ছবি : বাংলাদেশের খবর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেনকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পিটিয়ে পুলিশের নিকট সোপর্দ করার প্রতিবাদে ক্লাস পরীক্ষা বয়কট করে বিভাগের গেটে দিয়েছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, রোববার (২৭ এপ্রিল) স্নাতকোত্তরের সনদ তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন আকরাম। সেখান থেকে তাকে আটক করেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আকরামকে মারধরের পর পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রথম বর্ষে থাকার সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর দলবদ্ধ ভাবে হামলা চালায় আকরাম ও তার বন্ধুরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আকরাম বলেন, প্রথম বর্ষে ছাত্রলীগের বড় ভাইয়েরা মিছিলে নিয়ে যেত। কিন্তু এরপরে আমি আর কখনো ছাত্রলীগ করিনি। আমার কোনো পদ-পদব কিছুই নেই। আমি জুলাই আন্দোলনেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছি।
এদিকে এ ঘটনায় বিভাগে তালা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আকরামকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় অবস্থান করছেন তারা।
শিক্ষার্থী শাকিল ফকির বলেন, ‘আমাদের বিভাগের ১২ ব্যাচের আকরাম ভাইকে ট্যাগিং দিয়ে অন্যায় ভাবে থানায় দিয়েছে ছাত্রদল। আমরা যখন তাকে ছাড়াতে থানায় আসি তখন আমাদের বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অথবা উপাচার্য না বললে আকরাম ভাইকে ছাড়া হবে না। এর প্রতিবাদে আমরা বিভাগে তালা দিয়েছি। আমরা তিনজন শিক্ষক সহ এখন থানায় অবস্থান করছি।’
শিক্ষার্থী ফরহাদ বলেন, ‘আকরাম ভাই খুবই মেধাবী মানুষ। বিভিন্ন জার্নালে তার লেখাও প্রকাশিত হয়েছে। সনদ তুলতে এলে তাকে মারধর করে থানায় দেওয়া হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিভাগের অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, ‘হ্যাঁ, এখনো তালা দেওয়া আছে।’
এ বিষয়ে জানতে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাসকে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।
জেএন/এমআই

