• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

মতামত

প্রাথমিক সমাপনীতে এমসিকিউ বাতিল

  • প্রকাশিত ০৭ এপ্রিল ২০১৮

অবশেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা থেকে এমসিকিউ বা বহুনির্বাচনী অংশ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পরিবর্তে শতভাগ যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নে অর্থাৎ সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা এ বছর থেকেই চালু হবে। মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে বিশেষজ্ঞ মহলে। উপরন্তু শিশু শিক্ষার্থীদের ওপরও মনস্তাত্ত্বিক চাপ পড়বে বলে অনেকে মনে করছেন।

শিক্ষার প্রসার ও দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকারের বেশকিছু ইতিবাচক প্রচেষ্টার মধ্যে দেশের পাঠদান কাঠামো ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাব্যবস্থায় আকস্মিকভাবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান ও পরীক্ষার ব্যাপারে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও এখন সেটা সয়ে গেছে। তার মানে আমরা ধরে নিতে পারি, শিক্ষায় সৃজনশীল কাঠামোর প্রয়োগ এখন আর কোনো সমস্যা নয়। তবে এটাও সত্য, সৃজনশীল পাঠদান ও পরীক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই প্রশ্ন ফাঁসের প্রবণতা বেড়েছে।

 

তার অর্থ এটা নয় যে, সৃজনশীল প্রশ্ন আতঙ্কে— শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন খুঁজছেন। প্রশ্ন ফাঁসের বহুবিধ কারণ থাকতে পারে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই খুঁজে বের করতে হবে। অথচ প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে গিয়ে হঠাৎই পিইসি থেকে এমসিকিউ অংশ রদ করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখা প্রয়োজন ছিল। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের গবেষণা, জরিপ কিংবা বিশেষজ্ঞ মহলের মতামত নেওয়া হয়েছে বলেও আমাদের জানা নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অস্বস্তির মধ্যে ফেলবে বলে অভিভাবকদের অভিমত। সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ায় পাবলিক পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা কম থাকে এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ছে বলে বিভিন্ন সময় মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। আমরা তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি না। তবে নকল প্রবণতা রোধ করার লক্ষ্যে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর সৃজনশীলের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে কি না সেটাও ভেবে দেখা দরকার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads