতম নায়ক তোফায়েল আহমেদ। আর চারটি প্রাদেশিক পরিষদের আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন মোশাররফ হোসেন শাহজাহান, নজরুল ইসলাম, রেজা-ই-করিম চৌধুরী চুন্নু মিয়া ও মোতাহার হোসেন মাস্টার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাজসাজ রব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনী সফরে আসছেন ভোলায়। এখান থেকে যাবেন পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুরসহ ভাটি অঞ্চলে। আমি তখন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বঙ্গবন্ধু আসবেন, তাকে দেখব, তার অনলবর্ষী বক্তৃতা শুনব— এই আশায় আমরা সবাই উজ্জীবিত, উৎফুল্ল। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বেদনা বুকে নিয়েও আমরা বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকি। লঞ্চঘাট থেকে নেমে বঙ্গবন্ধু যে পথে যাবেন, সেখানে কয়েকটি তোরণ নির্মাণ করা হলো। অবশ্য সামান্য দেবদারু পাতা ও কলাগাছ দিয়ে। এ নিয়ে প্রথম বিবাদ শুরু হলো আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছাত্রলীগের। প্রথম তোরণটি হবে আওয়ামী লীগের নামে এই দাবি তুললেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শাহিন দা। কিন্তু আমরা ছাত্রলীগ এ কথা মানতে নারাজ। আমাদের কথা, প্রথম তোরণটি হবে ছাত্রলীগের নামে। শেষ পর্যন্ত আমরাই জয়ী হলাম। বঙ্গবন্ধু আইডব্লিউটিএ’র একটি ছোট জাহাজে করে এসেছিলেন নির্বাচনী সফরে। জাহাজ থেকে নেমে বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের তোরণের সামনে এলে আমরা স্লোগানে ফেটে পড়ি। ‘আইউব না মুজিব, মুজিব মুজিব’, ‘পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ প্রভৃতি স্লোগানে মুখর হলো নদীর কূল। বঙ্গবন্ধু আমাদের বুকে টেনে নিয়ে বললেন, ‘তোদের স্লোগান হলো না। আমি স্লোগান দিই, তোরা ধর, শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি-প্রগতি’। এরপর আমাদের গগনবিদারী স্লোগানে পল্লীপ্রান্তর মুখর হয়ে ওঠে।

বঙ্গবন্ধু খেয়াঘাট থেকে সোজা চলে যান ভোলা শহরে মোল্লাদের ব্যবসা কেন্দ্রে। মরহুম সোলায়মান মোল্লা ছিলেন গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর। সেই সুবাদে সেদিন বিকালে ছিল সরকারি স্কুলের মাঠে নির্বাচনী জনসভা। সকাল থেকেই ভোলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দৌলতখান, লালমোহন, বোরহানুদ্দীন, তজুমুদ্দিন, চরফ্যাশন, রামদাসপুর প্রমুখ এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হতে থাকে জনসভাস্থলে। বঙ্গবন্ধু সেদিন প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন। তার সারা শরীর কাঁপছিল। অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে সভাস্থলে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছিলেন অনড়। তিনি জনসভায় যাবেনই।

বঙ্গবন্ধুকে সভামঞ্চে যে মালা দিয়ে বরণ করা হবে, সে মালাটি গাঁথার দায়িত্ব নিয়েছিলাম আমি। এজন্য ভোলা কলেজের মালি বিনোদের কাছে কয়েকদিন মালা গাঁথার কৌশল শিখেছিলাম। বিনোদ বলেছিলেন, ‘শুধু কামিনী ফুল দিয়ে এমন একটি মালা গাঁথা শিখিয়ে দেব যা বঙ্গবন্ধু খুব পছন্দ করবেন।’ সারা রাত কলেজ হোস্টেলের আঙিনায় বসে এই কামিনী ফুল দিয়ে একটি মালা বানিয়েছিলাম। শুধু মালার সৌন্দর্য নয়, ঘ্রাণেও আমোদিত হয়েছিল চারদিক। আর শুধু মাল্যদানই নয়, অত বড় বিশাল জনসভা পরিচালনার জন্য আমিও প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ভিন্নতর পোশাকে। সাদা জুতা, সাদা মোজা, সাদা প্যান্ট, সাদা বুশ শার্ট এবং সাদা ফৌজি টুপি। মঞ্চে ওঠার পর আমি যখন কামিনী ফুলের মালাটি পরাচ্ছিলাম, বঙ্গবন্ধু আমাকে আদর করে বলেছিলেন- ‘এ যে একেবারে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর শিষ্য!’

