Logo

শিল্প-সংস্কৃতি

আজ একুশে বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৭

আজ একুশে বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জাতীয় নির্বাচন ও রমজানকে ঘিরে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেলা ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন এবং প্রদান করবেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫। ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ১ হাজার ১৮টি ইউনিটের বিশাল এই মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। নির্মাণকাজের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, পলিথিনমুক্ত পরিবেশবান্ধব আয়োজনের ঘোষণা, তিন শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরাসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে প্রস্তুত আয়োজকরা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট হুমকি না থাকলেও সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

মেলা প্রাঙ্গণে তাই গতকাল বুধবার চলে শেষ সময়ে স্টল নির্মাণের ব্যস্ততা। মেলা সংশ্লিষ্টরা জানান, ম্যাপে নাম্বার দিয়ে দেওয়া হলেও গতকাল পর্যন্ত স্টলগুলোর নাম্বারিং সম্পন্ন হয়নি। তবে স্টলের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। স্টল সাজানোর কাজ শুরু হবে আজ। তিন দিনের আগে তা শেষ করা সম্ভব নয়।

নির্মাণ শ্রমিকের অভাবে স্টল তৈরির কাজ খুব বেশি এগোয়নি। স্টল নির্মাণের সুবিধায় হার্ডওয়্যার দোকানও বসানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে। এতে প্রকাশকদের সময় বাচছে। 

এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা মেলা প্রাঙ্গণে এসে দোকান দিয়েছি। যেন স্টল নির্মাণকাজ দ্রুত ও সহজে শেষ হয়।’

আয়োজকরা বলছেন, এবার মেলা হবে পলিথিনমুক্ত। বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্টফুড, কফিশপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুতে ব্যবহারযোগ্য উপকরণ বা পরিবেশবান্ধব কাগজ, বোর্ড, কাপড় ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সচেতনতা প্রত্যাশিত।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম জানান, প্রকাশকদের একাংশের বর্জনসহ নানা জটিলতা ছিল মেলা নিয়ে। তবে সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই মেলার তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। 

গতকাল সকালে উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, মেলার মূল ভেন্যু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে তৈরি করা হয় সারিবদ্ধ স্টল। কোথাও কাঠের কাঠামোয় রঙের শেষ প্রলেপ, কোথাও বইয়ের তাক বসানো, আবার কোথাও নতুন প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের প্রস্তুতি চলে। 

স্টলগুলোর সামনে টানানো হয় প্রকাশনীর নামফলক ও আলোকসজ্জা। কর্মীরা বইয়ের প্যাকেট খুলে শেলফে সাজিয়ে রাখেন নতুন ও পুরোনো বই। শিশু-কিশোর কর্নার, গবেষণাধর্মী বই, কথাসাহিত্য ও কবিতার বই আলাদা করে প্রদর্শনের প্রস্তুতিও চলে। 

মেলা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠ পরিদর্শন করেন। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে আগেই।

রমনা কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুম, র‌্যাবের স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্সের অস্থায়ী ক্যাম্প এবং আনসার প্লাটুনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি ব্রেস্টফিডিং (মাতৃদুগ্ধ পান) কর্নার স্থাপন করেছে।

এর আগে মঙ্গলবার অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন বিষয়ে মেলার সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেলা ২টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ তুলে দেবেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

এদিকে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে বলে জানিয়েছে বইমেলা কর্তৃপক্ষ। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

এবারের বইমেলায় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি, মোট ইউনিট থাকবে ১ হাজার ১৮টি।

বইমেলায় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই : ডিএমপি
একুশে বইমেলাকে ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা শঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। 

বুধবার বেলা ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার এ তথ্য জানান। 

তিনি উল্লেখ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি না থাকলেও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং ৩০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে মেলা প্রাঙ্গণ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। 

ডিএমপির নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেলা প্রাঙ্গণে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ প্রতিটি স্তরে নিটোল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের মেলায় প্রবেশের সময় মেটাল ডিটেক্টরের পাশাপাশি ম্যানুয়েল চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ নিয়ে মেলায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডগ স্কোয়াড দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়মিত তল্লাশি করা হবে এবং নারী ও শিশুদের জন্য থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন বইয়ের বিষয়েও পুলিশের নজরদারি থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এই বিষয়টি নিবিড়ভাবে মনিটর করবে। 

যানবাহন চলাচল ও পার্কিং ব্যবস্থার বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজু ভাস্কর্য এলাকায় কোনো ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তবে টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তাটি সব সময় বন্ধ না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ে সময়ে খোলা রাখা হবে। 

দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মহসীন হল মাঠ, ফুলার রোড, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে মেলার সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

বিকেপি/এমএইচএস 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বইমেলা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলা একাডেমি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর