• বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

খেলা

আচরণবিধি লঙ্ঘন

সাকিব-নুরুলের শাস্তি

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৭ মার্চ ২০১৮

আচরণবিধি ভাঙার জন্য শাস্তি পেতে হলো বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসানকে। আর এমন ঘটনা ঘটলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের নাটকীয় জয়ের ম্যাচটিতেই।

দু্ই জনকেই ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট।

২০১৬ সালে ডিমেরিট পয়েন্ট চালু হওয়ার পর তারাই প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত করলেন নামের সাথে।

টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ ওভারে মাঠের ভেতরের মতো বাইরেও জমে উঠেছিল নাটক। আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে দুই ব্যাটসম্যানকে বেরিয়ে আসতে ইশারা দিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব।

অন্য দিকে বাংলাদেশ দলের বেঞ্চে থাকা নুরুল হাসানের লঙ্কানদের বেশ কজনের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। লঙ্কান অধিনায়ক থিসারা পেরেরার দিকে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাকে।

শনিবার সকালে সাকিব আর নুরুল দুজনেই ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রডের শাস্তি মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

শুক্রবারের ঘটনা হতাশাজনক উল্লেখ করে ব্রড জানান, কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের এই ধরনের আচরণ কাম্য নয়। যদি চতুর্থ আম্পায়ার সাকিব ও তীব্র প্রতিবাদ করা ফিল্ডারদের না থামাতেন আর মাঠের আম্পায়াররা নুরুল ও থিসারার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করতেন তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।

ঘটনার শুরু ম্যাচের শেষ ওভারে। জয়ের জন্য সেই ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১২ রান। ইসুরু উদানার প্রথম বলটি ছিল বাউন্সার। রান নিতে পারেননি মুস্তাফিজ। পরের বলও বাউন্সার, আবারও রান নেই। মাহমুদউল্লাহকে স্ট্রাইক দিতে গিয়ে রান আউট হন মুস্তাফিজ।

টি-টোয়েন্টিতে ওভারে সর্বোচ্চ একটি বল কাঁধের ওপর দিয়ে করা যায়। মুস্তাফিজ যখন ফিরছেন, মাহমুদউল্লাহ লেগ আম্পায়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আম্পায়ার ‘নো’ বলের সংকেত দেন।

এবার প্রতিবাদ করে লঙ্কান দল। আম্পায়ারকে ঘিরে ধরে তারা। লেগ আম্পায়ার গিয়ে মূল আম্পায়ারের সঙ্গে আলোচনা করে ‘নো’ তুলে নেন। এবার প্রতিবাদ করেন মাহমুদউল্লাহ। মাঠের বাইরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাকিব। চতুর্থ আম্পায়ার তাকে বারবার আটকাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন।

এর মাঝেই সাকিব ইশারা দেন দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্টকে। তিনি রিপ্লে দেখে সাকিবকে জানান বল কাঁধের ওপর ছিল। এবার সাকিবের সঙ্গে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দলের সবাই।

আম্পায়াররা নো বল দিতে রাজি নন। সাকিব ইশারায় দু্‌ই ব্যাটসম্যানকে ডেকে মাঠ ছেড়ে চলে আসতে বলেন। মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল মাঠের বাইরে প্রায় চলেই গিয়েছিলেন। দুই দলের অন্য ক্রিকেটারদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

কথার লড়াই তো ছিলই, প্রায় হাতাহাতির উপক্রম। বাংলাদেশ দলের বেঞ্চে থাকা নুরুলের সঙ্গে লেগে যায় লঙ্কানদের বেশ কজনের। ভরা গ্যালারি ফুটছিল তীব্র উত্তেজনায়। শব্দে কান পাতা ছিল দায়।

তখন ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলান ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। ব্যাটসম্যানদের বলেন খেলা চালিয়ে যেতে। সাকিব ক্ষোভ নিয়ে ঢুকে যান ড্রেসিং রুমে। সেখান থেকে মাহমুদউল্লাহর বীরত্বে আসে অসাধারণ জয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads