Logo

ক্যাম্পাস

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘চাকরি সংস্কার কমিশন’ গঠনের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের

Icon

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৫, ২১:৩৯

অ
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘চাকরি সংস্কার কমিশন’ গঠনের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের

পিএসসির অধীনে বিসিএস পরীক্ষাসহ সকল চাকরিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে ১৩ দফা উত্থাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পিএসসির প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং আমলাদের সমন্বয়ে একটি ‘চাকরি সংস্কার কমিশন’ গঠনের আল্টিমেটাম দিয়েছে তারা।

সোমবার ((২৮ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে টেলিভিশন, ফিল্ম এবং ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী জালাল আহমদ লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল মাহমুদ প্রিন্স, শামীম মিয়া প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে জালাল আহমদ বলেন, ‘আমরা ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের আগেই পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, শুধুমাত্র ‘কোটা’ পদ্ধতি সংস্কার বা বাতিল করলেই সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত হবে না। নিয়োগ পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। গোঁজামিল ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হলে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে আন্দোলনের মুখে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করা হলেও পরের বছর থেকে অদৃশ্যভাবে কোটা বহাল ছিল। ভাইভায় ২০০ নম্বরের মধ্যে কোটাধারী প্রার্থীদের ১৮০ নম্বর দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। তাই মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আমরা পিএসসির চেয়ারম্যানের কাছে যৌক্তিক কিছু দাবি জানিয়েছিলাম। আমাদের ৯ দফার মধ্যে কিছু দাবির বাস্তবায়ন হয়েছে—যেমন ভাইভা নম্বর কমানো, আবেদন ফি কমানো ইত্যাদি। তবে বাকি দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় আমরা আবার আন্দোলনে নেমেছি।’

তিনি জানান, চারদিন অনশনের পর গতকাল শাহবাগ মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছি। সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হলেও আমরা এটিকে আন্দোলন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা মনে করি। তাই আমরা নতুন করে ১৩ দফা দাবি জানাচ্ছি।

১৩ দফা দাবি হলো 

১. সকল চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে পিএসসির অধীনে নিতে হবে। প্রয়োজনে একাধিক পিএসসি গঠন করতে হবে।

২. বিসিএসসহ সকল চাকরিতে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার নম্বরসহ ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।

৩. নন-ক্যাডার বিধি-২০২৩ এমনভাবে সংস্কার করতে হবে যাতে বিসিএস পরীক্ষায় প্রিলি ও লিখিত পাস করে ভাইভায় উত্তীর্ণ হলে সবাই সরকারি বা আধা-সরকারি কোনো না কোনো চাকরি পায়।

৪. একই দিনে একই গ্রেডের একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা যাতে না হয়, সেজন্য পিএসসি চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।

৫. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা এবং বিজ্ঞান গ্রুপের বিষয়ভিত্তিক ভারসাম্য বজায় রেখে মানসম্মত প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে।

৬. এক বছরের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মতো প্রিলিতে উত্তীর্ণ হলে দুইবার লিখিত পরীক্ষার এবং লিখিত পাস করলে দুইবার ভাইভার সুযোগ দিতে হবে।

৭. প্যানেল বা ওয়েটিং লিস্টের ব্যবস্থা করতে হবে। মাইগ্রেশনের মাধ্যমে প্যানেল থেকে নিয়োগ দিলে পদ খালি থাকবে না। বিসিএসে উত্তীর্ণ দক্ষ জনশক্তি থেকে গেজেটের আগে পর্যন্ত যত পদ শূন্য থাকবে, তা পূরণ করতে হবে।

৮. একই ব্যক্তি একই ক্যাডারে একাধিকবার সুপারিশ করা যাবে না।

৯. বিসিএস প্রিলি ও লিখিত পাসের পর ভাইভার আগে ক্যাডার পছন্দ পরিবর্তনের সুযোগ রাখতে হবে।

১০. প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরপত্র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

১১. লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দিতে হবে।

১২. ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে।

১৩. পিএসসি সংস্কার করতে হবে সরকারের উদ্যোগে। পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি গঠন এবং গণশুনানির মাধ্যমে সদস্য নিয়োগ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জালাল আহমদ বলেন, শুধু বিসিএস নয়, সকল চাকরি পরীক্ষার নম্বরসহ ফলাফল প্রকাশ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চাকরি সংস্কার কমিশন গঠন করা না হলে আবারও নতুন করে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এমএমআই/এমএইচএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন