• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

ফাইল ফটো

রাজনীতি

‘এখনই খালেদা জিয়ার বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন দেখছি না’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ এপ্রিল ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এখনই বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন তার জন্য গঠন করা মেডিকেল বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শামসুজ্জামান। রোববার গণমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য জানান।

মেডিকেল বোর্ড তাদের পরামর্শমূলক চিকিৎসাপত্রের ফাইল সিলগালা করে কারা কর্তৃপক্ষের হাতে দিয়েছে। তা প্রকাশ করা হবে বলে কারাসূত্রে জানা গেছে। 

এদিকে বিএনপি বলেছে, সরকারের এই চিকিৎসায় তাদের আস্থা নেই। চিকিৎসার নামে নাটক করেছে সরকার। এই চিকিৎসায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান ডা. মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘এখনো আমাদের কাছে পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। রিপোর্ট হাতে পেলে বলতে পারব কী অবস্থা। এখন বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার দরকার আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দরকার দেখছি না। তবে বিদেশে পাঠানোর মতো বা রিকমেন্ড করার জন্য কিছু দেখছি না। রিপোর্টে এমন কিছু এলে তখন বলতে পারব তাকে বিদেশে নিতে হবে কি না।’

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার বাতজনিত রোগ রিউমেটাল আর্থ্রাইটিস ও অস্টো আর্থ্রাইটিস রোগ রয়েছে। হাড়ের জয়েন্টের কিছু রোগ আছে। এগুলো ওষুধ খেলে ভালো থাকবে, আবার বাড়তে পারে কমতেও পারে।

খালেদা জিয়া কারাগারে যে পরিবেশে আছেন সেখানকার পরিবেশ অনুযায়ী তার এই অসুখগুলো শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে কি না- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি যেখানে থাকেন সেখান থেকে ৫০-৬০ গজ দূরে নিয়ে আসার পর আমরা তাকে দেখেছি। তার রুমের ভেতরে তো যেতে পারিনি, সে পরিবেশ তো দেখার সুযোগ হয়নি।

মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানসিকভাবে দৃঢ় দেখেছি। কিন্তু অসুস্থতার জন্য শারীরিকভাবে দুর্বল দেখলাম। আর এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলোর চিকিৎসা দেশেই করা যাবে।

৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছর সাজা পেয়ে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। ৫৮ দিন পর শনিবার তিনি চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে আসেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আনা হয়।

বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার কোমর ও ঘাড়ের এক্সরে করা হয়। পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে এসব পরীক্ষা করা হয়।

ওই দিনই খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরই বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ-আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, আপাতদৃষ্টিতে তিনি ভালো আছেন।

এর আগে ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিকেল বোর্ড কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। পরদিন বোর্ডের সদস্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক মো. শামছুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তবে গুরুতর নয়। শুক্রবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের স্বাস্থ্য খুব ভালো নয়।’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads