• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads

ভ্রমণ

শুধু আনন্দের জন্য ভ্রমণ নয়, আছে শিল্পকলাও!

  • প্রকাশিত ৩০ মার্চ ২০১৮

ভ্রমণ শুধু রোমাঞ্চকর অভিযান নয়, ভ্রমণ একপ্রকার শিল্পকলা। অ্যালেন ডি বটন বলেছেন, ভ্রমণ হচ্ছে শিল্পকলার শিল্পকলা। কারণ ভ্রমণের মধ্য দিয়েই জাগ্রত হয় মানুষের সুপ্ত সত্তা।

অ্যালেন ডি বটন এ সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন লেখক। জন্ম সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ১৯৬৯ সালে। তিনি মূলত দার্শনিক মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। কীভাবে মানুষ সুখী হতে পারে, কীভাবে জীবন ও জগতের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে, বৈষম্য কমিয়ে কীভাবে একটা সমতার পৃথিবী গড়ে তোলা যায়- এসব তার আলোচনার বিষয়। ১৯৯৩ সালে তিনি লেখেন ভালোবাসার ওপর একটি প্রবন্ধ, ‘অন লাভ’। বইটি এ পর্যন্ত দুই মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। তার আরেকটি বিখ্যাত বই হচ্ছে ‘কীভাবে প্রুস্ত আপনার জীবনকে পরিবর্তন করে দিতে পারে’ (How Proust Can Change Your Life (1997)। তার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে আছে- The Consolations of Philosophy (2000), The Architecture of Happiness (2006)।

The Art of Travel অ্যালেন ডি বটনের আত্ম-আবিষ্কার বিষয়ক তৃতীয় প্রকাশিত বই। বইটি বেরিয়েছিল ২০০২ সালে। প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বইটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। শখের ভ্রমণ পিপাসুদের চেয়ে বইটি বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে শিল্পবোদ্ধাদের। এ বইতে বটন খুঁজেছেন কেন মানুষ ভ্রমণ করতে যায়? ভ্রমণ করতে গিয়ে সে কী পায়?

সাধারণত ভ্রমণ কাহিনীগুলো মানুষকে এই বলেই উদ্বুদ্ধ করে- কোথায় ঘুরতে যাবেন, ঘুরতে গিয়ে কী কী করবেন? কিন্তু বটন জানিয়েছেন, কেন আপনি ঘুরতে যাবেন এবং কীভাবে ঘুরবেন। বটন এ বিষয়ে বিখ্যাত শিল্প-সাহিত্যিকদের সাহায্য নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এডওয়ার্ড হোপারের কবিতা থেকে আমরা শিখি গ্যাস স্টেশন আর আধেক খালি ক্যাফেতেও কীভাবে সৌন্দর্য ছড়িয়ে থাকে। গুস্তাভ ফ্লুবার্টের লেখা পড়ে আমরা জানতে পারি, ঘর কেমন ভয়ঙ্কর হয়ে যায় একদিন। তখন আমাদের ঘর ছেড়ে পালাতে হয়। ওয়ার্ডসওয়ার্থ আমাদের সামনে এক অদেখা প্রাকৃতিক ভূমি উন্মোচন করে দেন। ভ্যান গঘ, কাসাপার ডেডিভ ফ্রিডরিকের মতো শিল্পীরা সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের এঁকে দেখিয়েও দেন। আমরা তাদের দেখানো পথ ধরে হাঁটতে পারি, আবিষ্কার করতে পারি আরো নতুন কিছু। এ কথা সত্য, ভ্রমণ না করলে বিভিন্ন দেশের শিল্পও ভালো করে বোঝা যাবে না। ভ্রমণ আমাদের কৌতূহলী করে, সতর্ক করে আর প্রকৃতির সঙ্গে এক করে; ফলে আমাদের মানসিক ভারসাম্য আসে।

বটন বইটি লেখেন নিজের জীবনের ছোট্ট একটি ঘটনা থেকে প্রভাবিত হয়ে। একবার তিনি বারবাডোসে ঘুরতে গেছেন একা। একজন কলিগের যাওয়ার কথা ছিল তার সঙ্গে। কিন্তু পরে আর তিনি যেতে পারেননি। সেটা ভালোই হয়েছিল। বটন একা একা ঘুরতে ঘুরতে একটা মজার জিনিস আবিষ্কার করেন। এক রেস্টুরেন্টে প্রেমিক-প্রেমিকা পুডিং নিয়ে খুব ঝগড়া করছে। এটা তাকে খুব ভাবাল, ঘুরতে এসেও তারা ঘরে থাকার মতো এমন বিশ্রী ঝগড়া করে কেন? বটন আবিষ্কার করলেন, আসলে তারা ভ্রমণের প্রকৃত শিল্পকলা জানে না। তাই তারা ঘুরতে এসেও ঘরের বিশ্রী অভ্যাসগুলো সঙ্গে করে নিয়ে আসে।

ভ্রমণ এখন সবচেয়ে বড় বাণিজ্য। এটা এমনকি অস্ত্র ও ওষুধ শিল্পকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। শুধু ভ্রমণকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে বিশাল ট্রাভেল এজেন্সি, অসংখ্য হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিং সেন্টার। কিন্তু ভ্রমণের আসল কারণই যেন দিন দিন আড়ালে চলে যাচ্ছে। আত্ম-আবিষ্কারের চেয়ে ভ্রমণ হয়ে উঠছে আত্মপ্রচারণার একটা মাধ্যম। এটাই বটন দেখাতে চেয়েছেন তার বই জুড়ে।

 

লেখাঃ কামরুল আহসান

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads