• মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫
ads
কারো একক নেতৃত্বে বৃহত্তর ঐক্য নয়

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান

সংরক্ষিত ছবি

রাজনীতি

কারো একক নেতৃত্বে বৃহত্তর ঐক্য নয়

  • রেজাউল করিম লাবলু
  • প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘আমরা সবাই রাজা। তাই কারো একক নেতৃত্বে নয়। সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করবেন।’ গতকাল বাংলাদেশের খবরকে এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এর আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এরপর কর্মসূচি ঘোষণা করে তা এদিকে গতকাল অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘বৃহত্তর জোট’ গঠনের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিএনপি। প্রয়োজনে গণফোরাম সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এই জোট হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তিনি এমন খবর পড়েছেন। তবে এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দুই দফা বৈঠকের কথা বলা হলেও ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল তাদের মধ্যে বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

আগামীকাল শনিবার রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। প্রধান বক্তা থাকবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এদিন ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততার ঘোষণা করা হবে কি না জানতে চাইলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সম্ভাবনা নেই। আরো সময় লাগবে। আরো আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে। তবে সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন।

জোট গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত গণফোরামের এক নেতা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দেশের জনগণ শুধু ক্ষমতার পালাবদল কিংবা ব্যক্তির পরিবর্তন দেখতে চায় না। জনগণ দেখতে চায় সুশাসন। নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চায়। রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন চায় জনগণ। জনগণের এই চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে কাজ করছেন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। বর্তমান বিএনপির নেতারাও এমনটা চান। এটি একটি পজিটিভ দিক।

তিনি বলেন, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনদলীয় জোটের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে বিএনপি তা বাস্তবায়ন করেনি। ’৯৬ সালে ১৪-দলীয় জোট গঠন করে ২৩ দফা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ এসব দফা বাস্তবায়ন করেনি। এবার তাদের নেতা ড. কামাল হোসেন খুবই সতর্ক। তিনি চান এবার আর ঘোষণা নয়। বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য তিনি ক্ষমতার বাইরে নয়, ভেতরে থাকতে চান।

বৃহত্তর ঐক্য গঠনের পর কর্মসূচি কীভাবে পালন করা হবে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক জোটগুলো যেভাবে যুগপৎ আন্দোলন করেছে প্রয়োজনে সেভাবেই আন্দোলন করবেন তারা।

ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন নেই। এগুলো ফিরিয়ে আনতে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইস্যুভিত্তিক বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ঘটবে।

তিনি বলেন, কয়েকটি ইস্যুতে তারা ঐকমত্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা। এই মুহূর্ত থেকে সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার বন্ধ করা। আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ করা। সরকার, সংসদ, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা। ক্ষমতার কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গিয়ে কেউ যেন ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ না করে, সেজন্য প্রচলিত রাজনীতি, রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা ও সংবিধানের আমূল সংস্কার সাধন করা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads