উন্মোচনের আন্তরিক প্রয়াস
ভাটি বাংলার লোকঐতিহ্যের সিন্দুক
সাইফুল ইসলাম
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:১২
ছবি: সংগৃহীত
মহুয়া, মলুয়া, কাজলরেখা, দেওয়ানা-মদিনাসহ বাংলা লোকসাহিত্যের অমর সব পালা ও লোককাহিনির সূতিকাগার বৃহত্তর ময়মনসিংহের পূর্বাঞ্চল- ভাটি বাংলা। নদী-হাওরবেষ্টিত এই জনপদ কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যেই নয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লালিত লোকঐতিহ্য, লোকসংগীত, লোকগাথা ও লোকশিল্পের অনিঃশেষ ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ। বিশেষ করে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ যেন লোকসংস্কৃতির এক অফুরন্ত ভাণ্ডার; যার পথে-প্রান্তরে আজও মণি-মাণিক্যের মতো ছড়িয়ে আছে বাংলার শেকড়ের ইতিহাস ও মানুষের জীবনবোধ।
এই ভাটি জনপদেরই সন্তান তালুকদার সারোয়ার জাহান আরেফিন। তাঁর রচিত ‘ভাটি বাংলার লোককাহিনি ও লোকসংস্কৃতি’ গ্রন্থে তিনি সেই বিস্মৃতপ্রায় ঐতিহ্যের সিন্দুকের ঢাকনা খুলে পাঠককে নিয়ে যেতে চেয়েছেন ভাটি বাংলার লোকজ জীবনের গভীরে।
গ্রন্থটির সূচিতে স্থান পেয়েছে ৩৭টি বিষয়। সূচনা হয়েছে ‘আমি এবং আমার’ শিরোনামের আত্মকথনধর্মী অংশ দিয়ে। এখানে লেখক নিজের পরিচয়ের পাশাপাশি পিতা ও পিতামহের স্মৃতিচারণ করেছেন। তুলে ধরেছেন শৈশব, শিক্ষাজীবন এবং পরবর্তী জীবনপথের নানা অনুষঙ্গ। এরপরের বিষয়গুলোর মধ্যে ১৭টিই লোককাহিনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কুশীলবদের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য। পাশাপাশি গাজীর গীত বা পালা, মেয়েলি গীত, গ্রামীণ প্রেমের কবিতা, বিলুপ্তপ্রায় পালতোলা নৌকা, ঘাটু গান, নেত্রকোনার কৃষি সংস্কৃতি, কলতা ঝাড়া, বাঘাইর গান, লোকজ খেলাধুলা, নৌকাবাইচের হাইর, স্থানীয় প্রবাদ-প্রবচনসহ নানা বিষয়ে তথ্যসমৃদ্ধ ও আন্তরিক আলোচনা স্থান পেয়েছে এ গ্রন্থে ‘ভাটি বাংলার লোককাহিনি ও লোকসংস্কৃতি’তে।
এই গ্রন্থের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো- নেত্রকোনার লোককাহিনি ও লোকসংস্কৃতির বহু অপ্রচলিত ও অজানা তথ্য লেখক যত্নের সঙ্গে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন। আঞ্চলিক ইতিহাস ও লোকঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এ প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
তবে বইটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কয়েকটি বানানগত ত্রুটি স্বাভাবিক পাঠপ্রবাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তা সত্ত্বেও হাওরের জলের মতো স্বচ্ছ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত এই গ্রন্থ পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী অনুরণন সৃষ্টি করবেÑ এমন প্রত্যাশা অমূলক নয়।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

