Logo

ক্যাম্পাস

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছ কেন?’, শিক্ষার্থীকে জবি রেজিস্ট্রার

Icon

জবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:২৪

অ
‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছ কেন?’, শিক্ষার্থীকে জবি রেজিস্ট্রার

‘বের হয়ে যাও! ওরে বের করে দাও! বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন পড়তে এসেছ, এলাকার কলেজে পড়লেই তো পারতে।’- এভাবেই দুর্ব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে রুম থেকে বের করে দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন। 

এই হেনস্তার শিকার হওয়া শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ। 

গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের গ্যারেজ থেকে গত তিন মাসে একাধিক সাইকেল চুরির ঘটনা নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে যান ইভান তাহসীভসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। 

এসব চুরির ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ নিয়ে যান তারা। তবে রেজিস্ট্রারের সমাধান না করে উল্টো অভিযোগকারীর ওপর চড়াও হয়ে রুম থেকে বের করে দেন। 

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার একটি অডিও ক্লিপ এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

অডিও ক্লিপে শোনা যায়, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে রেজিস্ট্রার ড. গিয়াস উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের মালামালের নিরাপত্তা দিতে পারব না, মালামাল শিক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা কী খাবে, কোথায় থাকবে? এই দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের না। শিক্ষার্থীদের কিছু হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর দায়ভার নিতে পারবে না। 

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘বের হয়ে যাও, ওকে বের করে দাও। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন পড়তে আসো, এলাকায় পড়লেই তো পারতে।’

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইভান তাহসীভ বলেন, ‘আমার এক ছোট ভাইয়ের সাইকেল চুরির অভিযোগ জানাতে আমরা রেজিস্ট্রার দপ্তরে যাই। আমি প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজ থেকে সাইকেল চুরির ঘটনা বললে, রেজিস্ট্রার উত্তেজিত হয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গ্যারেজ নেই। শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের আন্ডার গ্রাউন্ডের মালামালের নিরাপত্তার দায়িত্ব উনি নিতে পারবে না বলে জানান। শিক্ষার্থীরা টিউশনির জমানো টাকায় সাইকেল কিনে, সেই সাইকেল নিয়ে টিউশনি করে।’

ইভান বলেন, ‘তিনি যদি গ্যারেজের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে গ্যারেজ বন্ধ করে দিক। অথবা সাইনবোর্ড লাগিয়ে ঘোষণা করে দিক, শিক্ষার্থীদের কোনো মালামালের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় নিতে পারবে না। একপর্যায়ে তিনি আমাকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীকালে একাধিকবার বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘বিষয়টি আমি শোনা মাত্র রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলেছি। এটা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থীদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তা যেন আমার অফিসে দেয়, আমি এটার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জেএন/এমজে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন