নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষ নিধন, গ্রীন ক্যাম্পাসের প্রতিবাদ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৫, ১৪:২৭
ছবি : বাংলাদেশের খবর
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুদ্বীপ এলাকায় গাছ কেটে ফেলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রীন ক্যাম্পাস’।
রেবাবার (৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাস্কর্যের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পরিকল্পনা দপ্তরের সিদ্ধান্তে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী বরই, কাঁঠাল ও তালগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু গাছের গোড়ায় এস্কেভেটর দিয়ে আঘাত করা হয়েছে যার ফলে গাছগুলোর স্থায়িত্ব সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা বলেন, ‘চারুদ্বীপ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান। এখানে অপ্রয়োজনীয় রাস্তা নির্মাণের নামে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে, যা পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
সংগঠনটির সভাপতি সাজন চন্দ্র পাড় বলেন, ‘একটি গাছের বয়স ২০-২৫ বছর হতে সময় লাগে। অথচ প্রশাসনের এক সিদ্ধান্তে সেগুলো কেটে ফেলা হয়েছে, কোনো বিকল্প চিন্তা করা হয়নি। আমরা চাই, পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা নেওয়া হোক এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে দ্রুত নতুন গাছ লাগানো হোক।’
সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে বৃক্ষনিধন ও সরকারি অর্থের অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন—
১. চারুদ্বীপের গাছগুলো কেন কাটা হলো, কর্তনকৃত গাছের কাঠ কোথায় নেওয়া হলো, এবং এর আলামত লোপাটের চেষ্টা কেন করা হলো-এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে হবে।
২. ক্যাম্পাসে কোনো অযৌক্তিক বৃক্ষনিধন করা যাবে না এবং ইতোমধ্যে যে গাছ কাটা হয়েছে, তার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
৩. ক্যাম্পাসের রাস্তা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং যেখানে আরসিসি নির্মাণ হয়েছে, সেখানে দ্রুত বিটুমিনের আস্তরণ দিয়ে ধুলাবালি দূর করতে হবে।
৪. ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন করতে হবে এবং মশার উপদ্রব কমাতে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে, কারণ তার কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও উন্নয়নের জন্য উপযোগী নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘উন্নয়নের নামে এসব কাজ আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই শুরু হয়েছে। অনেক সময় দায়িত্বে থাকা লেবারদের অশিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে ভুল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে।’
ডিপিডি হাফিজুর রহমানের নিয়োগ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন ডিপিডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। যোগ্য কাউকে পাওয়া গেলে প্রতিস্থাপন করা হবে। তবে আপাতত চলমান প্রকল্পগুলোর বিষয়ে একমাত্র তিনিই ভালোভাবে জানেন।’
মো. সাইফুল ইসলাম/এমআই

