সিঙ্গেল সিটের দাবিতে বাকৃবিতে থালা-বাটি বাজিয়ে ছাত্রীদের বিক্ষোভ
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৫, ০৯:১২
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে থালা-বাটি বাজিয়ে বিক্ষোভ করেছেন সুলতানা রাজিয়া হলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা থেকে হলের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা সিট সংকট ও প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় ‘শতভাগ আবাসন, প্রহসন প্রহসন’ স্লোগান তুলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলে সিট বণ্টনে বৈষম্যের প্রতিবাদ জানান।
ছাত্রীদের অভিযোগ, সুলতানা রাজিয়া হলে অবকাঠামোগত ভাবে কোনো গণরুমের ব্যবস্থা না থাকলেও লাইব্রেরি, জিম রুম, কমন রুম ও ডাইনিং রুমকে কাঠের তক্তা দিয়ে গণরুমে পরিণত করা হয়েছে। পাঁচটি ছাত্রী হলের মধ্যে শুধুমাত্র সুলতানা রাজিয়া হলেই গণরুমে ডাবলিং করে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যান্য হলের তুলনায় এখানে তীব্র সিট সংকট বিদ্যমান।
শিক্ষার্থীরা জানান, তারা প্রভোস্টকে বারবার অভিযোগ জানালেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চলতি বছর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য আইসোলেশন রুমে ৭৭টি সিট বরাদ্দ দেওয়ার ফলে সিটের সংকট আরও বেড়েছে।
হলের দ্বিতীয় বর্ষের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের হলে সিট সংকট আগের থেকেই রয়েছে। প্রভোস্টকে জানিয়েছি, ‘আমরা ২২-২৩ বর্ষের মেয়েরা গণরুমে ডাবলিং করে থাকি এবং নতুন ছাত্রী তোলার জন্য কোনো সিট নেই আমাদের’। এক ঘণ্টার বেশি কথা বলার পর উনি জানান যে প্রভোস্ট কাউন্সিলরের সাথে কথা বলবেন। আশ্বাস দেন, হলে সর্বোচ্চ ৬০ জন মেয়ে উঠাবেন, তার বেশি একজনও না। গণরুমের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে আমাদের। পড়াশোনার কোনো পরিবেশ নেই এখানে।
-67da35fb17cdd.jpeg)
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তারা ঈদের পর গণরুমের চেহারা দেখতে চান না এবং এক মাসের মধ্যে ব্লক বিল্ডিংয়ে সিঙ্গেল বেডের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
সুলতানা রাজিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন বলেন, সুলতানা রাজিয়া হলে প্রায় ৮৭৫ জন মেয়ে থাকে। এত শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করার মতো জায়গা এ হলে নেই। ওই হলের ভেতরে একটি বাসা ছিল। যার মধ্যে অনেক ছাত্রীকে আমাদের জায়গা দিতে হয়েছে। যাকে তারা গণরুম বলে। হলে বর্তমানে কোনো সিট খালি নেই। মেধা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে আমরা তাদের রুম দিয়ে থাকি (রুম খালি থাকা সাপেক্ষে)। কিন্তু এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছি।
আশিকুর রহমান/এমবি