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পরপরই জামায়াতে ইসলামীর লোকেরা হাজার হাজার লিফলেট এদিক-সেদিক ছুড়তে থাকে। সভামঞ্চেও কয়েকটি লিফলেট এসে পড়ে। আমি একটি লিফলেট হাতে নিয়ে দেখলাম। শিরোনাম ছিল, ‘শেখ মুজিব জবাব দিবেন কী?’ সেই লিফলেটে মোট ষোলোটি প্রশ্ন ছিল। আমি সভা পরিচালনা করতে গিয়ে ঘোষণা দিলাম, এসব প্রশ্নের জবাব বঙ্গবন্ধুকে দিতে হবে না। আমরাই দেব। প্রথম প্রশ্নটি ছিল, ‘আপনি যদি পাকিস্তানের অখণ্ডতায় বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনার চেলাচামুণ্ডারা আপনাকে পাকবন্ধু না বলে বঙ্গবন্ধু খেতাব দিলেন কেন?’ আমি মাইকে বললাম, আপনাদের নেতা মাওলানা মওদুদী ও গোলাম আজম তো পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক হেরেমে আছেন। কাশ্মিরের আপেল, মারির আঙুর প্রভৃতি দেখলে আপনাদের মুখে লালা ঝরে। তাই দরকার মনে করলে আপনারা আপনাদের নেতাদের পাকবন্ধু খেতাব দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধু পদ্মা-মেঘনা-যমুনার কূলে হেঁটে মানুষ হয়েছেন। বাংলার মানুষকে ভালোবেসেছেন। বাংলার আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছেন, বাংলার মানুষের সুখে-দুঃখে তার হূদয় উদ্বেলিত হয়, তাই আমরা তাকে যথার্থভাবেই বঙ্গবন্ধু খেতাব দিয়েছি। এতে আপনাদের মনোবেদনা কেন? এভাবে এক একজন বক্তাকে ডাকার আগে আমি এক একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকি।

সেদিন অসুস্থতার জন্য বঙ্গবন্ধু বেশি লম্বা বক্তৃতা দিতে পারেননি। কিন্তু একটি দুটি কথা চুম্বকের মতো শক্তিশালী ছিল, যা মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শোনে। ছয় দফায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য পৃথক মুদ্রা প্রচলনের দাবি করেছিলেন, সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় সমালোচনার বিষয়। বঙ্গবন্ধু সাবলীল ভাষায় বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান একটি একান্নবর্তী সংসার। এর দুই ভাই। একজন পূর্ব পাকিস্তান, আরেকজন পশ্চিম পাকিস্তান। কেন্দ্র হলো বাপ-মায়ের মতো। বাপ-মাকে যেমন দুই ছেলে থাকলে সমান হারে ভরণপোষণ দেয়, তেমনি আমরা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান সমানভাবে কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ দেব। এখন মুদ্রা যদি ভিন্ন না হয়, তবে পশ্চিম পাকিস্তান বলবে, আমরা বেশি কামাই করি আর পূর্ব পাকিস্তানিরা বলবে আমরা বেশি করি। ভিন্ন মুদ্রা থাকলে ধরা পড়বে কাদের আয় কত। তাই আমরা পৃথক মুদ্রার দাবি তুলেছি। বঙ্গবন্ধু এককথায় ছয় দফা বোঝাতে গিয়ে বললেন, ‘ছয় দফার অর্থ— আমারটা আমার, তোমারটা তোমার।’ সভাস্থলে যাওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি যখন ভাষণ দেবেন, তখন আমরা যেন জনগণের মাঝখানে গিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করি। আমাদের এক কর্মী, চালাকি করে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার একটু বিরূপ সমালোচনা করতে গিয়ে জনরোষে পড়ে। সবাই সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘বুঝলেন না বঙ্গবন্ধু ঠিকই বলেছেন, আমাদেরটা আমাদের, তোমাদেরটা তোমাদের। এটাও বুঝলেন না!’ যাহোক, আমাদের সেই কর্মী কোনোমতে জনরোষ থেকে ফিরে এসে বঙ্গবন্ধুকে জনগণের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অভিহিত করেন।

