• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
ইস্যুর চক্করে বিএনপি

লোগো বিএনপি

সংরক্ষিত ছবি

রাজনীতি

ইস্যুর চক্করে বিএনপি

সহায়ক সরকার, খালেদার মুক্তি থেকে মাহমুদুর রহমান

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ১১ আগস্ট ২০১৮

ইস্যুর চক্করে খাবি খাচ্ছে বিএনপি। একের পর এক হাতছাড়া হচ্ছে জনগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আন্দোলনের বিষয়। কোনোটিই কাজে লাগাতে পারছে না দলটি। সহায়ক সরকার প্রথম অগ্রাধিকার হলেও নতুন নতুন ইস্যুতে খেই হারিয়ে ফেলছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দলটি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপির সামনে হঠাৎ হাজির মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা। এর সবগুলোই নিজস্ব দল সংশ্লিষ্ট। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুর ধারে-কাছেও যেতে পারছে না দলটি। এর আগে কোটা এবং সর্বশেষ নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ইস্যুটিও নিজেদের অদক্ষতায় গুলিয়ে ফেলে বিএনপি। কেউই জানে না, তাদের সামনে নতুন আর কি ইস্যু অপেক্ষা করছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের মন্তব্য, আন্দোলন তুঙ্গে নেওয়ার মতো শত ইস্যু হাতছাড়া করেছে হাইকমান্ড। সময়ের আবর্তে জাতীয় ইস্যু নিরপেক্ষ সরকারের দাবি ছেড়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছেন নেতারা। তাদের কর্মসূচি ও কর্মকাণ্ডে মনেই হচ্ছে না, দলের প্রধান খালেদা জিয়া অসুস্থ অবস্থায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে কারাগারে।

২০০৬ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রক্ষমতা হারায় বিএনপি। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১২ বছরে জাতীয়, দলীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে শতাধিক আলোচিত ঘটনা ঘটেছে বিএনপি কেন্দ্রিক। দলীয় ইস্যুর মধ্যে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ নেতাদের কারাবাস, দল খণ্ডিত করা, সেনানিবাসের বাড়ি থেকে জিয়া পরিবারের বিদায়, গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার ৯৩ দিন অবরুদ্ধ থাকা, ১৮ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের সাজা, খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ অন্যতম।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি নিয়ে ২০১৩ সালে তুঙ্গে ওঠা আন্দোলনে সরকার পানি ঢেলে দেয় স্বল্প সময়ের মধ্যে আরেকটি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু চাওয়া অনুযায়ী প্রাপ্তি মেলেনি। তাই ফের দল নিরপেক্ষ ব্যক্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে মাঠে নামে বিএনপি। পরে সেটাও আদালতের আদেশে উবে যায়।

জাতীয়-জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল আটবার গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম, নগরীতে যানজট, জলজট, স্থানীয় সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অপসারণসহ অর্ধশত ইস্যু। কিন্তু কোনোটাই কাজে লাগাতে পারেনি বিএনপি। দলটির শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলছেন, দলের অভ্যন্তরীণ সঙ্কট, দুর্বল নেতৃত্ব, জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি না থাকা এবং সরকারের দমন নীতির কারণেই মূলত দাঁড়াতে পারছে না বিএনপি।

নির্দলীয় সরকারের দাবিতে যখন রাজপথ উত্তপ্ত, তখন খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে সোচ্চার হয় বিএনপি। এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাজা দিয়ে দলীয় প্রধানকে কারাগারে পাঠানোয় তার মুক্তির একদফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামেন দলীয় নেতাকর্মীরা। রাজপথ এবং আদালতপাড়া সরগরম হয়। কিন্তু একপর্যায়ে হতাশ হয়ে আইনজীবীরা জানান, রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া মুক্তি মিলবে না। এরপর খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দাবি হয় খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার। চলমান আন্দোলনের এ গতি ঘুরে যায় বিএনপিপন্থি সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ নেতা ও বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায়। তবে এ ইস্যুটিও একপর্যায়ে স্তিমিত হয়ে পড়ে।

যুগ্ম-মহাসচিব পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সরকার একের পর এক নতুন ইস্যুর দিকে বিএনপিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাহমুদুর রহমানের প্রতি আমাদের  শ্রদ্ধার কমতি নেই। তবে মূল ইস্যু ফেলে আমাদের নেতাদের দৌড়ঝাঁপে মনে হচ্ছে দলের শীর্ষ কোনো নেতার বড় কিছু ঘটেছে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম রব্বানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা) প্রায় ছয় মাস ধরে কারাগারে। সুচিকিৎসা মিলছে না। অথচ আমাদের নেতাদের চলন, বচন এবং কর্মসূচিতে মনে হচ্ছে না তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগারে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের চাল-চলনে তার বহিঃপ্রকাশ নেই। অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা গ্রেফতার হলে সংশ্লিষ্ট দল থেকে এক দিনের কর্মসূচি আসে। মনে হয় দিন দিন ম্যাডামের কথা ভুলে যাচ্ছি আমরা।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads