জবি শিক্ষার্থীদের ওপর ‘বিএনপি নেতার’ নেতৃত্বে হামলা, আহত ৭
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৫, ১২:৫৯
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুল হক সহিদের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (৪ মার্চ) রাতে রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জবি শিক্ষার্থী সম্রাট ধোলাইখাল এলাকার একটি মার্কেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ভুলক্রমে একটি নির্মাণাধীন ঢালাইয়ের ওপর পা রাখেন। এতে স্থানীয় কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধাক্কা দেন। সম্রাট প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তারা দলবেঁধে তাকে মারধর শুরু করে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সম্রাট তার সহপাঠীদের ফোন করে সাহায্য চান। খবর পেয়ে ইতিহাস বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাবিবসহ আরও দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় হামলাকারীদের মধ্যে নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল নেতা শহিদুল হক শহীদসহ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। তারা স্থানীয়দের উসকানি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। হামলার খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশো শিক্ষার্থী একত্রিত হন এবং প্রতিবাদ জানায়।
এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আল ফাহাদ নয়ন বলেন, ‘আমার বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান সম্রাটকে বিনা কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুলের নেতৃত্বে মারধর করা হয়েছে। তাকে রক্ষা করতে গেলে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে আমরা ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গেলে হামলাকারীরা আমাদের ওপরও হামলা চালায়। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, ‘ঘটনার পর আমি কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, বংশাল ও ওয়ারী থানার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা ফোর্স পাঠায়। আটকে থাকা শিক্ষার্থীকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। হামলার নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
পুলিশের ওয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনায় ধোলাইখাল এলাকার স্থানীয়রা এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে আটকে রাখে। এতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা দাওয়ার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুল হক শহীদ। রাত সাড়ে ৩টায় পুলিশ ও র্যাবের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে।’
এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছেন। মঙ্গলবার বাদ জোহর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
- জেএন/এমজে