আমার গায়ের রঙ যথেষ্ট কালো ছিল। বিশেষ করে, রাত-দিন নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বঙ্গবন্ধুর আগমন উপলক্ষে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে কাজ করতে গিয়ে একেবারেই চিড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার নেতাজীর পোশাক এবং জামায়াতিদের ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ভঙ্গি দেখে বঙ্গবন্ধু এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে, তোফায়েল আহমেদকে বলেন, ‘এই কালা পোলাটারে আমাদের সঙ্গে নিয়ে চল। সেই সুবাদে আমি দক্ষিণবঙ্গ সফরে বঙ্গবন্ধুর জাহাজে জায়গা পেয়েছিলাম।’

বঙ্গবন্ধু কত বড়মাপের নেতা ছিলেন, তার জনপ্রিয়তা কত বিশাল ছিল, সে সম্পর্কে একটি ঘটনা উল্লেখ করলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

নির্বাচনী জনসভায় কখনো কোনো নেতা সময়মতো যেতে পারছিলেন না। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাত্রা করলে পথে অসংখ্যবার তাকে থামতে হয়; কারণ হাজার হাজার মানুষ— ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ, সধবা-বিধবা দাঁড়িয়ে থাকে বঙ্গবন্ধুকে একনজর দেখার জন্য, তার কথা শোনার জন্য।

একবার পটুয়াখালী শহর থেকে জাহাজ ছাড়ার পর বঙ্গবন্ধুকে অন্তত বিশটি স্থানে জাহাজ থামাতে হয়। কারণ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন বঙ্গবন্ধুকে দেখার এবং তার কথা শোনার জন্য। শেষ পর্যন্ত শারীরিক দুর্বলতা এবং একই সঙ্গে আরেকটি বড় নির্ধারিত সভায় দ্রুত পৌঁছানোর জন্য বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আর কোনো অনির্ধারিত স্থানে জাহাজ থামানো যাবে না।’ কিছুক্ষণ জাহাজ চলার পর দেখা গেল, হাজার দুয়েক মানুষ হাত নেড়ে বঙ্গবন্ধুর জাহাজ থামানোর জন্য চিৎকার করছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জাহাজ না থামিয়ে চালিয়ে যেতে বলার পর দেখা যায়, মানুষ ঝাঁপ দিয়ে নদীতে পড়ছে এবং সাঁতরিয়ে জাহাজ ধরার চেষ্টা করছে। তাড়াতাড়ি বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘থামা, থামা। জাহাজ থামা। এগুলো তো ডুইব্বা মরবে।’ তখন জাহাজ থামানো হলো এবং বঙ্গবন্ধু সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলেন। তারা খুশিমনে ফিরে যান।

বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়তেই আমাদের মানসচোখে ভেসে ওঠে সেই সুপুরুষ বাঙালি— ব্যাক ব্রাশ করা চুল, পরনে ধবধবে সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও কালো মুজিব কোট, কাঁধে জড়ানো কাঁঠালিচাঁপা রঙের শাল। আজো আমাদের চিত্তে ধমনিতে রক্তকণিকায় ঝড় ওঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করলে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বলেই মাত্র নয় মাসে আমরা পাকিস্তানি হানাদারদের পরাস্ত করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে পেরেছি। অথচ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে কেবল বঙ্গবন্ধু ছিলেন না বলেই আমরা বিনা যুদ্ধে পরাজয় বরণ করি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই আত্মসমর্পণ করি। প্রমাণিত হয়, একটি জাতির জন্য নেতৃত্বের কত প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে শুধু আজ বাঙালিদের নেতাই হতেন না, তিনি হতেন বিশ্বনেতা। বিশ্বনেতা হওয়ার এই সূর্য সম্ভাবনাকে যারা নস্যাৎ করেছে, বাংলার পবিত্র মাটিতে তাদের ঠাঁই হওয়া উচিত নয়। এই সত্যটি আমরা যদি মনে না রাখি, তবে আমাদের রাজনীতি নিয়ত চোরাবালিতে হোঁচট খেতে থাকবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads