গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ১৫:৪১
গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত গণহত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের পাসপোর্টে ইসরায়েল ব্যতীত সকল রাষ্ট্র গমনের যে নির্দেশনা ছিল, সেখান থেকে ইসরায়েল নাম প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এভাবেই বাংলাদেশের বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার আওয়ামী লীগ পরোক্ষভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আজকে হাসিনা যেখানেই আশ্রয় নিন না কেন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী ইসলাম বিদ্বেষী, আলেম বিদ্বেষীরাই ইসরায়েলপন্থিদের সমর্থক ছিল। আমরা পত্রিকা থেকে যে পরিসংখ্যান পেয়েছি ৫০ থেকে ৬০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনবাসী হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই পরিসংখ্যানের চেয়েও আরো বেশি ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গণহত্যার বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার নয়, তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ যোগাচ্ছে মার্কিন বাহিনীর। আমরা তার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাই। মুসলিম বিশ্বের যারা মোড়ল তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা সারা পৃথিবীতে নির্যাতিত মুসলিমদের পাশে দাঁড়ান। আমরা অবিলম্বে ফিলিস্তিনের গাজায়, রাফায় গণহত্যা বন্ধ চাই। সারা বিশ্বের মানুষ জেগে উঠেছে। গতকাল সারাদেশের মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছে। আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রগতিশীল সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে, তার সাফল্য কামনা করি।
তিনি আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশে ইজরায়েলের পণ্য বয়কট করব। তার মানে এই না যে আমরা কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা করব। গতকাল বাংলাদেশের কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হামলা হয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের ব্যর্থতা এখানে লক্ষণীয়। তাদের উচিত ছিল আগে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা। তা হলে বাংলাদেশের নামে এই বদনামটা হতো না।
তিনি আরো বলেন, আমি বিএনপির পক্ষ থেকে একটি ঘোষণা দিতে চাই, ফিলিস্তিনদের পক্ষে এবং ইজরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে অতি শীঘ্রই সারা বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচির ঘোষণা করব।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আজ ফিলিস্তিনে ধারাবাহিকভাবে যে গণহত্যা চলছে ছাত্রদল সেটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যারা রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে ‘নো ওয়ার্ক নো স্কুল’ কর্মসূচির প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গত পরশুদিনই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী কর্তৃক ৫১ হাজারের অধিক নিরীহ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনে যেসব নারী-শিশুরা নিহত হয়েছে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জনাব রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন,স্বাধীন ফিলিস্তিন ছোট্ট রাষ্ট্র। সেখানকার শান্তিকামী মুসলমানরা নিজেদের আবাসভূমি স্থায়ী করার জন্য আন্দোলন করে আসছিলেন। কিন্তু দখলদার ইসরায়েল সন্ত্রাসী হামলার মধ্য দিয়ে পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক মানুষ নিহত হয়েছে। যার অর্ধেক নারী ও শিশু। এইরকম ধংসযজ্ঞ চলার পরেও যেসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধান প্রতিবাদ জানাননি তাদেরকে আমরা ধিক্কার জানায়। আজ জাতিসংঘসহ সকল মানবাধিকার সংগঠন নিশ্চুপ। গাজায় সর্বোচ্চ মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও তাদের কোনো প্রতিবাদ নেই। আজ থেকে যেখানে আমরা ইসরায়েলী পণ্য পাব সেখানে বয়কট করবো। আজ যদি সারা বিশ্বের মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে তাদের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারবে না। আজ সমাবেশ মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়ায়ের আহ্বান জানায়।
এমএমআই/এমএইচএস

