নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়ায় রাজধানীর কোতয়ালি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
জানা যায়, ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেনকে আটক করে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এরপর আটক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করে তারা। পরে প্রক্টরিয়াল বডি তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে আকরামকে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পিটিয়ে পুলিশে দেওয়ার প্রতিবাদে ক্লাস পরীক্ষা বয়কট করে বিভাগের গেটে তালা দেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা বারোটার দিকে কোতয়ালি থানায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভাগের ১০০ জনের ৫১ জন গণস্বাক্ষরের মুচলেকা দিয়ে আরমানকে ছাড়িয়ে নেন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, গতকাল ছাত্রলীগের দুইজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা আটককৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু পুলিশ কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের অবহেলায় আকরামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিগত সময়ে আমার ভাইদের ওপর হামলা করা আকরামকে ছেড়ে দেওয়ার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। আমরা চাই, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আকরামকে থানায় হাজির করা হোক।
কোতয়ালি থানার উপ-কমিশনার (এসি) ফজলুল হক বলেন, গতকাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুইজনকে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রক্টরিয়াল বডির হস্তান্তর করে। তাদের মধ্যে আকরাম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায় ছিল। ছাত্রলীগের সাথে বা কোনো পদেও তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০০ জন তাকে ছাড়াতে আসে। উপাচার্য ও প্রক্টরের রেফারেন্স দিয়ে তাদের ৩ জন শিক্ষকসহ ৫১ জন গণস্বাক্ষরের মুচলেকা দিয়ে আকরামকে নিয়ে যান।
জেএন/এমএইচএস

