চুরির অভিযোগে কুবি শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:২০
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস আহমেদকে চুরির অভিযোগে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাকে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান।
জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস ও তার সহপাঠী শামিম ভূঁইয়া সম্প্রতি কুমিল্লা শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠানে যান।
সেখানে রাব্বি এলাহী নামে এক ফটোগ্রাফারের ক্যামেরা লেন্স চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে আনাস ও তার বন্ধুকে সন্দেহভাজন দাবি করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন রাব্বি।
এরপর রাব্বি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শহীদ ধীরেন্দ্র দত্ত হলের সামনে আনাসকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আনাসের দাবি, তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অর্ধনগ্ন করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় এবং সেই ভিডিও ধারণ করা হয়।
এদিকে, কুবি প্রক্টরিয়াল টিম বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছিল। কিন্তু ফেসবুকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে, রাব্বির পরিচয় দেওয়া ‘ক্যাপ্টেন পলাশ’-এর পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দেয়। জানা যায়, তার প্রকৃত নাম শাহীন এবং কর্মস্থল বগুড়া সেনানিবাস। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। তবে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সবশেষ, শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশের সহায়তায় হারানো ক্যামেরা লেন্স উদ্ধার করেন। আনাস তখন চুরির কথা স্বীকার করেন। এরপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ বিষেয় গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী হান্নান রাহিম বলেন, আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে উভয় পক্ষকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাই। তবে ভিডিও ভাইরালের পর উত্তেজনা বাড়ে। শেষে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অভিযুক্তদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মু. ওসমান গনি বলেন, চুরির সঙ্গে যুক্ত কাউকে আমরা সমর্থন করি না। আনাস তার অপরাধ স্বীকার করেছে। আমরা তার স্থায়ী বহিষ্কার চাই। একইসঙ্গে ক্যাম্পাস থেকে মাদক নির্মূলের দাবিও জানাচ্ছি।
শামিম ভূঁইয়াকে কেন আটক করা হয়নি জানতে চাইলে শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, আনাসের দেওয়া তথ্য থেকে লেন্স উদ্ধার হয়েছে। তবে শামিমের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। তার ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি তোলা হবে। ২৮ তারিখ সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, বাদী পক্ষ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত আনাস থানায় হেফাজতে রয়েছে।
রিফাত/এটিআর

