Logo

ক্যাম্পাস

আন্দোলনের নামে জবির মেডিক্যাল সেন্টার দখল

Icon

জবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৫, ১৮:৫৮

অ
আন্দোলনের নামে জবির মেডিক্যাল সেন্টার দখল

আবাসন ভাতা, হল নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এরই অংশ হিসেবে গত ২০ এপ্রিল কাথা-বালিশ নিয়ে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের শের আলীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। ওই দিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের একটি কক্ষে অবস্থান শুরু করেন তারা। এরপর তিন সপ্তাহ পার হলেও মেডিক্যাল সেন্টারের ওই কক্ষ ছাড়েননি তারা।

মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মেডিক্যাল সেন্টারের ওই কক্ষে অবস্থান করছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখানে টানানো হয়েছে মশারি। এ ছাড়া কাপড় শুকানোর জন্য দড়ি বেঁধেছেন তারা।

এর আগে মেডিক্যালের ওই কক্ষের একটি পাত্রে সিগারেটের ফিল্টার ও ছাই রাখা একটি ভিডিও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে মেডিক্যালে অবস্থানরত অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সোহান বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মেডিক্যাল সেন্টার ছাড়বো না।’ মেডিক্যাল সেন্টারে সিগারেটের ফিল্টার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি জানি না।’

অবস্থানরত শিক্ষার্থী শের আলী বলেন, আমরা মেডিক্যাল সেন্টার থেকে খুব তাড়াতাড়ি চলে যাব। আন্দোলনের অংশ হিসেবে এখানে ছিলাম। এখন কাথা-বালিশ কর্মসূচি নেই, এজন্য ২-৩ দিনের মধ্যে মেডিকেল সেন্টার ছেড়ে দেব আমরা।

শের আলী আরও বলেন, মেডিকেলের আমরা যে রুমে আছি এখানে খুব বেশি রোগী আসে না। মোডিকেল সেন্টারের যেখানে ডাক্তার বসেন, ওখানে দুইটি বেড আছে ওখান থেকে জরুরি চিকিৎসা নেয় শিক্ষার্থীরা।

মেডিক্যাল সেন্টারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ধুমপানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে এমন কিছু দেখিনি। সিসি ক্যামেরা চেক করলেই সবটা জানা যাবে।’

দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। মো. মামুন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আন্দোলনের অনেক ভাষা রয়েছে, এভাবে মেডিক্যাল ওয়ার্ড দখল করে আন্দোলন চলতে পারে না। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছে। সুতরাং মেডিকেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের উচিত এ জায়গা ছেড়ে দেওয়া ‘

এ বিষয়ে সেন্টারের উপ-চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতা শবনম বলেন, ‘তারা বলছেন তারা আন্দোলনের অংশ হিসেবে অবস্থান করছেন। ফল না পাওয়া পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম, তারা এসে কথা বলেছিলেন, তবুও তারা ওয়ার্ড ছেড়ে যাননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটি ইমারজেন্সি বেড আছে, যেখানে হয়তো কোনো জরুরি রোগী এলে আমরা সেবা দিতে পারি। কিন্তু যদি এমন কোনো শিক্ষার্থী বা একাধিক শিক্ষার্থী আসেন যাদের ওয়ার্ড প্রয়োজন, তখন বিষয়টি সমস্যার হয়ে দাঁড়াবে।’

জেএন/বিএইচ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন